গোলকধাঁধাময় মহাবিশ্বঃ আমরা কি একই সুতায় বন্দী?

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ ক্লাসিক্যাল পদার্থবিদ্যার সূত্রের ভেতর দিয়ে আমাদের পৃথিবী ভালোই চলছিল। ঠিক তখনি আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সুত্র পুরো মহাজগতের ধারণাই পাল্টে দেন। আমাদেরকে মহাবিশ্ব নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করতে প্রভাবিত করে। কেননা চিরায়ত জ্ঞানে স্থান-কাল বিষয়টি সূত্রের তাত্ত্বিক বিবেচনায় কোন বাঁধা হিসেবে ছিল না। কিন্তু আইনস্টাইন এসে এখানে দ্বিধাবিভক্ত করে ফেললেন। সেই দ্বিধাবিভক্তময় মহাবিশ্বের একটি তত্ত্ব হলো সুপার স্ট্রিং থিওরি বা মহাজাগতিক সুতা তত্ত্ব।


10dimensions

পেছন ফিরে দেখাঃ

আইনস্টাইনের আগ পর্যন্ত আমাদের ধারণাই ছিল না যে, মহাজগতের মধ্যে কোন একটি বিষয় নিয়ে তোমাকে ভাবতে হলে অবশ্যই স্থান ও কাল এবং মাত্রাকে বিবেচনা করতে হবে। সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব মহাবিশ্ব এবং পদার্থবিদ্যার ধারণা এতটাই পাল্টে দিলো যে প্রথমদিকে পুরো বিষয়টা জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেললো। এই জগাখিচুড়ি ভাবটা দূর করতে বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন কিছু ধারণা দিতে শুরু করলেন। আর এই সকল ধারণা থেকেই উৎপত্তি ঘটলো কোয়ান্টাম ফিজিক্সের। শুরু হলো ক্লাসিক্যাল ফিজিক্স আর কোয়ান্টাম ফিজিক্সের দ্বন্দ্ব। ক্লাসিক্যাল ফিজিক্স যেখানে সবকিছুকে সূত্রের বাঁধনে বাঁধতে চায় সেখানে কোয়ান্টাম ফিজিক্স বলছে আপনি সবকিছুকে সূত্রের বাধনে বাঁধতে পারবেন না। তাই তারা যেখানে সমাধান খুজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে আনলেন সিঙ্গুলারিটি ধারণা। গত শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব বজায় ছিল। তারপর বিজ্ঞানিরা ভাবলেন দন্দের অবসান করবেন। সেটি কিভাবে চিরায়ত পদার্থবিদ্যা আর কোয়ান্টাম ফিজিক্সকে একীভূত করবেন। সবকিছু একই সুত্রে আনবেন, সেটি হবে গ্র্যান্ড ইউনিফাইড থিওরি। এটিই হলো দি থিওরি অব এভরিথিং বা সবকিছুর তত্ত্ব। তাই সারাবিশ্বের সকল বিজ্ঞানীরা চারটি মৌলিক বলকে এক করার সংগ্রামে নামলেন। মহাকর্ষ বল, তড়িৎচুম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লিয় বলকে এক করা গেল। কিন্তু সমস্যা বাধলো সবল নিউক্লীয় বলকে একীভূত করা নিয়ে একে কোনভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিলো না। আর তখনি বিজ্ঞানীরা সুপারস্ট্রিং থিওরির ধারণাটি পৃথিবীর সামনে আনলেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুপারস্ট্রিং এই ধারণাটি আসলে নতুন কিছু নয়। আজ থেকে হাজার বছর আগে গ্রীসে বাস করতেন একজন মহামনীষী তিনি হলে পীথাগোরাস। মহাবিশ্ব যে একটি সুতায় বন্দী এই কথাটি তিনিই প্রথম বলেছিলেন।

Quantum-Gravity

সুপারস্ট্রিং থিওরি কি?

স্ট্রিং মানে সুতা আর সুপারস্ট্রিং হলো মহাজাগতিক সুতা। আমাদের মহাজগতটি একটি সুতায় বাঁধা। এই সুতাটি আমাদের জগতের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। এটিই হলো জগতের একমাত্র মৌলিক বস্তু। সকল বল এরসাথে প্যাঁচানো অবস্থায় রয়েছে। ১৯৬০ সালে গ্র্যান্ড ইউনিফাইড থিওরি তৈরি করতে গিয়ে একদল বিজ্ঞানী স্ট্রিং থিওরির দিকে ঝুঁকে পড়েন। তারা হলেন জাপানের ইয়োইচিরো নামবু, ডেনমার্কের হোল্গার বেখ, যুক্তরাষ্ট্রের লেনার্ড সাসকিন্ড এবং জন হেনরি শোয়ার্জ। তবে এই ধারণাটির পেছনে প্রথমে জ্বালানি যুগিয়েছিলেন জার্মানির থিওডোর কালুতসা। তিনি প্রথম বলেন, আমাদের মহাবিশ্বকে চারমাত্রিক কেন হিসেব করতে হবে। আমরা আরো বেশি মাত্রা কেন চিন্তা করি না। ব্যাপারটা একবার আপনি চিন্তা করুন আমরা তিনটি মাত্রার পর আর মাত্রাই বুঝতে পারি না সেখানে আরো বেশি মাত্রা কিভাবে বুঝবেন? এই ধারণাটি প্রকাশের পর প্রথমদিকে বিজ্ঞানীরা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, চারমাত্রার পর বাকি মাত্রাগুলো কোথায় থাকে। সত্যিকার অর্থে বাকী মাত্রাগুলো স্ট্রিঙের সাথে প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে বলে আমরা তা দেখতে পাই না। এই হলো আইসোম্যাট্রিক জগতের সুপারস্ট্রিং থিওরি। সুপারস্ট্রিং থিওরিতে নিউটনের মহাকর্ষ বল প্রযোজ্য হবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে জগতটি আমরা যেভাবে প্রতিসাম্য দেখি এটি সে রকম নয়। এটি হবে মহাপ্রতিসাম্য। আর সবচেয়ে মজার বিষয়টি হলো এখানে জগতের মাত্রা হবে কমপক্ষে ১০টি। অর্থাৎ আপনি চারমাত্রার জগত থেকে এটিকে বুঝতে তো দুরের কথা দেখতেই পাবেন না।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...