The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

জেনে নিন ভয়ংকর ক্যান্সার থেকে বাঁচার ২০টি টিপস

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক॥ক্যান্সার এমন একটি রোগ যা একবার শরীরে দেখাদিলে অনেক সময় ওষুধেও প্রতিরোধ করতে পারেনা। জীবন যাপনের কিছু পরিবর্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। জীবন ধারণে ২০টি সঠিক পন্থা অবলম্বন করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে অনেকটা নিরাপদে থাকা যায়।


cancer

১।ধূমপান পরিহার করাঃ প্রতিদিন আপনি যদি একটি করেও সিগারেট খান তাহলেই আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ধূমপানের ফলে আপনার কিডনি, ঠোঁট, মুখ, লান্সে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আপনি সময় থাকতে ধূমপান পরিহার করুন। ধূমপায়ীদের সঙ্গত্যাগ করুন কারন যারা ধূমপান করেন তাদের ধূমপানের ধোঁয়ার কারনে একজন অধূমপায়ীর সমপরিমাণ ক্ষতি হয়।

২।পুরান হাঁড়ি পাতিল ব্যাবহার না করাঃ আপনি আপনার রান্নাঘরের পুরান হাঁড়ি পাতিল গুলো পরিবর্তন করে ফেলুন এখনি। কারন গবেষণায় দেখাগেছে পুরান হাঁড়ি পাতিল ক্যান্সারের শঙ্কা বাড়ায়। পুরান হাঁড়ি পাতিলে রান্নার ফলে এতে রান্নার সময় ক্যান্সারের জন্য দায়ী ক্ষতিকর Perfluorooctanoic acid (PFOA) উৎপন্ন হয়। এ এসিড ধীরে ধীরে মানুষের শরীরে ক্যান্সারের বংশবিস্তার ঘটাতে থাকে।

৩। ক্ষতিকর সূর্য রশ্মি এড়িয়ে চলাঃ যদিও সূর্য আপনার শরীরের জন্য উপকারী ভিটামিন “ডি” এর প্রধান উৎস, তবে সূর্যই স্কিন ক্যান্সারের জন্য প্রধানত দায়ী। আপনি যদি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বাঁচতে প্রকৃত ব্যবস্থা না নেন তাহলে আপনার স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। আপনাকে অবশ্যই সূর্যের ক্ষতিকর UV রশ্মি এড়িয়ে চলতে হবে। এবং বাইরে বের হবার সময় সান স্ক্রিন লোসান ও শরীর ঢাকা থাকে এমন কাপড় পরতে হবে।

৪।শরীরের ওজন ঠিক রাখাঃ স্থূলতা আপনার শরীরে নানান রকম ক্যান্সারের ঝুঁকি বারিয়ে তুলে। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে আপনাকে অবশ্যই শরীরের ওজন সঠিক পরিমাণে রাখতে হবে।

৫। নিয়মিত ক্যান্সার পরীক্ষা করতে হবেঃ বছরে অন্তত একবার আপনি আপনার ক্যান্সার পরীক্ষা করান। এর ফলে আপনি প্রাথমিক পর্যায়েই জানতে পারবেন আপনার শরীরে কোন ক্যান্সারের জীবাণু আছে কিনা। আর যদি থেকে থাকে তাহলে আপনি তার জন্য প্রাথমিক ভাবেই ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে তা থেকে বাঁচার উপায় থাকে কিন্তু দেরি হয়ে গেলে নিস্তার পাওয়ার সম্ভাবনা খুবি কম।

৬। নিয়মিত সবজী ও ফলমূল খানঃ আপনার খাদ্দাঅভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। প্রতিদিন ৫ রকমের সবজী ও ফলমূল রাখুন খাদ্য তালিকায়। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে শাঁক সবজী খাবার চেষ্টা করুন। এর ফলে আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।

৭। নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীর চর্চা করুণঃ হাঁটাচলা ও শরীর চর্চা আপনাকে যে কেবল ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে মুক্তিদিবে তা নয় এর ফলে আপনার স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে। তাই প্রতিদিন নিয়মকরে খেলা-ধুলা ও হাঁটাচলা করুন।

৮। সাবান ও প্রসাধন ব্যাবহারে সাবধান হউনঃ সাবান ও বিভিন্ন প্রসাধনী আপনার শরীরের জন্য যতটা উপকারী তার থেকে বেশি ক্ষতির কারন হতে পারে। তাই এসব ব্যাবহারে সাবধান হতে হবে আপনাকে। সাবান ও প্রসাধন সামগ্রীতে থাকে আন্টি ব্যাকটেরিয়াল- ট্রাইক্লোজেন যেটি ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

৯। মদ্যপানে পরিমাণ ঠিক রাখুনঃ প্রচুর পরিমান মদ্যপান আপনার শরীরে ক্যান্সারের বাসা বাঁধতে যথেষ্ট। অতএব মদ্যপান করতে গেলে অবশ্যই পরিমাণ ঠিক রাখুন।

১০। আপনার পারিবারির ইতিহাস জানুনঃ আপনার পরিবারের আগে কার ক্যান্সার ছিল কিনা খোঁজ নিন। কারন কিছু কিছু ক্যান্সার যেমন- কলন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার এবং ওভারেইন ক্যান্সার পারিবারিক সূত্রে শরীরে বাসা বাঁধে। যদি আপনার পরিবারের কারো এজাতীয় ক্যান্সার থেকে থাকে তাহলে এখনোই ডাক্তারের সাথে আলাপ করুন।

১১। মানসিক চাপ মুক্ত থাকুনঃ মানসিক চাপ আপনার শরীরের জন্য সর্ব ব্যপি ক্ষতির কারন। মানসিক চাপ আপনার ইমিউন সিস্টেমকে নষ্ট করে দিয়ে আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই মানসিক চাপ কমাতে আপনি আপনার প্রিয় কাজ অথবা পরিবারের সবার সাথে সময় কাটাতে পারেন।

১২। প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যাবহার করুনঃ আপনার মোবাইল ফোনের ফ্রিকোয়েন্সি কমের মধ্যে রাখুন। কারন দীর্ঘ খন মোবাইলে কথা বলার কারনে এতে থাকা ফ্রিকোয়েন্সি আপনার ব্রেইন কে চরম ভাবে ক্ষতি করতে পারে। ক্যান্সার গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মোবাইল ফ্রিকোয়েন্সির কারনে মানুষের ব্রেইন ক্যান্সারের হার আশঙ্কা জনক হারে বাড়ছে।

১৩। মাংস কম খানঃ প্রচুর পরিমাণ মাংস খাওয়ার কারণেও আপনার ক্যান্সার হতে পারে। তাই মাংস খেতে হলে পরিমাণ বজায় রেখে খান।

১৪। ফলমূল খাওয়ার আগে ধুয়ে খানঃ আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে সব ফলমূল আপনি খাচ্ছেন তা খাবার আগে ঠিক ভাবে ধুয়ে খাচ্ছেন তো? কারন এসব ফলমূলে প্রিজারভেশানের ফলে নানান রকম কেমিক্যাল ও জীবাণু থাকতে পারে। তাই ফলমূল খাবার আগে অবশ্যই আপনাকে ধুয়ে খেতে হবে।

১৫। নিরাপদ যৌন মিলনঃ গবেষণায় দেখা গেছে আপনার নিরাপদ যৌন মিলনের ফলে আপনি নিজেকে HPV – a sexually transmitted disease থেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন। HPV নানান রকম ক্যান্সারের কারন। নিরাপদ যৌন মিলনের ফলে আপনি HIV ঝুঁকি থেকে ও রক্ষা পাবেন। HIV সংক্রমণের ফলে শরীরে অনেক রকম ক্যান্সারের সৃষ্টি হতে পারে।

১৬। অপ্রয়োজনীয় স্ক্যান এড়িয়ে চলুনঃ অপ্রয়োজনীয় স্ক্যান আপনার শরীরে নানান রকম ক্ষতিকর রশ্মি প্রবেশ করায় ফলে আপনার শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে প্রয়োজন ছাড়া CT scansX-rays পরিহার করুন।

১৭। ফ্রাই ও ভাজা পোড়া খাবার পরিহার করুনঃ গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে ভাজা পোড়ার ফলে মাংসে যে চর্বি বার্ন হয় তা ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এ ক্ষেত্রে রান্না করে অথবা সেদ্ধ করে খেতে পারেন।

১৮। যেকোনো রকম ব্যথাকে অবহেলা করবেন নাঃ আপনি যদি আপনার শরীরের কথাও দীর্ঘদিন কোন ব্যথা ও রক্তপাত অনুভব করেন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে আপনাকে। কারন এসব ক্যান্সারের উপসর্গ।

১৯। পানি ফুটিয়ে পান করুনঃ আপনি যে পানি পান করছেন তা অবশ্যই জীবাণু মুক্ত কিনা তা নিশ্চিত হয়ে পান করুন। কারন পানিতে নানান রকম জীবাণু থাকে যা ক্যান্সারের কারন হতে পারে।

২০। প্রচুর পরিমান পানি পান করুনঃ প্রচুর পরিমাণ পানিপান আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক অংশে হ্রাস করতে পারে। পানি শূন্যতার কারনে “bladder cancer” হতে পারে। দৈনিক পরিমান মত পানি পান এই জাতীয় ক্যান্সার প্রতিহত করতে সক্ষম।

তথ্য সূত্রঃ দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়া

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...