বিশ্বকাপ ক্রিকেট আপডেট: বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে: জয়ের নায়ক রুবেল

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আজ বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের খেলায় তুমুল প্রতিযোগিতার শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জয়লাভ করেছে। এই জয়ের ফলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হলো।

Bangladesh V England-03

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আজ বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের খেলায় তুমুল প্রতিযোগিতার শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জয়লাভ করেছে। এই জয়ের ফলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হলো। বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার নায়ক রুবেল। রুবেলের শেষের দুই বলের দুই ইউকেট ক্রিকেট ইতিহাসে এক মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

দি ঢাকা টাইমস্ এর পক্ষ থেকে বাংলদেশ দলকে অভিনন্দন।

ক্রিকেট আপডেট পেতে দি ঢাকা টাইমস্ এর সঙ্গে থাকুন এবং বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের খেলা দেখুন সরাসরি

বাংলাদেশ দলের বিশেষ কয়েকজন

বাংলাদেশ দলের ওপর বেশ কয়েকজন খেলোয়ারের গুরু দায়িত্ব রয়েছে তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি যেনে নেই:

সাকিব আল-হাসান

জন্ম: ২৪ মার্চ ১৯৮৭। ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার অভিষেক। বামহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ও বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার তিনি। সাকিব বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তার খেলার মান আর ধারাবাহিকতা তাকে নিয়ে গেছে এক নতুন দিগন্তে। তিনি হয়েছেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একজন খেলোয়াড়। এছাড়াও সাকিবের রয়েছে বিশ্বের সেরা অল-রাউন্ডার হওয়ার এক অনন্য কৃতিত্ব। সাকিব ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০ প্রত্যেক ক্রিকেট সংস্করণে এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। সাকিব আল হাসান প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে ৪ হাজার রান করার গৌরব অর্জন করেন।

1n

প্রকৃতপক্ষে তরুণ বয়সেই সাকিব শুরু করেছিল ফুটবল খেলা। তাঁর বাবা খুলনা বিভাগের হয়ে খেলতেন, বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে। এরকম ফুটবল পাগল পরিবারে বড় হওয়া সত্ত্বেও সাকিব আল হাসানের ক্রিকেট দক্ষতা ছিল অসাধারণ। তাঁর দক্ষতা দেখে গ্রাম-গ্রামান্তরে তাঁকে খেলার জন্য ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হতো। এরকমই এক ম্যাচে সাকিব এক আম্পায়ারকে অভিভূত করেন যিনি পরে সাকিবকে ইসলামপুর পাড়া ক্লাবে (মাগুরা ক্রিকেট লীগের একটি দল) অনুশীলন করার সুযোগ করে দেন। সাকিব তাঁর স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং দ্রুতগতির বোলিং অব্যাহত রাখেন, সেই সাথে প্রথমবারের মত স্পিন বোলিং নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং এক সময় সফল হন। যে কারণে ইসলামপুর দলে খেলার সুযোগ পান এবং প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন সাকিব। সত্যিকারের ক্রিকেট বল দিয়ে এটাই ছিল তাঁর প্রথম করা বল। এর পূর্বে তিনি টেপড-টেনিস বল দিয়েই খেলতেন।

এরপর মাত্র পনের বছর বয়সেই সাকিব অনূর্দ্ধ-১৯ দলে খেলার সুযোগ পেয়ে যান। ২০০৫ সালে অনূর্দ্ধ-১৯ ত্রি-দেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে (অপর দুটি দেশ ছিল ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা) মাত্র ৮৬ বলে সেঞ্চুরি করেন। ওই খেলায় তিনি তিনটি উইকেট নিয়ে দলকে জেতাতে সহায়তা করেন। ২০০৫ হতে ২০০৬ সালের মধ্যে সাকিব অনূর্দ্ধ-১৯ দলের হয়ে ১৮টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলেন। ৩৫.১৮ গড়ে মোট ৫৬৩ রান সংগ্রহ করেন ও ২০.১৮ গড়ে উইকেট নেন মোট ২২টি।

২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ৪ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে বিসিবি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দলের ১৫-সদস্যের চূড়ান্ত তালিকায় তিনিও দলের অন্যতম সদস্য মনোনীত হন। ১৮ ফেব্রুয়ারি ম্যানুকা ওভালে অনুষ্ঠিত গ্রুপ-পর্বের প্রথম খেলায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে চমকপ্রদ ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করেন সাকিব আল হাসান। মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে ১০০ রানের একটি পার্টনারশীপ গড়ে তোলেন যা বাংলাদেশের জয় তরান্বিত করতে বিশেষ ভুমিকা রাখে। প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে তিনি একদিনের আন্তর্জাতিকে ৪,০০০ রান সংগ্রহ করেন। অর্ধ-শতকের পাশাপাশি ২ উইকেট লাভ করে বাংলাদেশ দলকে ১০৫ রানে জয়ী করতে বিশেষ অবদান রাখেন সাকিব আল হাসান।

মাশরাফি বিন মর্তুজা

জন্ম: ৫ অক্টোবর ১৯৮৩। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম বোলিং স্তম্ভ এবং একদিনের আন্তর্জাতিকে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। মর্তুজার ডাক নাম কৌশিক। তিনি একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। মর্তুজার বোলিংয়ের ধরণ ডানহাতি পেস বোলার। বাংলাদেশ জাতীয় দল ছাড়াও তিনি এশিয়ান একাদশের একদিনের আন্তর্জাতিক দলেও খেলেছেন।

মাশরাফি বিন মর্তুজা বাংলাদেশের সফলতম পেস বোলারদের একজন। আক্রমণাত্মক, গতিময় বোলিং দিয়ে অনূর্ধ-১৯ দলে থাকতেই তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাবেক ফাস্ট বোলার অ্যান্ডি রবার্টসের নজর কাড়েন, যিনি কিনা তখন দলটির অস্থায়ী বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। রবার্টসের পরামর্শে মাশরাফিকে বাংলাদেশ জাতীয় দলে নেওয়া হয়।

4

বাংলাদেশ এ-দলের হয়ে একটিমাত্র ম্যাচ খেলেই তিনি জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। ৮ নভেম্বর ২০০১ এ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে।

২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে মাশরাফি ভালো বল করেন। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে মাশরাফির গড় ছিল সবচেয়ে ভাল। কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নাটকীয় জয়ে মাশরাফি বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি মারকুটে ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে শূন্য রানে আউট করে ১০ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দেন।

মাশরাফি বিন মর্তুজা একজন মারকুটে ব্যাটসম্যান। ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় তিনি পরপর চার বলে ছক্কা পেটান। সেই ওভার হতে তিনি ২৬ রান সংগ্রহ করেন যা ছিল কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের জন্য এক ওভারে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। মাশরাফি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির বোলার হওয়ার কারণে সমর্থকদের কাছে তিনি ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত।

মোহাম্মদ মুশফিকুর রহিম

জন্ম: ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৮৮। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেপ্টেম্বর ২০১১ হতে তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। বর্তমানে বাংলাদেশ টেস্ট দলের মূলত তিনি একজন উইকেট-রক্ষক এবং মাঝারি সারির ব্যাটসম্যান। ছোটখাটো গড়নের এই সদা হাস্যোজ্জ্বল খেলোয়াড়টি স্ট্যাম্পের পেছনে বার বার বকবক করার জন্য পরিচিত হয়ে আসছেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি অর্থাৎ সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেন। মুশফিকও এক সময় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন।

2

২০০৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে মুশফিক প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে সুযোগ করে নেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটিই ছিলো বাংলাদেশের প্রথম সফর। প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলে মুশফিক পরিবেশের সঙ্গে ধাতস্থ হয়ে নেন। যার প্রমাণ সাসেক্সের বিরুদ্ধে তার ৬৩ রানের ইনিংস ও নটিংহ্যাম্পশায়ারের বিরুদ্ধে করা অপরাজিত ১১৫ সংগ্রহ।

২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে তিনি বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন। অন্যান্যদের মধ্যে এই দলে ছিলেন ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক তারকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। মুশফিকের নেতৃত্বে দলটি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে সমর্থও হয়। এ বছরই জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিক আবার জাতীয় দলে সুযোগ পান।

তামিম ইকবাল খান

জন্ম: ২০ মার্চ ১৯৮৯। তামিম শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন। তামিম ইকবাল প্রিমিয়ার লীগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের হয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেন। তিনি টেস্ট ক্রিকেটার নাফিস ইকবালের ভাই ও বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা আকরাম খানের ভাতিজা। মার্চ, ২০১৫ তারিখ মোতাবেক তিনি একদিনের আন্তর্জাতিকে ৪ হাজার রান সংগ্রহকারী দ্বিতীয় বাংলাদেশী ক্রিকেটার। ২০১২ সালের মার্চে তামিম আইপিএলের পুনে ওয়ারিয়র্স ক্রিকেট দলে যোগ দেন। ২০০৯ মৌসুমের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তামিম তার প্রথম টেস্ট শতক করেন।

3

তামিম ১২৮ রানে তার ইনিংস শেষ করেন এবং অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কারণে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জিতে নেন (প্রথম ইনিংসেও তিনি ৩৩ রান করেছিলেন)। নিজের ইনিংস সম্পর্কে বলতে গিয়ে তামিম বলেন, “উইকেট যথেষ্ট ফ্ল্যাট ছিল। আপনি যদি খেলায় ঠিকমত মনোনিবেশ করতে পারেন এবং সোজা ব্যাটে খেলেন, নিশ্চয়ই আপনি বড় স্কোর করতে পারবেন। আমার বয়স এখন বিশ এবং টেস্ট খেলেছি মাত্র ১১টি। আশা করছি, এরকম আরো অনেক ইনিংস আমি দলকে উপহার দিতে পারবো। ১৩ মার্চ, ২০১০ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮৬ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলে তামিম ১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। শুধুমাত্র শচীন তেন্ডুলকার এবং মোহাম্মদ আশরাফুল তারচেয়েও কম বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছিলেন। এই টেস্টেরই দ্বিতীয় ইনিংসে ও পরের টেস্টের প্রথম ইনিংসে তামিম পরপর দুটো সেঞ্চুরি করেন (১০৩ এবং ১০৮)। ২০১২ সালে এশিয়া কাপে তামিম ইকবাল ৪টি ম্যাচেই হাফ-সেঞ্চুরি করেন। সেবার বাংলাদেশ ২য়বারের মতো কোনো ত্রি-দেশীয় ক্রিকেট সিরিজে ফাইনালে উঠে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...