খোদ রাজধানীতে উচ্ছিষ্ট খাবারের হাট!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলে দেয়ার কথায় সাধারণতভাবে শোনা যায়। কিন্তু এই উচ্ছিষ্ট খাবার আবার হাট বসিয়ে বিক্রি হয় এমন কথা মনে হয় কেও শোনেনি। কিন্তু এখন তাই হচ্ছে!

leftovers Food

প্রতি রাতে ১১টা কি সাড়ে ১১টা বাজতে দেরি, বাজার বসতে দেরি নেই। ৩০ থেকে ৩৫ জন দোকানি খাবারের পসরা নিয়ে বসে পড়েন হাটে। ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে হাটের বিকিকিনি। দিনের আলো ফুটতে না ফুটতেই হাট শেষ। রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের হেলেনা সেন্টারের নিচে এই হাট শহরের অন্যান্য হাট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে প্রতিরাতে বসে উচ্ছিষ্ট খাবারের হাট। রাস্তার নিয়ন আলোয় বসা এ হাটে প্রায় সারা রাতই চলে কমবেশি কেনাবেচা। এ খবর ছেপেছে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।

নিত্যরাতে এ হাট বসলেও সপ্তাহের বুধ, বৃহস্পতি এবং শুক্রবার এ হাট থাকে রমরমা। অন্য রাতগুলো চলে গড়পরতা। উচ্ছিষ্ট খাবারের হাট হলেও এখানকার দোকানগুলোতে খাদ্যের রকমভেদ চোখে পড়ার মতো। কোনো দোকানি বিক্রি করছেন চিকেন বিরিয়ানি তো আরেক দোকানির কাছে পাওয়া যাচ্ছে কাচ্চি বিরিয়ানি। এ ছাড়াও পোলাও, খাসির মাংস, গরুর মাংস, ফিরনিসহ গুরুপাক বিভিন্ন অভিজাত খাবারের প্রায় সব প্রকারই মেলে এ হাটে!

টুকরিতে করে প্রায় একই ধরনের রকমারি খাবার নিয়ে হেলেনা সেন্টারের নিচে বসে পড়েন দোকানিরা। ভোর পর্যন্ত চলে তাদের খাবার বেচা। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ইস্কাটন রোড দিয়ে যাওয়ার সময় হেলেনা সেন্টারের নিচে কিছু লোকের ভিড় দেখে এগিয়ে যেতেই যে দুজন খাবার নিয়ে বসেছিলেন তারা উঠে দাঁড়ালেন। ভয় পেয়ে কিছুটা দূরেও সরে গেলেন। ছবি তুলতে চাইলে আরও পিছিয়ে গেলেন। পরে অভয় পেয়ে কাছে আসার পর কথা হলো। তাদের একজনের নাম মো. শাহ আলম (৪২) অন্যজন মো. রাসেল মিয়া (৩১), এই দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে বিয়ে, গায়ে হলুদ, জন্মদিনের আয়োজনে বিভিন্ন ডেকোরেটরের হয়ে থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করে থাকেন তারা। এসব অনুষ্ঠানের খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ সংগ্রহ করে পরে এই হাটে নিয়ে আসেন।

পত্রিকার ওই খবরে আরও বলা হয়, প্রতিদিন কত বিক্রি হয় জানতে চাইলে মো. শাহ আলম বলেন, যেদিন ফ্রেশ খাবার পাওয়া যায় সেদিন চার-পাঁচশ টাকা বিক্রি হয়। তাছাড়া কোনো কোনোদিন তিনশ, সাড়ে তিনশ টাকা বিক্রি হয়। ফ্রেশ খাবার কোনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না খাওয়া খাবার। এসব অনুষ্ঠানে অনেক খাবার বাড়তি হয়। অনেকেই সেগুলো আমাদের দিয়া দেয়। তবে প্রতিদিন খাবার পাওয়া যায় না। শাহ আলম জানান, পাঁচ বছর ধরে তিনি এ হাটে খাবার বিক্রি করছেন। এ হাটে ক্রেতা সম্পর্কে তিনি জানালেন, সিএনজি চালক, রিকশা চালক, ভ্যান চালক, নাইট গার্ড, চা-সিগারেট বিক্রেতাদের কাছে তারা এ খাবার বিক্রি করে থাকেন। খাবারের দাম ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা। যে যতটুকু খেতে পারে সে অনুযায়ী দাম রাখা হয়।

গত দুই বছর ধরে খাবারের এ হাটে দোকান নিয়ে বসেন মো. রাসেল। তিনি বলেন, ‘অনেক সাংবাদিকও গাড়ি থামায়া খাবার খায়। তবে ফ্রেস খাবার থাকলে খাইতে দেই, না হয় দেই না। তারা কি আর খাওয়া খাবার খাইব’।

রাসেল জানান, খাবার বিক্রি কম হলে অনেক দোকানিই রাস্তার মানুষদের তা দিয়ে চলে যান। প্রতিদিন অনেক পথশিশুও আসে খাবার নিতে। যেদিন কেওই না আসে সেদিন তারা ডাস্টবিনে খাবার ফেলে দিয়ে যান। হেলেনা সেন্টারের পাশেই মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের বুথ। এই বুথের নিরাপত্তা রক্ষী জানান, ভালো খাবার দেখলে তিনিও এদের কাছ থেকে খাবার কিনে খান। তার ভাষায় ‘নিম্ন শ্রেণীর লোকেরাই এখানে আসে।’

কিছুক্ষণ আগেই ১৫ টাকার পোলাও-মাংস খেয়েছেন রিকশাচালক সোবান মিয়া। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সুযোগ পাইলে এইখানে আইসা খাইয়া যাই। খাবার গরম থাকলে অনেক তৃপ্তি করে খাওয়া যায়। তেলের খাবার তো, না হয় খাওয়া যায় না।’

এখনও এই জামানায় এসে এমন খবর সত্যিই আমাদের বিস্মিত করে। এখনও সমাজে এমন পরিস্থিতি রয়েছে যে, অঢাল খাবার তৈরি করে মেহমানদারী করা হয়। আবার এই খাবার অনেকেই চোখে দেখেন না। আবার এমনও দেখা যায় কেও না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। এমন সমাজ কি আমাদের কাছে কাম্য? কেও রাজপ্রাসাদে টাকার ওপর শুয়ে ঘুমাবেন আর কেও টাকার অভাবে না খেয়ে থাকবে এটাকি কারো কাম্য হতে পারে?

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...