ঘুমালেই মৃত্যু হবে যে কিশোরের!

জন্মের পর ডাক্তাররা বলেছিলেন তার পক্ষে বেশি দিন বাঁচা সম্ভব হবে না

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ধরুন, আপনি এমন এক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন যার কারণে কিছুক্ষণের জন্য ঘুমালেই আপনার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে, এবং এই কারণে আপনার মৃত্যু অব্দি হতে পারে। দুঃসহ মনে হচ্ছে? কিন্তু সত্য হচ্ছে, ঠিক এমন সমস্যা নিয়েও দীর্ঘ সময় বেঁচে আছে এক বালক।

সামান্য কিছু শারীরিক সমস্যার করাণেই আমরা অনেকে যেখানে কাতর হয়ে পড়ি সেখানে এমন গুরুতর সমস্যা নিয়ে কিভাবে একজন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয় বৈকি! আমরা বিস্মিত হলেও এমন সমস্যা নিয়েই জীবন ধারণ করছে লিয়াম ডার্বিশায়ার নামের এক ১৮ বছরের বালক।

সেন্ট্রাল হাইপোভেন্টিলেশন নামের এক বিরল রোগ নিয়ে জন্মেছিল লিয়াম। জন্মের পর ডাক্তাররা বলেছিলেন তার পক্ষে বেশি দিন বাঁচা সম্ভব হবে না। কিন্তু ডাক্তারদের সব ধারণা ভুল প্রমাণ করে ১৮ বছর পার করে দিয়েছে লিয়াম।

লিয়াম যে রোগে আক্রান্ত তা অত্যন্ত বিরল। সারা পৃথিবীতে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মাত্র ১৫০০ জন। যেসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে রোগটি মাঝারি মাত্রার তাদের পক্ষে গভীর ঘুম অসম্ভব। কিন্তু লিয়ামের ক্ষেত্রে রোগটি অত্যন্ত গুরুতর। লিয়াম যদি স্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়ে পড়ে তাহলেই তার মৃত্যু হতে পারে। কারণ ঘুমিয়ে পড়ার পরপরই তার নিশ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

এই সমস্যা দূর করার জন্য তাকে একটি বিশেষ ‘মেডিকেল বেডে’ ঘুমাতে হয়। এই বেডে লাইফ সাপোর্ট এবং লিয়ামের শরীরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু এই বেডেই লিয়ামের পক্ষে ঘুমানো সম্ভব।

কিছু সেন্সরের মাধ্যমে লিয়ামের শরীরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকলেও লিয়ামের পাশে কাউকে না কাউকে সব সময় থাকতে হয়। কারণ সামান্য কোনো সমস্যা হলেই তার জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে। লিয়ামকে বাঁচিয়ে রাখতে হাজার হাজার পাউন্ড ইলেকট্রিসিটি বিল গুনতে হয় তার পরিবারকে। কিন্তু লিয়ামকে বেঁচে থাকতে দেখার মধ্যেই তারা আনন্দ খুঁজে পায়।

শুধু ওই রোগটিই নয়, এক পর্যায়ে ক্যানসারেও আক্রান্ত হয় লিয়াম। কিন্ত আশ্চর্যজনকভাবে ক্যানসারও তাকে দমাতে পারেনি এখনো। ডাক্তাররা বলছেন, এই রোগ নিয়ে এতো দিন বেঁচে থাকা রীতিমত বিস্ময়কর। আরো কতো দিন এভাবে বেঁচে থাকতে পারবে লিয়াম সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নয়।

শারীরিক সমস্যার কারণে লিয়ামের পক্ষে কখনোই স্বাধীনভাবে বাঁচা সম্ভব নয়। সব সময়ই তাকে অন্য কারো উপর নির্ভর করতে হবে।

তথ্যসূত্র: www.odditycentral.com

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...