সাগরের তলে বিশ্বের বৃহত্তম গুহা আবিষ্কার!

প্রাগৈতিহাসিক কালের এই গুহাটি দোস ওহোস নামে ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অপর একটি গুহার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গবেষকদের গবেষণার যেনো শেষ নেই। বহু যুগ ধরে গবেষণা করা হচ্ছে সাগরের নীচের বৈচিত্রময় পরিবেশ নিয়ে। গহীন সাগরের তলে আবারও বিশ্বের বৃহত্তম গুহা আবিষ্কৃত হয়েছে!

গহীন সাগরতলে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং বৃহত্তম গুহার সন্ধান মিলেছে। এই বৃহত্তম গুহার নাম সাক আতুন। এটি মেক্সিকোতে অবস্থিত। এটি লম্বায় ৩৪৭ কিলোমিটার। প্রাগৈতিহাসিক কালের এই গুহাটি দোস ওহোস নামে ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অপর একটি গুহার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম দিকে মেক্সিকোর টুলুম বিচ রিসোর্টের কাছে এই গুহার সন্ধান পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, অসংখ্য পার্শ্ব-সুড়ঙ্গ থাকার কারণে এটি ডুবুরিদের কাছে এক ধরনের গোলকধাঁধার মতোই। প্রথমে এটিকে দুটি পৃথক সুড়ঙ্গ হিসেবে মনে করা হয়। পরে সুদক্ষ ডুবুরি ও বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে প্রমাণ হয় যে, প্রকৃতপক্ষে এটি একটি গুহারই অংশ। অনেকেই মনে করছেন, প্রাচীন মায়ান শহরগুলো মাটির তলার এই সুড়ঙ্গ দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এর মাধ্যমে শহরের বাসিন্দারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগও করতেন।

এই গুহাটির অবস্থান হলো পূর্ব মেক্সিকোর কোয়ান্টানা রু রাজ্যের টুলুম শহরের নিকটে। এর নামকরণ করা হয় সাক আতুন। গ্রান অকুইফারো মায়া প্রজেক্টের অধীনে চালানো এক অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই গুহার খোঁজ পাওয়া যায়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির সন্ধান এবং সংরক্ষণ বিষয়ে গবেষণা করা হয়। ইউকাটান উপদ্বীপ অঞ্চলের পানির তলার জগৎ পর্যবেক্ষণ এবং সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় কাজ করা হয়। কিছুদিন কাজ করার পর প্রথম দিকে অনুসন্ধানী দলটি মাটির নিচে কয়েকটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পান। এরপর ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, এগুলো ৩৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ-গুহারই অংশ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

ওই অনুসন্ধানী দল যখন প্রথমে গুহাটির মাপ শুরু করে তখন সাক আতুনের দৈর্ঘ্য দেখা যায় ২৬২ কিলোমিটার। ওই সময় ডুবুরিরা এর পাশেই আরেকটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পান যার দৈর্ঘ্য ছিলো ৮৫ কিলোমিটারের মতো। এই সুড়ঙ্গটি মূলত দোস ওজোস নামে পরিচিত। প্রথমে তারা দুটি পৃথক টানেল মনে করলেও পরে বুঝতে পারেন যে আসলে একটি গুহারই অংশ।

ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক এবং আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজিস্ট জুয়েরিলামো ডি এন্ডা বলেছেন, দোস ওজোস আদতে সাক আতুন গুহারইই অংশ। এই আবিষ্কার মায়াসভ্যতা হতে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের সময়কার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে বলে আমর মনে করছি।

Advertisements
Loading...