দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দুনিয়াতে মানুষের পরিচয় কিসে তা বোঝা যাবে আজকের এই গল্প শুনলে। বিকৃত চেহারা নিয়ে জন্ম নিয়েছিলো এই শিশুটি। কিন্তু বাবা-মা তাকে অবহেলা তো করেইনি বরং ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তুলছেন। সত্যিই এমন ঘটনা সমাজে বিরল।
বিকৃত চেহারা বা চেহারা ছাড়া জন্ম নিয়েও ভালোবাস থাকলে বেঁচে থাকা যায় সেটিই প্রমাণ হলো। সত্যিই বিরল একটি ঘটনা। ছবির শিশুটিকে দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন এমন বিভৎস চেহারার একটি শিশুকে কিভাবে আদর যত্ন করে ভালোবাসা দিয়ে বাবা-মা মানুষ করে তুলছেন।
সাধারণভাবে আমরা বাচ্চার জন্মের সময় সকলেই চেহারাটি দেখার জন্য উদগ্রিব হয়ে থাকি। তবে সেই চেহারা ছাড়াই যদি বাচ্চা জন্ম নেয় তাহলে আমাদের কী অবস্থা হবে? একবার ভাবুন।
ঠিক এমনটিই ঘটেছে ব্রাজিলের এই মেয়েটির ক্ষেত্রে। সে মুখাবয়ব ছাড়াই জন্ম নিয়েছিল। তার জন্মের পরপরই চিকিৎসকরা জানিয়েছিল শিশুটি কয়েক ঘন্টার বেশি বাঁচবে না। ৯ বছর পূর্বে এমনটিই ঘটেছে। সেই মেয়েটি এবার নবম জন্মদিন পালন করেছে।
এই মেয়েটির নাম ভিটোরিয়া মারচিওলি। তারা জন্ম ব্রাজিলের বারা যে সাও ফ্রান্সিসকোতে। ‘ট্রিচার কলিনস সিন্ড্রোম’ নামের একটি জিনগত ত্রুটি নিয়ে জন্মেছিল এই শিশুটি। এই সমস্যার কারণে তার মুখের ৪০টি হাড় যথাযথভাবে বেড়েই ওঠেনি। তার চোখ, মুখ এবং নাক ছিল স্থানচ্যুত এবং বিকৃত ধরনের।
জন্মের পরপরই তার এই অবস্থা দেখে চিকিৎসকরাও আঁতকে ওঠেন। চিকিৎসকরা তাকে ছুঁতেও ভয় পান। তারা ঘোষণা করেন, সে কয়েকঘন্টার বেশি বাঁচবে না। এমনকি তাকে খাবার খাওয়াতেও চায়নি চিকিৎসকরা। তার পরিবারকে বাড়িতে ফিরে গিয়ে তার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে বলে দেনে চিকিৎসকরা। তার তার বাবা-মা তাকে বাঁচিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। বাবা-মার ভালোবাসা ও যত্নের কারণেই সে এখনও বেঁচে রয়েছে।
মেয়েটির বাবা-মা জানান, যে চিকিৎসকরা বলেছিল আমাদের মেয়েটি বাঁচবেনা, তারা এখন ব্যাখ্যা করতে পারছে না কেনো আমাদের মেয়েটি বেঁচে রয়েছে। তবে তাদের বিশ্বাস আমাদের ভালোবাসা ও যত্নের কারণেই সে বেঁচে রয়েছে। আমরা তার চিকিৎসার জন্য একটি সাহাজ্য তহবিলও গঠন করবো। আশা করছি তাকে আরও উন্নত জীবন-যাপন করার সুযোগ করে দেবো। চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সবচেয়ে সুন্দর চেহারাটি দান করবো। আর এটিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।