The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

যন্ত্রণাদায়ক বিজ্ঞাপনী এসএমএস হতে প্রতিকার পেতে বিটিআরসিতে অভিযোগ করুন!

এখন থেকে বিটিআরসি’র কাছে অভিযোগ করলেই তারা প্রতিকার করবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর হতে দিনরাত একের পর এক নানা ধরনের বিজ্ঞাপনী এসএমএস আসতেই থাকে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা এই বিষয়টি নিয়ে চরম বিরক্তি বোধ করেন। তবে এই বিষয়টি হতে এবার মুক্তি পাওয়া যাবে, তারজন্য বিটিআরসিকে অভিযোগ জানাতে হবে।

যন্ত্রণাদায়ক বিজ্ঞাপনী এসএমএস হতে প্রতিকার পেতে বিটিআরসিতে অভিযোগ করুন! 1

দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল গ্রাহকরা অভিযোগ করে আসছেন যে, নানা রকম বিজ্ঞাপনী এসএমএস গ্রাহকদের চরম বিরক্তির কারণ। কিন্তু এর কোনো প্রতিকার না হওয়ায় অবশেষে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সতর্কবার্তা দেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) নির্দেশনা আসে এই বিষয়ে। তারপরও বন্ধ হয়নি বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপরেটরদের কাছ থেকে ‘যখন-তখন বিজ্ঞাপনি এসএমএস’ বা শর্ট মেসেজ সার্ভিস আসা।

দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর বিভিন্ন অফার এবং প্রতিষ্ঠানের চটকদার এসএমএস রীতিমতো যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। অযাচিত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এইসব এসএমএসের ভিড়ে অনেক সময় প্রয়োজনীয় এসএমএস গ্রাহকরা পড়েন না যে কারণে তারা অনেক সময় ক্ষতিরও সম্মুখিন হন।

গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে, কিংবা মধ্যরাতে ঘুমের সময় হঠাৎ করে বেজে ওঠা ‘টাংটুাং’ বা নানা রকম আওয়াজে আসা এসএমএস গ্রাহকের মেজাজ বিগড়ে দিয়ে থাকে। বিরক্ত হয়ে মেজাজ হারানোর কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাসেজও বাদ পড়ে যায় গ্রাকদের। অহেতুক এসব এসএমএস-এর কারণে মোবাইল ফোন হয়ে উঠেছে অনেকের কাছেই যন্ত্রণাদায়ক যন্ত্রে!

দীর্ঘদিন গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিপ্তে মোবাইল অপারেটর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি একটি নির্দেশনাও জারি করে। এরপরও বন্ধ হয়নি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর ওইসব অফারের এসএমএস পাঠানো। বিষয়টি ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের দৃষ্টিগোচর করা হলে গতবছর ২০১৬ সালের ১৫ মে বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সেসময় অপারেটরগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন যে, ‘রাত ১২টার পর হতে ফজরের নামাজের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মোবাইলে এসব এসএমএস পাঠানো যাবে না।’ তারপরও বন্ধ হয়নি ওইসব এসএমএস। রাত ১২টার পরও ওইসব এসএমএস আসছে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসি জানিয়েছে, এখন থেকে তাদের কাছে অভিযোগ করলেই তারা প্রতিকার করবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন অপারেটরের শর্টকোড নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও এই যন্ত্রণা হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

বিটিআরসির দেওয়া এই ওয়েবসাইটের (http://www.btrc.gov.bd/complainbox) লিংকে গিয়ে অভিযোগ জানানো যাবে বলে জানানো হয়েছে।

তাছাড়া, এসব যন্ত্রণাকর এসএমএস আসা বন্ধ করতে চাইলে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী নিজেই সংশ্লিষ্ট অপারেটরের নির্দিষ্ট নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে কিংবা ফোন করে ওইসব এসএমএস আসা বন্ধ করতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।

গ্রামীণফোন বলেছে, তাদের কোনও গ্রাহক এসব এসএমএস পেতে না চাইলে ১২১ নম্বরে ফোন করে বন্ধের জন্য অনুরোধ জানাতে পারবেন যে কোনো গ্রাহক।

অপরদিকে রবির গ্রাহকরা ১২৩ নম্বরে ফোন দিয়ে ডিএনডি (ডু নট ডিস্টার্ব) সেবা চালুর জন্য অনুরোধ করতে পারবেন গ্রাহকরা। সেক্ষেত্রে ফোন করে বলতে হবে, ‘আমি এই সেবা চাই না।’ তাহলে ওরা (মোবাইলের অপর প্রান্ত থেকে) সংশ্লিষ্ট ফোনদাতাকে ডিএনডি ক্যাটাগরিতে ফেলে দেবে। তখন প্রমোশনাল কোনও কিছু আর তার মোবাইলে আসবে না।

বাংলালিংক বলেছে, বাংলালিংকের গ্রাহকরা এসএমএস না চাইলে মেসেজ অপশনে গিয়ে অফ (OFF) লিখে ৬১২১ নম্বরে এসএমএস পাঠালেই হবে।

অপরদিকে এয়ারটেল গ্রাহকরাও ১২৩ নম্বরে ফোন দিয়ে ডিএনডি (ডু নট ডিস্টার্ব) সেবা চালুর জন্য অনুরোধ জানাতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...