দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অনেকেই রাতে ফল খেতেই চান না। তাদের ধারণা, রাতের বেলায় ফল খেলে নাকি পেটের সমস্যা হয়। এমনকী শরীরের হাল নাকি হতে পারে বেহাল। তবে এই কথার পিছনে কী কোনও রকম যুক্তি রয়েছে? নাকি গোটা বিষয়টিই মিথ্যা?
সাধারণ আমাদের পরিচিত প্রায় সব ফলই ভিটামিন এবং খনিজের আঁতুড়ঘর। সেইসঙ্গে এগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। যে কারণে ফল খেলে অনায়াসে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি মিটিয়ে ফেলা যাবে। এমনকী দূরে থাকে একাধিক জটিল অসুখও।
তবে এমন উপকারী একটি উদ্ভিজ্জ খাবার নিয়েও মানুষের মনে রয়েছে নানা ভুল ধারণা। যেমন, অনেকেই মনে করেন রাতে ফল খাওয়া নাকি মোটেও উচিত নয়। এই কাজটি করলে আদতেও শরীরের হাল বিগড়েও যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, এই কথার পিছনে কী কোনও যুক্তি রয়েছে? আসলেও কী রাতে ফল খাওয়া শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর? নাকি এই ধারণা মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়? এই বিষয়ে বিশদে জানতে যোগাযোগ করা হয় কলকাতা শহরের বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরির সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন তার মতামত।
রাতে ফল খাওয়া কী আদতেও ক্ষতিকর?
এই প্রশ্নের উত্তরে কোয়েল পাল চৌধুরি জানিয়েছেন, অনেকেই মনে করেন যে, রাতে ফল খেলে বোধহয় শরীরের বড়সড় ক্ষতি হয়ে যায়। তবে এই ধারণার কোনও রকম সারবত্তা নেই। রাতে ফল খেলে তেমন কোনও শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে অনেকের আবার সন্ধের পর ফল খেলে অ্যাসিডিটি হয়ে থাকে। তাই যাদের এই ধরনের সমস্যা হয়, তারা রাতে ফল খাওয়া এড়িয়ে চলতে পারেন। বাদবাকি সকলেই চাইলে রাতে ফল খেতেই পারেন।
এই ফল এড়িয়ে চলুন
যারা রাতের দিকে ফল খেতে চাইছেন, তারা অবশ্যই লেবু এড়িয়ে চলতে হবে। এইক্ষেত্রে কমলালেবু, বাতাবিলেবু থেকে শুরু করে এই ধরনের লেবু খেতেই বারণ করা হচ্ছে। কারণ হলো, লেবু জাতীয় ফলে থাকে মাত্রাতিরিক্ত অ্যাসিড। এই অ্যাসিড পাকস্থলীর হালও বিগড়ে দিতে পারে। যে কারণে পিছু নিতে পারে ভয়াবহ নানা পেটের সমস্যা। তাই চেষ্টা করুন রাতের বেলায় সব ধরনের লেবু জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার জন্র।
ফল খাওয়ার আদর্শ সময় তাহলে কোনটি?
উপকার পেতে চাইলে সন্ধের পূর্বেই ফল খেয়ে নিতে পারেন। তবে কোনও মতেই খালি পেটে এই খাবার খাওয়া যাবে না। তাতে পেটের সমস্যাও হতে পারে। এমনকী পেট ভরে খাবার খাওয়ার পরও খাওয়া যাবে না ফল। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org