The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বাবা-মায়ের কড়া অনুশাসনগুলো আমাদের জন্য ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক?

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ বাবা মায়ের কড়া অনুশাসনের শিকার হয়নি এমন মানুষ আমাদের দেশে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বাবা মায়ের এই কড়া অনুশাসন শুধু যে আমাদের দেশেই হয়ে থাকে তা কিন্তু নয়। আমাদের দেশে বাবা মায়ের এই অনুশাসনটি তুলনামুলক অন্য দেশের চেয়ে বেশি। কখনো কখনো এই অনুশাসন মানসিক চাপের কারণ হয়ে থাকে।


man_scolding_daughter_Depositphotos_11294869_xs-1

পাঠকদের জন্য এই কড়া অনুশাসনের কিছু রূপ তুলে ধরা হলো এই জন্য যে, এই ধরনের অনুশাসন আসলে কতটা প্রয়োজনীয় তা বিবেচনা করার জন্য। তুলনামূলক এই অনুশাসনগুলো কৈশোর এবং তারুণ্যই বেশি হয়ে থাকে।

১. অতিরিক্ত ঘুমাচ্ছে

তরুণদের মধ্যে একটি ঝোঁক রয়েছে রাতজাগার। রাত জেগে তারা গল্পের বই পড়া, মুভি দেখা কিংবা ফেসবুকিং করে থাকে। ফলে রাতে ঘুমাতে প্রায় ক্ষেত্রেই দেরি হয়ে যায়। ফলে সকালের ঘুমটি হয়ে থাকে দীর্ঘায়িত। কিন্তু পিতামাতার চোখে এটি একটি বাজে অভ্যাস। তারা বিশ্বাস করে, early to rise and early to bed. make you healthy and wise. ফলে অনেকেরই এই অভ্যাসের কারণে কড়া কথা শুনতে হয়। মজার বিষয়টি হলো সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রাতজাগা মানুষগুলোই বেশি বুদ্ধিমান।

২. পাশের বাসার ভদ্র ছেলে

আপনার চারপাশে তিনটি ছেলে থাকলে যে ছেলেটির মা-বাবা বেশি অনুশাসনে রাখে সেই সবচেয়ে ভালো ছেলে। আপনার বাব মা তার সাথেই আপনাকে মিশতে দেবে। আমাদের দেশে কড়া অনুশাসন আর ভদ্র ছেলে একটি পারস্পরিক নাম। কড়া অনুশাসন কখনো ভালো সত্তা তৈরি করে না। আবার বাবা মায়ের কড়া অনুশাসনে না থাকলে ভালো ছেলে হবে না তাও ঠিক ধারণা নয়। একটি ভালো নৈতিক চরিত্র একটি মানুষের অন্তরাত্মার বিষয়।

৩. অবশ্যই সময়মত ঘরে আসতে হবে

আমাদের দেশের বাবা-মায়েদের সান্ধ্য আইন বলে একটি বিষয় রয়েছে। সন্ধার মাগরিবের আযানের সাথে সাথে ঘরে চলে আসতে হবে। মাগরিবের আযানের পর যে সব ছেলে বাইরে থাকে তারা বাজে ছেলে। তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। এই হলো কড়া অনুশাসনের আরেকটি উদাহরণ।

Asian-parents-are-conservative-and-strict

৪. চুল ঠিক রাখা আর পপ সংস্কৃতি

মাথার হেয়ার কাটিং এ ভিন্নতা এনেছেন তো বাবার রক্তচক্ষুর সামনে আপনাকে পড়তে হবে। অনেক প্রশ্নবানে আপনি হবেন জর্জরিত। পাশের বাসার ওই ছেলেটিকে দেখেছো কি ভদ্রভাবে চলে- শুনতে হবে এমন হাজারো উদাহরণ। আমাদের দেশের বাবা মায়েরা চুলের কাটের ক্ষেত্রে একটি নামই বুঝেন আর্মিদের মতো ছোট করে ফেল। যুগের সাথে সাথে এই ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আসতে পারে এটি বুঝতে তারা নারাজ। আর আপনি যদি পপ, কিংবা রক ব্যান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন তাহলে আপনার বাবা-মা ধরেই নিবে আপনার জীবন বরবাদ হয়ে গিয়েছে।

৫. প্রেম

একটা বয়সে সকল ছেলে মেয়ের মধ্যেই প্রেমের দোলা স্পন্দিত হয়। তারা বিপরীত মানুষটির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবে। এটাই স্বাভাবিক। আপনার মনের দরজায় কিংবা জানালায় যদি এমন কেও উঁকি দিয়ে থাকে তবে সেই দরজা আর জানালা এখনি বন্ধ করে দিন। কেননা আপনার বাবা-মায়ের চোখে এমনকি আমাদের সমাজের চোখেও এটি রীতিমত একটি অপরাধ। তারা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। প্রেম কিংবা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি এই আকর্ষণ একটি প্রাকৃতিক বিষয়।

৬. টাকা

একটা কিছু কিনতে চাচ্ছেন, ধরা যাক একটি বই কিংবা গান শোনার যন্ত্র অথবা মোবাইল যা আপনার খুব পছন্দ হয়েছে। ঘর থেকে টাকা চাইলেই আপনার জন্য কোর্ট বসে যাবে। কেন, কীজন্য কিংবা কি দরকার এমন হাজারো প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন আপনি। চাইলেই আপনি কোন কিছু কিনতে পারেন না, তার জন্য আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে।

৭. ইনভেস্টিগেশন

বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন কিংবা তাদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। তখনি আপনার ফোন বেজে উঠবে। কোথায় আছো, কি করছো, এখনি ঘরে আসো এমন অনেক কথা শুনতে হবে আপনাকে। বাইরে আড্ডা দেওয়া কিংবা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া এই বিষয়গুলো আমাদের বাবা-মায়ের চোখে বেশ নেতিবাচক কাজ।

কিন্তু সত্যিকার অর্থে বাবা-মায়ের এই কড়া অনুশাসনের জন্য দায়ী আমাদের সমাজ এবং আইন ব্যবস্থা। অনেক সামাজিক দুর্ঘটনা তাদেরকে চিন্তিত করে, তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত করে বলেই তারা এতটা কড়া অনুশাসন করে থাকেন।

তথ্যসূত্রঃ বাজফিড

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...