The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

জামায়াতকে নিয়ে এখনও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছে বিএনপি!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ সামপ্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে বিএনপি। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের ত্যাগের বিষয় নিয়ে বেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছে বিএনপি।


Jamat &..

জামায়াতকে বিএনপি ছাড়তে চাইলেও আসলে জামায়াত বিএনপিকে ছাড়বে কিনা তা নিয়ে বেশ সংশয় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এমনটাই ধারণা করছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, জামায়াতকে জোটে রাখা একটি রাজনৈতিক কৌশল। কি ধরনের কৌশল এক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে তা অবশ্য তিনি খোলাসা করে কিছু বলেননি। আবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জামায়াতে ইসলামীও বলেছে, বিএনপির এই বক্তব্যও একটি কৌশল।

আর তাই সবদিক বিবেচনা করলে যেটি পরিষ্কার হয় তাহলো, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি কিভাবে সমাধা হবে তা ভাববার বিষয়।

জামায়াত নিয়ে খোদ বিএনপির মধ্যেও নানা মত রয়েছে। কেও চান জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দেওয়া হোক। আবার কেও চান জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দেয়ার বিষয়টি বিএনপির জন্য রাজনৈতিক একটি চ্যালেঞ্জ হবে।

অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছে বিএনপি এখন পড়েছে উভয় সংকটে। সেই ‘গলায় কাটা ফোটা’র মতো অবস্থা হয়েছে। এখন গিলতে গেলেও ব্যাথা লাগছে আবার ‘উগলানো’ও যাচ্ছে না।

রাজধানীতে সোমবারের সমাবেশেও এমন মনোভাব দেখা গেলো বিএনপির মধ্যে। জামায়াত ইসলামীর অনুপস্থিতির বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন বিএনপির দুই শীর্ষনেতা। একজন বললেন, নিরাপত্তার কারণে জামায়াত যোগ দেয়নি। আরেকজন বললেন তাদের অনুপস্থিতিতে বিএনপি স্বস্তিতে রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ওসমান ফারুক এসব বক্তব্য দেন। মঙ্গলবার ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন তাদের এই বক্তব্য প্রচার করে।

গত ১৫ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে গণসমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২০ জানুয়ারির এ কর্মসূচি ১৮ দলের বলে উল্লেখ করা হয়। পরদিন পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ প্রশাসন থেকে অনুমতি পাওয়ার পর এটি ১৮ দলের কর্মসূচি নয় বলে উল্লেখ করা হয়। এমনকি জানানো হয় ওই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী থাকবে না।

এমন অবস্থা দেখে বোঝা যায়, বিএনপি বেশ আন্তর্জাতিক বন্ধুদের কথার গুরুত্ব দিচ্ছে। আর তাই সমাবেশকে দলীয় বিবেচনায় এনে জামায়াতকে সরিয়ে রাখা হয়। তবে এতোদিনের জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেয়া এই মুহূর্তে বিএনপি’র জন্য বেশ কঠিন। তাই জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি রয়েছে দ্বিধা ও দ্বন্দ্বে। বিষয়গুলো পরিষ্কার হতে হয়তো আরও সময় লাগবে। এখন শুধুই অপেক্ষার পালা।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...