১ লাখ ৪০ হাজার ইউরো বিক্রি হলো জার্মানির আস্ত একটি গ্রাম!

গ্রামের বাসিন্দার সংখ্যা মাত্র ২০ জন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এমন কথা শুনলে হয়তো বিস্মিত হবেন। আর সেটিই স্বাভাবিক। কারণ মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার ইউরোতে বিক্রি হয়েছে জার্মানির আস্ত একটি গ্রাম!

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, জার্মানির একটি গ্রাম বিক্রি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার ইউরোতে! এই সামান্য অর্থেই জার্মানির আস্ত একটি গ্রাম কিনে নিয়েছেন জনৈক ব্যক্তি! গ্রামটিকে পাণ্ডুবর্জিতই বলা চলে। গ্রামের বাসিন্দার সংখ্যা মাত্র ২০ জন। তাদের বেশিরভাগই অবসরপ্রাপ্ত। বয়সের ভারে তাদের আর কাজকর্ম করার ক্ষমতা নেই।

জানা যায়, রাজধানী বার্লিন হতে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রাম হলো এই অ্যালউইন। জীবিকার সন্ধানে বেশিরভাগ বাসিন্দাই গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছেন অন্যত্র। বাপ-দাদার ভিটের মায়া কাটাতে পারেননি গ্রামটির প্রবীণ বাসিন্দারা। তবে সেই সংখ্যাটি খুবই নগণ্য মাত্র জনা বিশেক!

সংবাদ মাধ্যম এক খবরে বলেছে, অ্যালইউন গ্রামে এখন বসবাস করেন মাত্র ২০ জন। তাদের রোজগার একেবারে কিছুই নেই। চরম দারিদ্র্য ও অবহেলায় দিন কাটছে তাদের।

সম্প্রতি অ্যালইউন গ্রামটিকে নিলামে তোলা হয়েছিলো। নিলামের শুরুতে দাম উঠেছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ইউরো। তবে তার থেকে খুব সামান্য বেশি দামে মালিকানা বদলে গেলো অ্যালউইন গ্রামের। ১ লাখ ৪০ হাজার ইউরো দিয়ে গ্রামটি কিনে নিলেন অজ্ঞাত পরিচয়ের জনৈক ব্যক্তি। ইউরো চালু হওয়ার পূর্বে জার্মানির মুদ্রা ছিল ডয়েসমার্ক। ২০০০ সালে প্রতীকী এক ডয়েসমার্কের মূল্যে এক ব্যক্তির কাছে অ্যালউইন গ্রামটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

নব্বইয়ের দশকের গোড়া পর্যন্ত কমিউনিস্ট শাসিত সাবেক পূর্ব জার্মানির অন্তর্ভুক্ত ছিল এই অ্যালউইন গ্রাম। তখন গ্রামের অর্থিক সমৃদ্ধিও ছিল যথেষ্টই। অ্যালউইন গ্রামের খুব নিকটেই ছিল একটি ইটভাটা। ইটভাটায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। প্রত্যেক পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতাও ছিল।

১৯৯০ সালে দুই জার্মানি এক হয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে থাকে অ্যালউইন গ্রাম। ইটভাটাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর রুটি-রুজিতে টান পড়ে যায়। জীবিকার সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিতে শুরু করেন গ্রামের বাসিন্দারা। এভাবে এক সময় কার্যত জনশুন্য হয়ে পড়ে একদা সমৃদ্ধিশালী গ্রাম অ্যালউইন।

অ্যালউইন গ্রামে এখন সাকল্যে ২০ বাসিন্দা নিয়ে কোনোমতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। জার্মানি সরকারও গ্রামের উন্নয়নে সেভাবে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে নিভৃতে অনাদরে পড়ে আছে এই গ্রাম অ্যালউইন ও গ্রামের বাসিন্দারা!

Advertisements
Loading...