শিক্ষকরা আবার রাজপথে ॥ ২৪ হাজার স্কুলে তালা দেওয়ার হুমকি

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ শিক্ষকরা আবারও মাঠে নেমেছে। প্রতিবার সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে দেখা যায় শিক্ষকরা মাঠে নামেন। এর একটি কারণ হলো, শিক্ষরা দেশের সুনাগরিক গড়ার কারিগর হলেও সারা বছর তাদের দিকে কোন সরকার তাকাই না। তারা ন্যূনতম ভাতাটিও সঠিকভাবে পান না। আর দ্বিতীয়ত: রাজনৈতিক মাঠ গরম রাখতে বা সরকারকে চাপের মধ্যে ফেলতে বিরোধী দল শিক্ষকদের নিয়ে রাজনীতি করেন এমন অভিযোগও রয়েছে।

স্মারকলিপি দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে রওনা দিতে গেলে ১৫ মে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেধড়ক পিটিয়েছে পুলিশ। বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও জলকামানের গরম পানিতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ শিক্ষক। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। আন্দোলনরত শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, তারা পেটপুরে না খেয়ে তাদের স্মারকলিপি দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। কিন্তু পুলিশ যাওয়ার পথে আগে থেকে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। এই ব্যারিকেড উপেক্ষা করে কিছু শিক্ষক শাহবাগ মূল সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে ৩০ শিক্ষক আহত হন। এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ২০ শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। শিক্ষক নেতারা বলেছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে সারাদশে ২৪ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলে তালা ঝুলিয়ে প্রয়োজনে শহীদ মিনারে আবারও রাতযাপন করবেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আজ ১৬ মে বিকাল ৩টার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া পাওয়া না গেলে কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা। একই সঙ্গে এই বাজেটে তাদের জন্য বরাদ্দ না দিলে আমরণ অনশন ও ধর্মঘটের ডাক দিয়ে শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ে মাঠে থাকবেন। এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতাদের মধ্য থেকে ঐক্য পরিষদের মনসুর আলীসহ পুলিশ ১৫ থেকে ২০ জনকে আটক করেছে বলে অভিযোগ শিক্ষক নেতাদের। তারা বলছেন, পুলিশের জলকামানের ছোড়া গরম পানি নাকে ও কানে ঢুকে নেত্রকোনার শিক্ষক নেতা ইদ্রিস আলী গুরুতর অসুস্থ হয়েই পড়েছেন।
জানা গেছে, চাকরি সরকারিকরণের দাবিতে স্মারকলিপি দিতে শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে ১৫ মে দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওনা হলে পুলিশি ব্যারিকেডে আটকা পড়েন। এ সময় ব্যারিকেড উপেক্ষা করে আন্দোলরত শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ জানায়, শিক্ষদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে তারা বাধা দিতে চায়নি। কিন্তু শাহবাগে মূল সড়কে এসে অবস্থান নিয়ে শিক্ষকদের একটি অংশ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির সৃষ্টি করে এবং পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে কিছু শিক্ষক শৃংখলা ভঙ্গ করে। ফলে পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। শিক্ষকরা জানান, পুলিশের লাঠির আঘাতে অন্তত ৩০ শিক্ষক আহত হন। এর মধ্যে ৬ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তারা হলেন- নরসিংদীর শহীদ মিয়া, নেত্রকোনার ইদ্রীস আলী, যাশোরের মনসুর আলী, সিরাজগঞ্জের কেএম মেজবাউর রহমান, নাটোরের মনসুর আলী ও দিনাজপুরের মমিনুল ইসলাম। এদের মধ্যে ইদ্রীস আলীকে পরে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, ২৪ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য ঢাকায় সমবেত হয়েছেন। মোট ৯৬ হাজার শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তাদের চাকরি সরকারিকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শিক্ষকরা সমবেত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের স্মারকলিপি প্রদানের জন্য শাহবাগে মূল সড়কের দিকে আসতে থাকেন। পুলিশের রমনা অঞ্চলের অতিরিক্তি উপকমিশনার মোঃ আনোয়ার হোসেন শিক্ষকদের বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখানে কোন প্রতিনিধি আসবেন না। আপনাদের কয়েকজন প্রতিনিধি স্মারকলিপি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা চাইলে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এখনই যোগাযোগ করা হবে।

এ ব্যাপারে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্যপরিষদের মহাসচিব আবদুর রহমান বাচ্চু মাইক হাতে নিয়ে সাফ জানিয়ে দেন, ক’জন প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর প্রস্তাবে শিক্ষকরা রাজি নন। তারা সবাই শাহবাগ থেকে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে যেতে চান। প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দাবি আদায় না হলে আজ থেকে সারাদেশের ২৪ হাজার স্কুলে তালা লাগানো হবে।

উপরোক্ত বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, যদি শুধু দাবিই শিক্ষকদের বিষয় হয় তাহলে কয়েকজন প্রতিনিধিকে কেনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর কথা শোনা হলো না। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিছিল করে যাওয়ার বিধান নেই।

শিক্ষকরা দেশের সুনাগরিক গড়ার কারিগর। তাদের সুযোগ সুবিধা দেখার দায়িত্ব সরকারের। তবে বার বার সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু তাদের দাবি-দাবা নিয়ে শুধুই আলোচনা আর আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আমরা মনে করি শিক্ষকদের দাবি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। এই দাবির প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি দিতে হবে। তবে পাশাপাশি শিক্ষকদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে কোন রাজনৈতিক প্রভাব এই আন্দোলনে না লাগে। কারণ রাজনৈতিক প্রভাব লাগলে তা কারো জন্যই সুখবর বয়ে আনবে না।

Advertisements
Loading...