The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কৃষি কাজে তরুণদের অংশগ্রহণ

আমাদের দেশের প্রকৃতি ও জলবায়ুর ভিত্তিতে কৃষি আমাদের দেশের প্রধান কাজ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নদীমাতৃক আমাদের বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। আমাদের বাংলাদেশে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই কৃষি কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কৃষি কাজে তরুণদের অংশগ্রহণ বেশি।

কৃষি কাজে তরুণদের অংশগ্রহণ 1

আমাদের দেশের প্রকৃতি ও জলবায়ুর ভিত্তিতে কৃষি আমাদের দেশের প্রধান কাজ জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে। কৃষিপ্রধান আমাদের দেশে সম্প্রতি কৃষিকাজে যুক্ত হচ্ছেন অসংখ্য শিক্ষিত জুবসমাজ ও তরুণেরা। তাদের শিক্ষিত চিন্তাভাবনার পাশাপাশি সঠিক হস্তক্ষেপ এবং কৃষি ক্ষেত্রে শিক্ষার প্রসার দ্বারা আমাদের দেশের কৃষি কাজকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে সকলেই আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। কৃষি কাজে প্রথাগত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার করছেন যুবক ও তরুণ সমাজের কর্ণধারেরা। তরুণদের এমন হস্তক্ষেপের ফলে কৃষি শ্রমিক সঙ্কটের চ্যালেঞ্জ কে খুব সহজে মোকাবেলা করা সম্ভব এবং পাশাপাশি কর্মসংস্থান হচ্ছে নতুনদের। কৃষিতে যুবকদের এমন অংশগ্রহণের ফলে কমে আসছে ফসল উৎপাদনের খরচ এবং আনুষাঙ্গিক অপচয়। এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে খুব কম সময়ে অধিক ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে অপচয় রোধ করা সম্ভব হচ্ছে এবং সাশ্রয় হচ্ছে অর্থ। ফসল কাঁটার সময়ে আগে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও কৃষিশ্রমিক মিলতো না ধান কাটার সময় পড়তে হতো বিপাকে। বর্তমানে কৃষিযন্ত্রের অবাধ ব্যবহারের ফলে খুব সহজেই ধান কাটার পাশাপাশি কাটা যাচ্ছে সকল ধরণের ফসলাদি। এটি হচ্ছে কম্বাইন্ড হারভেস্টর নামক একটি যন্ত্র যার দ্বারা খুব সহজেই ফসল কাটা যায়। কম্বাইন্ড হারভেস্টর দ্বারা ফসল কাটার পাশাপাশি ধান মাড়াই করা, ঝাড়া, বস্তায় ভরা যায় একই সাথে। আমাদের দেশের বাজারে কম্বাইন হারভেস্টার এসেছে অনেকদিন যাবত তবে ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টর আমাদের দেশে জায়গা লাভ করেছে গত বছর। সম্প্রতি বাংলাদেশের এসিআই কম্বাইন হারভেস্টর বাণিজ্যিকভাবে বাজারে নিয়ে এসেছে।

নানাবিধ তরুণ কৃষি উদ্যোক্তার মাধ্যমে জানা যায় প্রথাগত পদ্ধতিতে কৃষি শ্রমিকদের দিয়ে ফসল কাটানো অথবা মাড়াই করা ঝাড়াই করা ও বস্তাবন্দি করতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। এছাড়া কৃষি শ্রমিকদের দ্বারা ফসল কাটার ফলে প্রতি ১০০ কেজি ধানের মধ্যে ৭ থেকে ৮ কেজি ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যা ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টর ব্যবহারের ফলে খুব সহজেই রক্ষা করা সম্ভব। কম্বাইন্ড হারভেস্টর দ্বারা খুবই অল্পসময় কাজ করা যাচ্ছে। কম্বাইন্ড হারভেস্টর এর মাধ্যমে ঘণ্টার মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব যা ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক দুইদিনের মধ্যে সম্পন্ন করতো।

কম্বাইন্ড হারভেস্টার এযাবতকালের সারাদেশের ৭০ টির মত বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসিআই মটরস। কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসিআই মটরস এর কাছে দুই ধরনের কম্বাইন হারভেস্টর রয়েছে। ট্যাঙ্ক পাইপ এর দাম পড়বে ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাগ পাইপের দাম যা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ লাখ টাকা।

নানাবিধ জরিপের মাধ্যমে জানা যায় সাড়ে ২৯ লাখ টাকা দ্বারা হারভেস্টর ক্রয় করলে তিন মাসের মধ্যেই সে টাকা আদায় হয়ে যাবে। পরবর্তীতে আরো ৫ বছর এটি চালানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে কাস্তে দিয়ে ধান কেটে তরুণ ও যুব সমাজকে কৃষি কার্যের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব নয় এ ক্ষেত্রে তরুণদের দরকার কৃষি যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানা। বর্তমানে সরকার নানা রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এর মধ্যে কৃষি খাতে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ দেওয়া হয় তার আয়ত্তে হারভেস্টর কে আনা সম্ভব।

Loading...