The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় সমূহ

হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্ত চাপকে অনেকেই নিরব ঘাতক নামে আখ্যায়িত করেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানুষের শরীরে রক্তের চাপ যখন স্বাভাবিকের থেকে ঊর্ধ্বে থাকে তখন তাকে আমরা উচ্চ রক্তচাপ বলি। তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি একটি বিষয়। আজ জেনে নিন উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় সমূহ।

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় সমূহ 1

আমাদের মধ্যে অনেকেই এটিকে হাইপারটেশন নামেও জেনে থাকি। আমাদের এই হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্ত চাপকে অনেকেই নিরব ঘাতক নামে আখ্যায়িত করেন। উচ্চ রক্ত চাপ বা হাইপারটেশন আমাদের কাছে খুবি পরিচিত একটি রোগের মদ্ধ্যে অন্যতম। কাজের চাপ, মদ্যপান, পরিবারের আকার, অতিরিক্ত আওয়াজ, কোলাহল পরিবেশে থাকা, শরীরে অতিরিক্ত লবণ গ্রহন করানো, শরীরে মেদ বেশি অথবা মেদ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারনে আমাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপের ঝুকি বেড়ে যায়। আমাদের সঠিক জীবন ব্যবস্থার জন্য আমাদের অবশ্যই উচ্চ রক্তচাপের ঝুকি থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে হবে। আমাদের জীবন জাত্রার মধ্যে কিছু পরিবর্তনের দ্বারা আমরা খুব সহজেই উচ্চ রক্ত চাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কিছু সহজ নিয়ম।

সঠিক খাদ্য নির্বাচন

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্য আমাদের শরীরে একটি বিশেষ ভুমিকা পালন করে থাকে। আমাদের অবশ্যই অতিরিক্ত তেল পরিহার করতে হবে। খাবার গ্রহনের সময় অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে যে আমাদের নির্বাচিত খাবার যাতে কম কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার হয়। রান্নার ক্ষেত্রে আমাদের বেশি তেল পরিহার করতে হবে। নিয়মিত আটার রুটি ও সুজির খাবার খাওয়া খুবি উপকারি। আমাদের বেশি পরিমানে আঁশ যুক্ত খাবার গ্রহন করতে হবে। আঁশ যুক্ত খাবার আমাদের রক্ত চলাচলে সাহায্য করে থাকে। সয়াবিন, ক্যানোলা, ভুট্টার তেল অথবা সূর্যমুখীর তেল ইত্যাদি তেল আমরা সঠিক মাত্রায় গ্রহন করতে পারবো।

নিয়মিত শরীরচর্চা

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ও আমাদের শরীরের নানান রোগ প্রতিরধে নিয়মিত ব্যায়াম এর কোন জুড়ি নেই। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আমাদের সকলেরই সকাল অথবা সন্ধ্যা নিয়ম করে হাটতে হবে। এ ক্ষেত্রে সম্ভব হলে দৌড়াতে হবে যা হাটা থেকে আরো অধিক উপকারী। আমাদের নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই কোন এক্সপার্ট এর পরামর্শ গ্রহন করতে হবে। বাসাবাড়ি অথবা অফিসে চলাচলের সময় আমাদের লিফট বর্জন করে সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে।

লবণ

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের প্রায় ৬০ ভাগ রোগী অতিরিক্ত লবণের দ্বারা প্রভাবিত হন। অতিরিক্ত হারে লবণ গ্রহণ আমাদের হাইপারটেশনকে খুব দ্রুত প্রভাবিত করে। আমরা অনেকেই খাবারের সময় কাচা লবণ বা অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করে থাকি যা আমাদের শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অধিক সোডিয়াম গ্রহণের ফলে আমাদের উচ্চ রক্তচাপ হয় যা আমরা লবণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যমে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রিণ করতে পারি।

ওজন স্বাভাবিক রাখা

আমাদের সকলেরই উচিত শরীরের ওজনকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদি আমাদের শরীরের ওজন স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে যায় তাহলে অনায়াসে শরীরে উচ্চ রক্তচাপ সহ আরো নানাবিধ অসুখ বাসা বাঁধতে পারে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য আমাদের অবশ্যই ব্যায়াম করতে হবে এবং ডায়েট মেনে খাবার গ্রহণ করতে হবে। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কোন প্রকার ওষুধ গ্রহণ বিপদজনক হতে পারে। সুতরাং ওজন কমানোর যেকোনো ওষুধ গ্রহণের সময় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশ্রাম

শরীরকে সুস্থ রাখতে সঠিক নিয়মে বিশ্রামের কোন বিকল্প নেই বল্লেই চলে। আমাদের সকল কাজের মাঝে শরীরকে অবশ্যই বিশ্রাম দিতে হবে। সম্প্রতি আমাদের কর্মব্যস্ত জীবনে ঘুমের পরিমান যেন দিনে দিনে ক্ষীণ হচ্ছে। যা আমাদের শরীরের জন্য বিপদ হতে পারে। ঘুম বিশ্রামের সবচাইতে বড় ও প্রধান উৎস। অতএব আমাদের সকলকেই নিয়ম করে ও পরিমাণমত ঘুমাতে হবে।

এছাড়া আমাদের ধুম্পান বর্জন করতে হবে, মদপান থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখতে হবে। আমাদের মদ্ধ্যে যদি কারো ডায়াবেটিস থাকে তাহলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আমাদের সকলকে নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপের পরিক্ষা করাতে হবে যাতে আমরা তা আগে থেকে জানতে পারি এবং সঠিক সময়ে তার চিকিৎসা করাতে সক্ষম হতে পারি।

Loading...