The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারি: এখন শুধুই অপেক্ষার পালা

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে জেলখানায় পৌঁছেছে। জেল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এখন শুধুই অপেক্ষার পালা। যদিও কাদের মোল্লার আইনজীবি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘রিভিউর আবেদনের শুনানির সুযোগ না দিয়ে ফাঁসি দেয়া হলে তা হবে একটি জুডিশিয়াল কিলিং।’

Quader Molla-1

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুপরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল রবিবার বিকালে লাল কাপড়ে মোড়ানো এই পরোয়ানা কারাগার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠিয়েছে।

এদিকে কারাগার কর্তৃপক্ষ কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। তাকে রিভিউর আবেদনের সুযোগ দেয়া না হলে ১৪ ডিসেম্বরের পর যেকোন মুহূর্তে ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে জেল কর্তৃপক্ষ।

Quader Molla-2

অপরদিকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এমকে রহমান জানিয়েছেন, রিভিউর আবেদনের কোন সুযোগ নেই। তবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন। জেল কোডের ৯৯১ এর বিধান অনুযায়ী প্রাণভিক্ষার জন্য ৭ দিনের সময় পাবেন কাদের মোল্লা। ইতিপূর্বে কাদের মোল্লার বড় ছেলে হাসান জামিল জানিয়েছিলেন, তার পিতা প্রাণভিক্ষার কোন আবেদন করবেন না। প্রাণ ভিক্ষা না চাইলেও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রাণভিক্ষার জন্য নির্ধারিত ৭ দিনের আগে ফাঁসি কার্যকর করা যাবে না। কারণ ৬ দিনের দিনওতো তিনি প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। সেই হিসাবে ১৪ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটের পর যেকোন মুহূর্তে ফাঁসি কার্যকর করা যাবে।

অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ‘রিভিউর আবেদনের শুনানির সুযোগ না দিয়ে ফাঁসি দেয়া হলে তা হবে একটি জুডিশিয়াল কিলিং। দেশে জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে তারা আশংকা প্রকাশ করেছেন।’

আইনে কি আছে

প্রচলিত আইনে ফৌজদারি কার্যবিধি ও জেল কোডের বিধান অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর করা হয়ে থাকে। জেল কোডের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য আসামিকে ৭ দিনের সময় দেয়া হয়। এই ৭ দিন সময় অতিবাহিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি যদি ফাঁসি কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ বা দণ্ড মওকুফ বা হরাস না করেন তাহলে কারা কর্তৃপক্ষকে ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হয়। কিন্তু প্রচলিত ফৌজদারি আইন ও জেল কোডের বিধান যুদ্ধাপরাধের দণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কেননা আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ ট্রাইব্যুনালস (আইন) ১৯৭৩ একটি বিশেষ আইন। প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ আইনের চেয়ে বিশেষ আইন প্রাধান্য পাবে। ওই আইনের ২০ (৩) ধারায় বলা আছে, ‘এই আইনের অধীন প্রদত্ত দণ্ড কার্যকর হইবে সরকারের আদেশাবলী অনুযায়ী।’ অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন যেদিনই নাকচ করবেন সেদিন থেকে যেকোন দিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে যেদিন রায়ের কপি জেল কর্তৃপক্ষের হস্তগত হবে সেদিন থেকে ৭ দিন পর অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর ফাঁসি কার্যকর করা যাবে। কিন্তু কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। আসামি পক্ষ দাবি করছে, সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিভিউ পিটিশন দাখিলের সুযোগ কাদের মোল্লার রয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদের যেকোন আইনের বিধি-বিধানাবলী সাপেক্ষে এবং আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রণীত যেকোন বিধিসাপেক্ষে আপিল বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা উক্ত বিভাগের থাকিবে।’

Jail

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত ৫ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডাদেশ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। গতকাল ৮ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ রায়ের অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে পাঠায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার দফতর। ট্রাইব্যুনাল ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজি প্রিজন, ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কনডেম প্রিজনার (আসামি) ও রাষ্ট্রপক্ষকে এ অনুলিপি দেয়া হয়। আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরেই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সদস্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও মো. শাহিনূর ইসলাম মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

bn_BDBengali