ব্রেকিং নিউজ: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে আবদুস সুবহানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মাওলানা আবদুস সুবহানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্নাল-২। আজ বুধবার আদালত এই রায় দেন। এই মামলাটি ডিসেম্বর হতে অপেক্ষমান ছিল।

Subhan verdict

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের নায়েবে আমির আবদুস সুবহানকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। আজ বুধবার মামলার এই রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা ৯টি অভিযোগের মধ্যে ৬টি প্রমাণিত হয় ও এরমধ্যে ১, ৩ ও ৬নং অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

আজ বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যর বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। অপর ২ সদস্য হলেন- বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম। বেলা সোয়া ১১টার দিকে জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে ১৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় সংক্ষিপ্ত আকারে পাঠ করে শোনানো হয়।

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে সুবহানের পক্ষে এডভোকেট তাজুল ইসলাম, শাহজাহান কবির, শিশির মনির, আসাদ উদ্দিন ও সুবহানের ছেলে নেছার আহমদ নান্নু এবং মুজাহিদুল উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন, তুরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আলী ও সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নী উপস্থিত ছিলেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে আব্দুস সুবহানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ট্রাইব্যুনাল আজকের এই তারিখ নির্ধারণ করেন। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল হতে আবদুস সুবহানকে আটক করে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এরপর তাকে ২০০৩ সালে পাবনা থানায় দায়ের করা এক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

সোবহানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

অভিযোগ ১ :

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে কয়লাডিপো হতে মোয়াজ্জেম হোসেন ও পরের দিন ১৮ এপ্রিল ঈশ্বরদী জামে মসজিদে আশ্রয় নেওয়া মোতালেব খানকে আবদুস সুবহানের নির্দেশে অপহরণ ও হত্যা।

অভিযোগ ২ :

১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল ঈশ্বরদীর পাকশী যুক্তিতলা গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে আবদুস সুবহানের নেতৃত্বে লুটপাট ও হামলা। এই ঘটনায় ৮ জন নিহতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ৩ :

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে আলাউদ্দিন এবং রিয়াজউদ্দিন মেম্বারের বাড়ি লুট। এ ছাড়া জয়নুদ্দিন, নুরু, আনসার কমান্ডারসহ অনেককে অপরহরণ ও নির্যাতন। এ অভিযোগে ২ জন নিহতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ৪:

আবদুস সুবহানের নেতৃত্বে ঈশ্বরদীর সাহাপুর গ্রামে পাকিস্তান আর্মির অপারেশন পরিচালনা। এ সময় বিভিন্ন বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে গণহত্যা পরিচালনা করা হয়। এই ঘটনায় ৭ জন নিহতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ৫:

আবদুস সুবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তান আর্মি পাবনা সদরের কুলনিয়া ও দোগাছি গ্রামে অভিযান চালায়। এই সময় পাকিস্তান আর্মি স্বাধীনতাপন্থী অনেককে গুলি করে হত্যা করে। বাড়িঘরে আগুন দেয়। এই ঘটনায় ৭ জন নিহতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ৬:

১৯৭১ সালের ১২ মে পাকিস্তান আর্মি ৩০০ সৈন্য নিয়ে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান। এই সময় বাড়িঘর লুটপাট করে আগুন দেওয়া। এই সময় পরিচালিত গণহত্যায় কয়েক শ’ লোক নিহত। তাদের মধ্যে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।

অভিযোগ ৭:

পাবনার আটঘরিয়া ইউনিয়নে ১৯৭১ এ ২১ মে পাকিস্তান আর্মি অপারেশন পরিচালনা করে ১৯ জনকে হত্যা।

অভিযোগ ৮:

সাবেক পাবনা সদর বর্তমানে আতাকুলা থানার দুবলিয়া বাজার হতে দুজন স্বাধীনতাপন্থীকে ধরে নিয়ে হত্যা।

অভিযোগ ৯:

১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর পাবনার বেতবাড়িয়া গ্রামে পরিচালিত অপারেশনে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট শেষে আগুন দেওয়া। এই সময় চারজনকে অপহরণ ও হত্যা করা হয়।

আবদুস সুবহান ১৯৩৬ সালে পাবনা জেলার সুজানগর থানার মানিকহাটি ইউনিয়নের তৈলকুণ্ডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আবদুস সুবহান ছাত্রাবস্থায় তালাবিয়া আরাবিয়া সংগঠনের সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। পাকিস্তান আমলে তিনি ছিলেন পাবনা জেলার জামায়াতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির ও জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য।

১৯৭০ সালে তিনি জামায়াতে ইসলাম হতে পাবনা সদর আসনে এমএনএ নির্বাচন করে পরাজিত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইয়াহিয়া খানের শুভ দৃষ্টিতে তিনি তথাকথিত উপ-নির্বাচনে পাবনা সদর আসন হতে এমএনএ নির্বাচিত হন।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...