ভিসিকে অবরুদ্ধ করে ৪ শিক্ষার্থীর জন্য ২৫ লাখ করে ক্ষতিপূরণ আদায় করলো কুয়েটের শিক্ষার্থীরা!

ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস লাইন দুর্ঘটনায় নিহত কুয়েটের ৪ শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস লাইন দুর্ঘটনায় নিহত কুয়েটের ৪ শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ভিসিকে অবরুদ্ধ করে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ আদায় করলো কুয়েটের শিক্ষার্থীরা!

যদি দাবিগুলো কুয়েট কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়াদা মাফিক পূরণ করে থাকেন তাহলে সত্যিই এটি নজির হয়ে থাকবে। সহপাঠীদের পরিবারের জন্য কুয়েটের শিক্ষার্থীরা অনশন করে সেই নজির স্থাপন করলেন। এমন নজির খুব কমই দেখা যায়। গত ২৪ মার্চ রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস লাইন দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণাত এক জন ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ণ উইনিটে আরও তিন জন মারা গেলে নিহত কুয়েটের ৪ শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ভিসিকে অবরুদ্ধ করে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য দাবি করেন কুয়েটের শিক্ষার্থীরা। যে কারণে শুক্রবার রাতে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা অবরোধ শুরু করে। এরপর গতকাল (শনিবার) সারাদিন অনশন করে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা। সারাদিন অভুক্ত থেকে সহপাঠীদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতার এক দৃষ্টান্ত দেখালো কুয়েটের শিক্ষার্থীরা। অবশেষে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যর উপস্থিতিতে ভিসি এই প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর কুয়েটের শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে তাদের অবরোধ তুলে নেয়। এদিকে কুয়েট কর্তৃপক্ষ তিন দিন শোক ঘোষণা করেন। আজ (রবিবার) তিন দিনের শোকের শেষ দিন ছিল।

যে চার শিক্ষার্থী পড়ালেখার শেষ পর্যায়ে এসে জীবন দিলেন তাদের পারিবারিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অনেক কষ্ট করে এইসব মেধাবী শিক্ষার্থীরা কুয়েটে পড়ালেখা করছিল। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জে দাফনের জন্য গিয়ে শাহীনের পরিবারের দুরাবস্থা দেখে শিক্ষার্থীরা মর্মাহত হন। যে কারণে ভাগ্যাহত নিহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কুয়েটের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের তারা উদ্বুদ্ধ করেন।

মাননীয় সংসদ সদস্য ও কুয়েট সিন্ডিকেটের উপস্থিতিতে যে ঘোষণা গুলো আসে তা হলো:

১. প্রতিটি পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে ২৫ লাখ করে দেওয়া হবে। ১০ লাখ কনভোকেশন এর দিন (৪ তারিখে কনভেশন) ,বাকি ১৫ লাখ টাকা আগামী এক মাসের ভিতরে।

২.টেক্সটাইল ডিপার্টমেন্ট এর তিনজন প্রতিনিধিসহ মাননীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কনভোকেশন এর দিন রাষ্ট্রপতির কাছে সাহায্য চাওয়া হবে এবং ওইদিনই ঘোষণা আশা করা হচ্ছে।

৩. টেক্সটাইল ডিপার্টমেন্ট এর তিনজন প্রতিনিধিসহ মাননীয় সংসদ সদস্য এবং ভিসি স্যার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরর কাছে সাহায্য চাওয়ার জন্য যাবেন।

৪.বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে।

৫. প্রত্যেকের পরিবার থেকে যোগ্যতা অনুযায়ী একজন করে চাকরি দেওয়া হবে যদি তাদের ইচ্ছা থাকে।

৬.কনভোকেশন এর দিন শোক প্রস্তাব এবং নীরবতা পালন করা হবে।

৭.কনভোকেশন এর পরের দিন বৃহস্পতিবার দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে কনভোকেশনের প্যান্ডেলেই। সেখানে নিহত ভাইদের পরিবারের সদস্যরাও থাকবেন।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের ভালুকায় এক ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে কুয়েটের এক শিক্ষার্থী নিহত ও তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বার্ণ উইনিয়ে ভর্তি করা হলে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার খাস সাতবাড়ি গ্রামের শাহীন মিয়া গত ২৮ মার্চ দিবাগতরাতে মারা যায়। তাকে পরদিন ২৯ মার্চ রাতে নিজ বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়। এই সময় কুয়েটের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন। শিক্ষার্থীরা কুয়েটের ২টি বাসযোগে সিরাজগঞ্জে এসে উপস্থিত হন। শাহীনের দাফনের পর শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন (রাত দেড়টার দিকে) আরেক শিক্ষার্থী নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ফিটগ্রামের মো. হাফিজুর রহমান (২৩) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। কুয়েটের এই দলকি সিরাজগঞ্জ হতে ভোরে ঢাকা মেডিক্যালে আসেন। এই সময় তারা জানতে পান (শুক্রবার সকালে ৩০ মার্চ) অপর শিক্ষার্থী মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দীপ্ত সরকার (২৩) মারা গেছেন। এরপর শিক্ষার্থীরা চার শিক্ষার্থীর জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। একই দিন রাতে শিক্ষার্থীরা কুয়েটে ফিরে এসে আন্দোলন শুরু করে।

ছবি: ওয়াসিফ ইয়ামিন

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...