যুগে যুগে নানা কুসংস্কার: কালো বিড়াল কী সত্যিই অশুভ?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কালো বিড়াল সম্পর্কে নানা কুসংস্কার বিদ্যমান। যুগে যুগে এসব কুসংস্কার চলে আসছে। পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতিতে কালো বিড়ালকে অশুভ হিসেবে গণ্য করা হয়। আসলেও কী তাই?

black-cat

কালো বিড়াল সম্পর্কে অনেক কুসংস্কার রয়েছে। বিশেষ করে কালো বিড়ালের রাস্তা পার হওয়াকে অশুভ লক্ষণ বলে মনে করা হয়ে থাকে। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, কোনও শুভ কাজে বের হবার সময় যদি কোনো কালো বিড়ালকে সামনে রাস্তা পার হতে দেখা যায় তাহলে সেই কাজে সাফল্য না আসার সম্ভাবনা থাকে। তাই অনেকেই এমনটা ঘটলে বাড়ি ফিরে গিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু করা হতো, অথবা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তারপর আবার কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়াকে ভালো বলে মনে করা হয়ে থাকে। গাড়ি চালকদের মধ্যে অনেকেই এই উপদেশ নাকি মেনেও চলেন! তবে এই বিশ্বাসের সবটাই কি নিছক কুসংস্কার, নাকি বাস্তব ভিত্তি রয়েছে? এই বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়।

অনেকেই বলেন, এই বিশ্বাসের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা খুঁজতে গেলে দেখা যাবে যে, জ্যোতিষ শাস্ত্রের একটি বিশেষ শাখা স্বগুণ শাস্ত্রে নাকি এই কালো বিড়ালের কথা উল্লেখ রয়েছে। স্বগুণ শাস্ত্র এমন একটি শাস্ত্র, যা মূলত বিভিন্ন অশুভ লক্ষণ নিয়েই চর্চা করা হয়। এই শাস্ত্রে বিশেষভাবে কালো বিড়ালকে অশুভ মনে করা হয়। এতে বলা হয়েছে, কালো আসলে শনির প্রতীক। শনি কাজে বিঘ্ন ঘটায় বা ব্যর্থতা আনে। কাজেই কালো বিড়াল রাস্তা পেরানোর অর্থ হলো শুভ কাজ করতে যাওয়া মানুষটির উপর শনির কুদৃষ্টি পড়া। অতএব তার কাজে সাফল্য না আসার অনেক সম্ভাবনা থেকে যায়। কীভাবে এই কুদৃষ্টিকে অকার্যকর করা যাবে, তারও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে স্বগুণ শাস্ত্রে। বলা হচ্ছে যে, কালো বিড়াল রাস্তা পার হলে বাড়ি ফিরে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ঈশ্বরের ধ্যান করার পর, তারপর আবার কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া উচিত।

তবে এটি ভারতীয় সংস্কৃতিতে বেশি বিদ্যমান। তবে কালো বিড়ালকে অশুভ মনে করার সংস্কার প্রচলিত রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতিতে। জার্মানিতে রাস্তার ডান দিক হতে বাঁ দিকে কালো বিড়ালের ছুটে যাওয়াকে অশুভ মনে করা হয়ে থাকে। আবার জার্মানরা বিশ্বাস করে, কালো বিড়াল যদি বাম হতে ডানে রাস্তা পার হয় তবে তা নাকি শুভ লক্ষণ।

দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সমজাতীয় বিশ্বাস প্রচলিত। ১৯ শতকের জলদস্যুরা আবার বিশ্বাস করতো, কোনও মানুষের কাছ থেকে যদি কালো বিড়াল দূরে পালিয়ে যায়, তাহলে তা দুর্ভাগ্য দূর হয়ে যাওয়ার লক্ষণ মনে করতে হবে। জুয়াড়িরা জুয়া খেলতে যাওয়ার পথে কালো বেড়ালের দর্শনকে অশুভ বলে মনে করে। এমনটা ঘটলে সেদিনের খেলায় তারা নির্ঘাৎ হারবে বলেই ধরে নেয়।

black-cat-2

তবে এটি সত্যি যে, এই সমস্ত বিশ্বাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। জীববিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করেন, কোনও কোনও প্রাণী আসন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আভাস পায়। তবে ব্যক্তি বিশেষের দুর্ভাগ্যের সঙ্গে বিড়াল বা অন্য কোনও প্রাণীরই কোনও যোগ রয়েছে বলে বিশ্বাস করার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নাকি নেই।

কালো বিড়াল সম্পর্কে লোকবিজ্ঞানীরা বলেছেন, কালো বিড়াল অশুভ এই বিশ্বাসের প্রকৃত কারণ আবিষ্কার করা সত্যিই দুরূহ ব্যাপার, তবে সাধারণভাবে বিড়াল তখনই দৌড়ে রাস্তা পার হয় যখন কোনও প্রাণী কিংবা মানুষ তাকে তাড়া করে। অর্থাৎ কোনও বিড়ালকে রাস্তা পার হতে দেখলেই ধরে নিতে হবে যে, তার পিছনে ছুটে আসছে কোনও মানুষ বা অন্য কোনও প্রাণী। কাজেই সেই পিছু নেওয়া প্রাণীটির সুরক্ষার্থেই গাড়ি আস্তে করে দেওয়া, বা থামিয়ে দেওয়া ভালো কাজ হবে। এই বিষয়ে গাড়ি চালকদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতেই ওই অশুভ লক্ষণ সংক্রান্ত আরবান মিথটি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছেন লোকবিজ্ঞানীরা!

কালো রং-কে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে অশুভ চিহ্ন বলে মনে করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্কৃতিতে কালো রং যেমন শনির প্রতীক, তেমনই বিভিন্ন সংস্কৃতিতে স্যাটানিজমের সংযুক্ত করে দেখা হয়ে থাকে এই কালো রং-কে। সেই কারণেই এই বিশেষ সংস্কারটির ক্ষেত্রে কালো বিড়ালকে অপেক্ষাকৃত বেশি অশুভ বলে মনে করা হয়। আর একটি বিষয় ছাড়াও কালো বিড়াল রাতের অন্ধকারে চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে। অন্ধকারে কালো বিড়াল হঠাৎ করে দেখলে যে কেও ভয় পেতে পারেন। তাই কালো বিড়াল অশুভ বিষয়টির সঙ্গে অনেক সময় যুক্ত হয়ে থাকে এই বিষয়টিও।

Advertisements
Loading...