The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

স্ট্রোক থেকে বাঁচুন

স্ট্রোক মুলত ইস্কেমিক ও হেমোরেজিক এই দুই প্রকার হয়ে থাকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমাদের মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ব্যঘাত ঘটলে অথবা আমাদের অক্সিজেন এর ঘাটতি বেড়ে গেলে আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলো মারা যায়। আর আমাদের এই অবস্থাকে স্ট্রোক বলা হয়ে থাকে।

স্ট্রোক থেকে বাঁচুন 1

স্ট্রোক আমাদের খুবি পরিচিত একটি রোগের মদ্ধে অন্যতম। আমরা প্রায় সকলেই এই রোগ সম্পর্কে অবগত। সমগ্র পৃথিবীতে স্ট্রোক একটি আতংক সৃষ্টিকারী মহামারীর নাম যা শুনলেই আমরা সকলেই আতকে উঠি। প্রতি বছর সমগ্র পৃথিবীতে প্রায় সাত লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হইয়ে থাকে যা অন্যান্য রোগের তুলনায় খুবি প্রভাব বিস্তার করে থাকে। স্ট্রোক করার ফলে প্রতি বছর প্রায় এক লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ মারা যায়। আমাদের দেশেও এই রোগের প্রভাব যথেষ্ট রুপে লক্ষণীয়। স্ট্রোক করা রোগীর মৃত্যু ভয় থাকার পাশা পাশি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক।

স্ট্রোক মুলত ইস্কেমিক ও হেমোরেজিক এই দুই প্রকার হয়ে থাকে। আমাদের মস্তিষ্কের রক্ত নালী যদি কোন কারনে ছিড়ে যায় তাহলে আমাদের স্ট্রোক হয় জাকে আমরা হেমোরেজিক নামে জানি। অনেক সময় আমাদের মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় আর এই স্ট্রোককে আমরা ইসকেমিক স্ট্রোক বলি। স্ট্রোকের মদ্ধে ইসকেমিক স্ট্রোক সবথেকে বেশি মাত্রায় হয়ে থাকে। ইসকেমিক স্ট্রোকের মাত্রা প্রায় শতকরা ৮০ শতাংশ।

এই রোগের লক্ষন নানান ভাবে আমাদের কাছে উপস্থাপন হতে পারে। হঠাৎ চোখে না দেখা, গিলতে সমস্যা হওয়া, হাঁটতে না পারা, শরীর অবশ ভাব, একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া এইরকম সকল আভাশে আমাদের সকলের যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। স্ট্রোকের আগ মুহুর্তে আমাদের ঘুমঘুম ভাব, চোখে একটি জিনিস দুটি দেখা, বমি হওয়া অথবা বমি বমি ভাব হওয়া এই ধরনের ছোট ছোট লক্ষণ দেখা দিতেও পারে যা আমাদের অবহেলায় এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।

আমাদের অনেকের মিনি স্ট্রোক করতে পারে যা বলা হয় ট্রানজিয়ান্ট ইসকেমিক অ্যাটাক সংক্ষেপে টিআইএ। আমাদের বর ধরণের স্ট্রোক হওয়ার আগে এটি আমাদের জন্য সতর্ক বার্তা হতে পারে। এমন অবস্থায় আমাদের দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। আমাদের মদ্ধে জাদের একবার স্ট্রোক হয়েছে তাদের আবার পুনরায় স্ট্রোক করার ঝুকি সবথেকে বেশি থাকে এটি প্রথম বছরের মদ্ধে ১৫ ভাগ এবং পরবর্তী বছর থেকে আরো কমে ৫ ভাগে হতে পারে তাও আবার যেকোনো সময়ে।

স্ট্রোকের এই মহামারিতা থেকে আমরা খুব সহজেই পরিত্রাণ পেতে পারি। আমাদের সকলের সচেতনতা ও সঠিক জীবন ব্যবস্থা এই ভয়ানক রোগ থেকে আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম। আমাদের জাদের উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা আছে তা আমাদের স্ট্রোক করার একটি কারন তা জেনে শরীরকে সঠিক ভাবে তৈরি রাখতে হবে। এছাড়া শরীরে ডায়াবেটিস থাকলে তা আমাদের কন্ট্রোল করতে হবে। আমাদের শরীরে কলেস্টরলের পরিমান বেশি হলে আমাদের রক্ত চলাচলে সমস্যা দেখা যায় যার ফলে আমাদের স্ট্রোক করার ঝুকি কয়েক গুন বেড়ে যাবে।

আমাদের নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে জাতে করে আমাদের শরীরে রক্ত চাপ, রক্ত চলাচল, ও শরীরের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। আমাদের সকলের প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম দারা আমরা আমাদের শরীরকে স্ট্রোক থেকে রক্ষা করতে পারবো।

এছাড়া আমাদের ধূমপান বরজন করার পাধাপাশি মদ পান থেকেও দূরে থাকতে হবে। অতিরিক্ত ওজন আমাদেরকে ধিরে ধিরে স্ট্রোকের দিকে ধাবিত করতে পারে তাই আমাদের সকলকেই ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমাদের প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, আশ জাতীয় খাবারের পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে। অতিরিক্ত চর্বি জুক্ত খাবারকে গ্রহণ করা জাবেনা। লবণ গ্রহনে আমাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে কারন লবণ আমাদের উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে থাকে।

স্ট্রোক করার সাথে সাথেই আমাদের রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে জাতে তার দ্রুত চিকিৎসা হয়। সময়মত চিকিৎসায় আমরা খুব সহজেই স্ট্রোকের হাত থেকে রেহাই পেতে পারি।

Loading...