নি:শ্বাস পরীক্ষা করে শনাক্ত করা যাবে ক্যান্সার!

চিকিৎসকরা শুরুতেই নির্ধারণ করতে পারবেন ওই রোগীর আরও বিশদ পরীক্ষানিরীক্ষার দরকার রয়েছে কি না

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ চিকিৎসা বিজ্ঞান ক্রমেই এগিয়ে চলেছে। এবার এমন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করা হয়েছে যে, নি:শ্বাস পরীক্ষা করেই শনাক্ত করা যাবে ক্যান্সার!

চিকিৎসকরা এবার এমন নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যা কেবল নি:শ্বাস পরীক্ষা করেই ক্যান্সার শনাক্ত করা যাবে। নতুন এই আবিষ্কারটি এখনও প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এক পরীক্ষার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজের ক্যান্সার গবেষকরা দেখতে চেয়েছেন যে, কেবলমাত্র নি:শ্বাসের অনুসমূহ পরীক্ষা করে কয়েক ধরণের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় কি না।

এই পদ্ধতিটি যদি সফল হয়, তাহলে চিকিৎসকরা শুরুতেই নির্ধারণ করতে পারবেন ওই রোগীর আরও বিশদ পরীক্ষানিরীক্ষার দরকার রয়েছে কি না।

গবেষকরা সে কারণে তারা ১৫শ` মানুষের নি:শ্বাসের নমুনা সংগ্রহ করবেন, এর মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীও থাকবে। নি:শ্বাস ছাড়াও একজন ব্যক্তির রক্ত এবং মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমেও ক্যান্সারের প্রাথমিক ধাপ শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

যে কারণে ক্যান্সারে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে যাবে। তবে এই পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য আরও অন্তত পক্ষে ২ বছর অপেক্ষা করতে হবে। চিকিৎসকরা বলেছেন যে, এই পরীক্ষা জেনারেল ফিজিসিয়ানের মতো সাধারণ জায়গায় হওয়ার সম্ভাবনা কম।

কীভাবে কাজ করবে এই পরীক্ষাটি?

বলা হয়েছে যে মানুষের শরীরের কোনো কোষে কোনে রকম প্রাণ-রসায়নিক পরিবর্তন ঘটলে সেটি নি:শ্বাসে ভোলাটাইল অরগ্যানিক কমপাউন্ডস নামে এক ধরণের অনু নি:সৃত হয়ে থাকে।

তবে যদি তাতে ক্যান্সার কিংবা অন্য কোনো রোগের আভাস থাকে, সেক্ষেত্রে কোষের স্বাভাবিক ধরণে পরিবর্তন দেখা যায় এবং ভিন্ন ধরণের অনু তৈরি করে। আবার গন্ধের মাধ্যমেও ভিন্ন বার্তা পাঠায় মস্তিষ্কে।

নিঃশ্বাসের বায়োপসি করার মধ্যদিয়ে নি:শ্বাস পরীক্ষা করে মুখের গন্ধের এই প্রক্রিয়াটি চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন গবেষক দল।

এই পরীক্ষা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কতোটুকু?

আবিষ্কৃত নতুন এই পদ্ধতিটি মাত্র পরীক্ষা করে দেখা শুরু হয়েছে। যে কারণে এর সফলতা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে হলে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে- বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু যে পদ্ধতির মাধ্যমে এই পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে নতুন কিছু নয়। কয়েক বছর ধরে পৃথিবীর অনেক গবেষকই বিশেষ করে ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করার জন্য এটি ব্যবহার করছেন। ইতিমধ্যেই নি:শ্বাস পরীক্ষা করে ক্যান্সারের আগের ধাপ শনাক্তে কিছুটা অগ্রগতিও দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কাদের ওপর পরীক্ষা চালানো হলো?

ইতিমধ্যেই যেসব মানুষের পাকস্থলীতে ক্যান্সার হওয়ার পর প্রোস্টেট, কিডনী, ব্লাডার, লিভার ও প্যানক্রিয়াসে তা ছড়িয়ে পড়েছে- এমন মানুষের একটি অংশ এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ানো হয়েছে। আবার এদের বাইরেও সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষরা অংশ নিচ্ছেন এই গবেষণাতে।

ক্যামব্রিজের অ্যাডেনব্রুক হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগীদের একটি মুখোশের মধ্যে ১০ মিনিট ধরে নি:শ্বাসের নমুনা দেবার অনুরোধ করেন, যাতে সেটা গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যায়। গবেষকেরা বলেছেন, ক্যান্সার যতো দ্রুত শনাক্ত করা যায় ততোই মঙ্গল, তাতে চিকিৎসা শুরু করা যায় খুব তাড়াতাড়ি।

এই আবিষ্কারের ফলে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যয় কী কমবে?

এক অর্থে ধরতে গেলে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যয় কমবে। কারণ হলো কারো শরীরে যদি ক্যান্সারের আভাস আগে থেকেই পাওয়া যায়, সেটি যদি আগে থেকেই শণাক্ত করা যায়, তাহলে খুব দ্রুত তার চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। যে কারণে ব্যয়ও কমে আসবে তাতে সন্দেহ নেই।

একটি মাত্র খুব সাধারণ পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব হলে সেটি পরবর্তী ধাপগুলোতে খরচের ক্ষেত্রে সাশ্রয় হবে।

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিপূর্বে অর্থাৎ গত বছর জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল, একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলো।

তবে ওই পরীক্ষায় ৫০০ ডলারের মতো খরচ পড়ে। তবে তার তুলনায় এই পরীক্ষাতে খরচ কম হবে বলে মনে করা হলেও এই বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়নি।

Advertisements
Loading...