ইন্টারনেট ব্ল্যাক হোল: ইন্টারনেটের অজানা এক অধ্যায়

ইন্টারনেটেও ব্ল্যাক হোল রয়েছে আর একে বলা হচ্ছে ইন্টারনেটের ব্ল্যাক হোল

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আপনারা তো সবাই মহাকাশের ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে কমবেশি জানেনই, আপনি ইন্টারনেটে যেখানে সেখানে এই ব্ল্যাক হোলের স্বীকার হতে পারেন। তবে নিশ্চয়ই এই ব্ল্যাক হোল আপনাকে টেনে নেবে না, তবে আপনার স্মার্টফোন,কম্পিউটার ইত্যাদি ডিভাইস থেকে আসা যাওয়া করা ডাটা নিজের ভেতর টেনে নিতে পারে।

Black Hole এর জন্মঃ নক্ষত্র যখন তার জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে তখন নক্ষত্র গুলো সংকুচিত হতে থাকে। সাধারনত গ্যালাক্সি গুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে সুপারনোভা বিস্ফোরনের মাধ্যমে ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে।নক্ষত্র গুলো অনেক বেশি সংকুচিত হয়েই ব্ল্যাক হোলের জন্ম দেয়। কিন্তু সেই সংকুচিত হওয়ার মাত্রা কতটুকু? তা শুনে অবাক হবেন। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যের ব্যাসর্ধ প্রায় ৬.৯৬০০০০০কিলোমিটার। এই বিশালাকার আয়তনকে যদি কোনোভাবে মাত্র ১০ কিলোমিটারে(!) নামিয়ে আনা যায়, তাহলে সেটি একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে। আর আমাদের পৃথিবীকেই যদি চেপেচুপে মাত্র দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটার(!) বানানো যায়, তাহলে পৃথিবীও একটি ক্ষুদে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে। ব্ল্যাক হোল হওয়া তাহলে সোজা ব্যপার না তাই না?
আকর্ষন করার ক্ষমতার এলাকা ব্ল্যাক হোল থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই ব্ল্যাক হোলটির মহাকর্ষীয় আকর্ষন দ্বারা তাকে পিছনে নিয়ে আসে। সব কিছু নিজের দিকে টেনে নেয়.
যেহেতু আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না তাহলে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ত কিভাবে দেখা যায় বা বুঝা যায়? মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময়েই মহাকাশে প্রচুর তারকারাশি দেখা যায় যারা একটি বিশেষ বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে অথবা সর্পিলাকার গ্যাসীয় বস্তু দেখা যায় যা কোন বিন্দুকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছে। এই বিশেষ বিন্দুগুলোই হল ব্ল্যাক হোল যেগুলোকে দেখা যাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে তারকারাশি বা গ্যাসীয় বস্তুগুলোর অবস্থান আর তাদের গতি-প্রকৃতির মাধ্যমে। ব্ল্যাক হোল এর থেকে নিঃর্গত চোম্বকিয় তরঙ অতিমাত্রায় কৃষ্ণকায় হওয়ার দরুণ ব্ল্যাক হোল আমাদের কাছে অদৃশ্য বটে কিন্তু এর থেকে নিঃসরিত বিকিরণ জনিত শক্তি প্রতিনিয়তই নির্ণেয়মান।

ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে এখনো বিজ্ঞানিরা অনেক কিছু জানতে পারে নি। তাই এটি এখনো রহস্য।
তবে আপনি কি কখনও ইন্টারনেটের ব্ল্যাক হোল এর নাম শুনেছেন? হ্যাঁ ইন্টারনেটেও ব্ল্যাক হোল রয়েছে আর একে বলা হচ্ছে ইন্টারনেটের ব্ল্যাক হোল।

ইন্টারনেটেও ব্ল্যাক হোলঃ সময়টা ১৯৯১, যখন ইন্টারনেট এতটা উন্নত না ; তবে কোনোরকম ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইমেইল ব্যবহার করা যেত। তখন নাসা তাদের স্পেস স্যাটেল উত্তোলন নিয়ে পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত ছিল, এসময় নাসা সদর দপ্তর থেকে নিয়োজিত বিজ্ঞানীদের নিকট ইন্টারনেট মারফত নতুন একটি প্ল্যান ইমেইল করে পাঠানো হয়। তবে উত্তোলন এর দিন দেখা যায় যে, বিজ্ঞানীরা এই প্ল্যান বিষয়ে কিছুই জানেনই না। পরে জানা যায় যে, তাদের কাছে ফাইনাল ইমেইল টা যায়ইনি। তবে তখন টেকনিক্যাল ফল্ট মনেকরে তারা এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশি মাথা ঘামায় নি।
তবে ২০০২ সালে তারা আবার এরকম একটি ইনফরমেশন গায়েব এর স্বীকার হয়। তারপর অ্যামরিপ্রাইজ ফাইন্যান্সিয়াল নামক একটি কোম্পানির ৩ লক্ষ গ্রাহকের ডাটা সার্ভার থেকে গায়েব হয়ে যায়।
তারপর ব্যাপারটি নিয়ে বড় বড় মহলের টনক নড়ে, এ নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় যে কে বা কারা অথবা কোথায় এই ডাটাগুলো যাচ্ছে তা সম্পর্কে কিছুই জানা যাচ্ছে না।

ধারনা করা হয় যে, রহস্যময় কোনো দল তথা হ্যাকার গ্রুপ কোনো এক গোপন স্হান থেকে এসব ডাটা গায়েব করছে। যাই হোক, যেহেতু ইন্টারনেট ব্ল্যাক হোল এর আসল তথ্য কেউ জানে না, তাই এটা আজও ইন্টারনেটের অন্যতম অজানা রহস্য।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...