The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

নারায়ণগঞ্জের আকাশ বিশ্বখ্যাত ‘ল্যাম্বরগিনি’ গাড়ি তৈরি করলেন!

পুরো গাড়িটি এ অবস্থায় দাঁড় করাতে গিয়ে তার ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম দেখায় বিশ্বাস না করলেও সব শুনে নিজের কাছেই অবাক লাগে আকাশ আহমেদের গাড়ি বানানোর ঘটনা দেখে। কারণ পুরোপুরি নিজের হাতে ‘ল্যাম্বোরগিনির’ আদলে গাড়ি তৈরি করেছেন ফতুল্লার লামাপাড়ার সন্তান আকাশ আহমেদ।

নারায়ণগঞ্জের আকাশ বিশ্বখ্যাত ‘ল্যাম্বরগিনি’ গাড়ি তৈরি করলেন! 1

আকাশ এই গাড়ি তৈরি করতে পুরোপুরিভাবেই দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এক কথায় বলা যায় এক অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন আকাশ।

প্রথম দেখায় বিশ্বাস না করলেও সব শুনে নিজের কাছেই অবাক লাগে আকাশ আহমেদের গাড়ি বানানোর ঘটনা দেখে। কারণ হলো পুরোপুরি নিজের হাতে ‘ল্যাম্বোরগিনির’ আদলেই গাড়ি তৈরি করেছেন ফতুল্লার লামাপাড়ার সন্তান আকাশ আহমেদ।

গাড়ি বানানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আকাশ জানিয়েছেন, জাহাজ কাটার অভিজ্ঞতা হতে ইস্পাতের পাত কেটে কেটে গাড়ির বডির শেপ তৈরি করেছেন তিনি। প্রথমে ল্যাম্বোরগিনির আদলে গাড়ির নকশা প্রণয়নও করা হয়। নির্মাণ, জোড়াতালি সবই নিজের হাতে করেছেন আকাশ।

আকাশ বলেছেন যে, ‘গাড়ির চাকা ও স্টিয়ারিং হুইলটাই কেবল কিনে আনা হয়েছে। বাকি সব কিছুই আমার নিজের হাতে তৈরি। চাকার সাসপেশন, হেডলাইট, ব্যাকলাইট, গিয়ার নিজের হাতে তৈরি করেছি আমি নিজেই। যা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য মনে নাও হতে পারে। প্রায় দেড় বছরের টানা প্রচেষ্টার পর সেটি পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে পরিণত হয়েছে।’

আকাশ আরও জানায়, গাড়িটিতে প্রায় ৫টি ব্যাটারি লাগানো হয়েছে। যা প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম। এই ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে সময় লাগবে ৫ ঘণ্টা। দু’জন আরোহী নিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারবে এই গাড়ি। পুরো গাড়িটি এ অবস্থায় দাঁড় করাতে গিয়ে তার ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে গাড়ির বডি কার্বন ফাইবারে নিয়ে আসলে ৩ লাখ টাকাতেও বানানো যাবে।

আকাশ জানিয়েছেন, ‘গাড়ি নির্মাণের এই দেড় বছরে প্রতিনিয়তই নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেকটা অনুমাননির্ভর করেই পাড়ি দিতে হয়েছে অধিকাংশ সময়। তবে লক্ষ্য ছিল একটাই। সে কারণে আমি গাড়িটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। ছোটবেলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেহেতু শুরু করেছি তাই শেষ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাও করেছিলাম। ঈদের ছুটিতে গাড়িটি নামানোর পরেই অসাধারণ সাড়া পেয়েছি। কেও কেও হিংসায় বাজে মন্তব্যও করেছে, তাতে আমি পাত্তা দিইনি। নিজের তিল তিল করে গড়া পরিশ্রমেই তৈরি করেছি এই গাড়িটি। তবে আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জের আকাশ বিশ্বখ্যাত ‘ল্যাম্বরগিনি’ গাড়ি তৈরি করলেন! 2 নারায়নগঞ্জের জেলা প্রশাসক বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে আকাশের গাড়িতে ওঠেন

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে অবস্থিত অটোরিকশা ওয়ার্কশপে তৈরি হয়েছে আকাশের এই গাড়িটি। এটি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে চলতে পারবে। ছোট থেকেই আকাশের শখ ছিল নিজের তৈরি গাড়িতে সে চড়বে। যেখানে আজ অবধি কোনো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দাঁড়াতেই পারেনি, সেখানে ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার কিশোরের স্বপ্নকে তখন অনেকেই
কোনো গুরুত্বই দেননি। অবশেষে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে মো. নবী হোসেনের পুত্র আকাশ আহমেদ। তার স্বপ্নের শুরু হয়েছিলো দেড় বছর আগে। অটোরিকশা নির্মাণের গ্যারেজ থেকে বডি তৈরি করতে করতে একসময় আকাশ বাবার কাছে প্রস্তাব দেয় গাড়ি বানাবে সে।

আকাশের বাবা নবী হোসেন না করতে গিয়েও চিন্তা করেন যে- ছেলেটাই সবচেয়ে বেশি কাজ করে এই ওয়ার্কশপে। না করলে হয়তো কাজে আর মনই দেবে না। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছেলেকে অনুমতি দিয়েছিলেন গাড়ি নির্মাণের। সেই থেকেই যাত্রা শুরু তার। ক্যালেন্ডারের পাতায় ইতালির বিখ্যাত গাড়ি প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বোরগিনি গাড়ির মডেল দেখেই সেটিকে অনুসরণ করে সামনের দিকে এগোতে থাকে সে। বাবার কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০/২০০ করে টাকা নিয়ে অল্প অল্প করে কাজ শুরু করে দেয় আকাশ। ইউটিউব হতে টিউটোরিয়ালও ফলো করে আকাশ।

আকাশ আহমদের বাবা নবী হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে এই গাড়ি বানিয়েছে এটা এখনও এলাকার অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। আমি তাদেরকে বলিও না তারা বিশ্বাস করুক। তবে আমার ছেলের ওপর হিংসা করে তার ক্ষতি যাতে না করে এই অনুরোধ রাখছি সকলের প্রতি। অনেকেই এসে বিরক্তও করে ছেলেকে। যেমন সম্প্রতি একজন জোর করে গাড়ি চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে সামনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্তও করে ফেলেছে। ছেলে দুই দিন ধরে কষ্টে খায়নি কিছুই। আবার গাড়ি খুলে সেটি মেরামত করতে হবে। শুধু অনুরোধ করি, ছেলের গাড়িটা অনেক শখের একটি জিনিস। কেও যাতে এসে বিরক্ত না করে তাকে।’

গাড়িটি নিয়ে পরবর্তী লক্ষ্য কী জানতে চাইলে আকাশ আহমেদ বলেছেন, ‘আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করবো যাতে আমাকে গাড়িটি বাজারজাত করার অনুমতি দেওয়া হয়। আমি অন্য কারও কাছে এই গাড়িটির নকশা বিক্রি করতে চাই না। শুধুমাত্র অনুমতি দিলেই আমার জন্য অনেক বড় সুবিধা হবে।

ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব এই গাড়িটি দেখে আকাশ আরও ২৫টি গাড়ি তৈরির অর্ডারও পেয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাজারজাত করলে ৪ হতে সাড়ে ৪ লাখ টাকাতেই আমাদের দেশের মানুষ পরিবেশবান্ধব এই গাড়িটি ব্যবহার করতে পারবেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...