বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুকিটাকি: বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়ে ২ প্রধানমন্ত্রীর বাকযুদ্ধ!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে এখন মেতে রয়েছে বিশ্ব। খেলা নিয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারীরাও কম যান না। তার প্রমাণ মিলেছে গতকালকের নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ নিয়ে। বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়ে ২ প্রধানমন্ত্রীর বাকযুদ্ধে নেমেছিলেন।

World Cup matches argue the Prime Minister

নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ম্যাচ শুরুর আগেই কথার লড়াইয়ে খোদ দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী মেতেছিলেন। খেলার আগের দিন এক ডিনার পার্টিতে উপস্থিত নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট শোনান তাদের ভিন্ন মত। এতে করে খেলার মাঠ ছাড়িয়ে পরিষ্কার হয় এই দুই দেশের দুই সরকার প্রধানের রাজনৈতিক তীর্যক সংলাপ।

বিশ্বকাপে নামে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড। মাঠের খেলায় উড়ন্ত ফর্মের নিউজিল্যান্ড তারকারা অসিদের স্লেজিং কিভাবে মোকাবিলা করে এ নিয়েও আলাদা কৌতূহল ছিল আগে থেকেই।

বাকযুদ্ধে কোচেরাও কম যান না। আগের দিন নিউজিল্যান্ড কোচ মাইক হেসন বলেন, মাঠে আমরা অসিদের স্লেজিংয়ের জবাব দেবো না। তার পরের দিন এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবটের উপস্থিতিতে নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী জন কি বলেন, ‘বছরের পর বছর অস্ট্রেলিয়াকে নিউজিল্যান্ড দয়া দেখিয়েছে। কিন্তু প্রতিদানে নিউজিল্যান্ড পেয়েছে কি শুধু রাসেল নরম্যান ও কুইন্সল্যান্ডের ফলাদি।’ নিউজিল্যান্ডের পরিবেশবাদী রাজনৈতিক দল গ্রিন পার্টির প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯০ সালে। পার্টির কো-চেয়ারম্যান রাসেল নরম্যানের জন্মভূমি আবার অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে। অকল্যান্ডে এই ডিনার পার্টিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর কথার জবাবে আলাদা এক খোঁচা দেন ইংলিশদের। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট এ সময় বলেন, ‘এবার সফল বিশ্বকাপই দেখছি আমি। মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নাস্তানাবুদ হতে দেখলাম ইংলিশদের।’ টনি অ্যাবট বলেন, ক্রিকেটের অনুষ্ঠানে মন্দ কথা বলা ঠিক হবে না। ১২ বছর বয়সে এমন কথার দায়ে ক্রিকেট মাঠ হতে আমাকে বিতাড়িত করেছিলেন আমার কোচ। অবশ্য পরে ইংল্যান্ডে গিয়ে আমি ক্রিকেটার হয়ে উঠলাম রীতিমতো। ইংল্যান্ডে তখন দুপুরের পর হতে পানশালা বন্ধ থাকতো। দুপুর ২টা হতে ৫টা পর্যন্ত এমন সুযোগ খোলা থাকতো শুধু ক্রিকেট মাঠে।’ তিনি বলেন, ঈশ্বরের দিব্যি দিয়ে বলছি, আমি ব্যাটিং করতে পারতাম না, বোলিং করতে পারতাম না, ফিল্ডিং করতে পারতাম না। শুধু স্লেজিং করতে পারতাম। কালক্রমে এটা কাজে দিচ্ছে আমার হাল জীবনেও- তবে তা অবশ্যই সবসময় নয়।

অকল্যান্ডে অফিসিয়াল ওই ডিনার পার্টিতে অসি ও কিউই ক্রিকেট গ্রেট অ্যালান বোর্ডার ও মার্টিন ক্রো, দু’দলের অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালামসহ উপস্থিত ছিলেন ৭৫০ জন অতিথি। ক্যান্টারবুরির ভেড়ার মাংস, কুইন্সল্যান্ডের মুলুলাবার চিংড়ি, উত্তর নিউজিল্যান্ডের হাস্ট নদীর হোয়াইটবেট মাছ, অকল্যান্ডের কেমিউ-এর স্ট্রবেরি এবং কুইন্সল্যান্ডের আম দিয়ে রকমারী পদে ডিনারের মেন্যু সাজানো হয় ট্রান্স-তাসমেনিয়ান বিখ্যাত সব খাবার দিয়ে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...