বাতাস বিক্রি করে ধনী হতে চাওয়া উদ্যোমী দুইবোনের গল্প!

চীনের অব্যাহত বাতাস দূষণের মুখে এই ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমে সফল হয়েছেন জিনইং প্রদেশের দুই বোন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাতাস কি কখনও বিক্রি করা যায়? সত্যিই এমন দুই বোনের খবর পাওয়া গেছে যারা যারা বাতাস বিক্রি করে ধনী হতে চান। আজ রয়েছে এমন উদ্যোমী দুইবোনের গল্প!

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের ইতিমধ্যে এই দুই বোনের বাতাস বিক্রির বিষয়টি চারিদিকে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বাতাস বিক্রি করেন দুই বোন। পর্বত হতে ধরা একদম ফ্রেশ বাতাস। প্রতিব্যাগের দাম নেন ১৫০ ইউয়ান।

সাংহাই পোস্টের খবরে এই দুই বোনের কথা বলা হয়েছে। খবরে বলা হয়, চীনের অব্যাহত বাতাস দূষণের মুখে এই ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমে সফল হয়েছেন জিনইং প্রদেশের দুই বোন। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে বিক্রি করেন বাতাস। বর্তমানে এই ব্যবসা বেশ সফল হওয়ায় অনলাইনেও তারা বাতাস সরবরাহের অর্ডার পেতে শুরু করেছেন।

শুধু তাই নয়, অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য তারা পর্বত হতে বাতাস ব্যাগে ধরার দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও তারা পোস্ট করেছেন। এক ব্যাগ বাতাস আনতে তাদের ১৫ ইউয়ান খরচ হয়েছে সেই তথ্য দিয়ে ওই দুই বোন বলেছেন ইতিমধ্যে তারা শতাধিক ব্যাগ বাতাস বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে প্লাস্টিক পচনশীল না হওয়ায় তা পরিবেশের ক্ষতি করবে এই চিন্তা হতে অনেকেই প্লাস্টিকের ব্যাগে করে বাতাস বিক্রির সমালোচনাও করেছেন।

এই বাতাস বিক্রির ধারণা একেবারে নতুন কিছু নয়। জিয়ান প্রদেশের বন বিভাগ বছরের শুরুতে নিকটবর্তী কিনলিং পর্বত হতে বাতাস এনে বিক্রি শুরু করে। সাংহাই পোস্টের দাবি ওই প্রকল্পে সরকার ২ লাখ ইউয়ান বিনিয়োগও করেছে।

তবে বাতাস সংগ্রহের প্রক্রিয়া কেমন হতে পারে তা শুনলে আশ্চর্য হতে হয়। হাতে তৈরি বিশেষ এক ধরনের জালের মাথায় বোতল স্থাপন করা হয়। এরপর সেই জাল উঁচু করে ধরে বাতাসের গতিপথের ঠিক উল্টো দিকে হাঁটা হয়। কাজটি করা হয় এমন স্থানে, যার অবস্থান দূষিত এলাকাগুলো হতে অনেক অনেক দূরে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয়, ‘এয়ার ফার্মিং’ বা বাতাস চাষ। এই এয়ার ফার্মিং পদ্ধতিতে বাতাস ধরে বিক্রি করছেন চীনের এই দুই বোন।

Advertisements
Loading...