একেই বলে প্রেম: অস্ট্রেলিয়া থেকে এসে মুসলিম হয়ে বিয়ে!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একেই বলে প্রেম। মানুষ যখন প্রেমে পড়ে তখন কাছে-দূরে কিংবা ছোট-বড় বা ধর্ম বা অধর্মের কোনো কিছুই আসে যায় না। যেমন ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার এক নাগরিকের ক্ষেত্রে। অস্ট্রেলিয়া থেকে এসে মুসলিম হয়ে বিয়ে করলেন এক বাংলাদেশীকে!

Muslims, Australia & married

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক খবর সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ওই খবরে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া হতে বাংলাদেশে এসেছেন সেদেশের নাগরিক এমিলি রেবেকা পার। তিনি এসেছেন শুধুমাত্র ভালোবাসার টানে। কেনো না তাঁর ভালোবাসার মানুষটি যে এই বাংলাদেশেই থাকে। শুধু তাই নয়, প্রেমিক মুসলিম হওয়ার কারণে খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন তিনি। বিয়েটিকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে বরিশালে এসেছেন অস্ট্রেলিয়া সরকারের হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের কর্মচারী এমিলি। তার বাবা-মা, ভাই, খালা-খালু, ফুফু-ফুফাসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যও।

এমিলি রেবেকার (মুসলমান হওয়ার পর নতুন নাম এমিলি আলম) সদ্য বিবাহিত স্বামী সাইদুল আলম রুমান নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল আলম গুলজারের ভাতিজা।

জানা যায়, ৩০ মার্চ সপরিবারে বাংলাদেশ আসেন এমিলি এবং রুমান। আলেকান্দায় রুমানের নিজ বাড়ি হলেও এমিলির পরিবারের সদস্যদের রাখা হয়েছিল গুলজারের মালিকানাধীন এরিনা আবাসিক হোটেলে। শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে বায়তুল মেহেদী জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল হালিমের কাছে কলমা পড়ে এমিলি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এসময় তার নতুন নাম রাখা হয় এমিলি আলম। এমিলির বাবা ব্রুস পার এবং মা ভিকি পারসহ তার আত্মীয়রা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ওই দিন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় রুমানের আলেকান্দার বাসভবনে রুমান ও এমিলির বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। রাতেই নগরীর বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে রুমান-এমিলির বিবাহোত্তর সংবর্ধনাও অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যতিক্রমি এই বিয়ে উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ান বধূ ও তার মাসহ পরিবারের নারী সদস্যদের বাঙালির চিরাচরিত শাড়ি-কাপড়ের সাজে অন্য রকম এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল এ সময়। অতিথিরা নবদম্পতির শুভ কামনা এবং তাদের জন্য দোওয়া করেন। পরদিন বর-কনে এবং কনে পরিবারের সদস্যরা ঢাকা ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, ১৬ বছর পূর্বে রুমান পড়াশোনা করতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যান। সেখানে আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ইনফরমেশন অ্যান্ড সিস্টেম বিভাগ হতে গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন। তার স্ত্রী এমিলিও একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে গ্র্যাজুয়েট। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পরিচয় ঘটে এমিলির সঙ্গে। উভয়ে উভয়কে জানাশোনার পর ২০১০ সাল হতে ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা দুজনই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...