The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী যেনো কোনোখানে ব্যবসা করতে না পারে: জাতিসংঘ

যাতে করে তারা কোনো রকম বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী যেনো কোনোখানে ব্যবসা করতে না পারে সেই আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী যেনো কোনোখানে ব্যবসা করতে না পারে: জাতিসংঘ 1

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াংঘি লি বলেছেন, বহু সময় গড়িয়ে গেছে। এখন মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত সামরিক কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে খুব দ্রুত কাজ করতে হবে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রিত ‘মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেড (এমইএইচএল) এবং মিয়ানমার ইকোনমিক কো-অপারেশনের (এমইসি) ওপর।

ইয়াংঘি লি বলেছেন, যাতে করে তারা কোনো রকম বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসার কারণে দেশটির সেনাবাহিনী আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এই শক্তিই মূলত রোহিঙ্গা গণহত্যার মতো কাজে লাগাচ্ছে তারা। গত মঙ্গলবার আলজাজিরায় লেখা এক বিশেষ নিবন্ধে নিষেধাজ্ঞার এই আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াংঘি লি। ইয়াংঘি লি বলেছেন যে, দীর্ঘ ৬ দশকের সেনাশাসনের পর মিয়ানমারে ২০১৫ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্য দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগও পায় দেশটির নেত্রী অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)।

সেনাশাসন হতে গণতান্ত্রিক শাসনে ফেরার জন্র প্রতিশ্রুতিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মাধ্যমে সু চির সরকারকে সমর্থনও প্রদান করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে সু চির নেতৃত্বে গণতন্ত্র আসেনি, বরং সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় পরিস্থিতি আরও জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালায় মিয়ানমান সেনাবাহিনী। অথচ এই বিষয়টি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের পক্ষে একটি কথাও খরচ করেননি সু চি। আগামী ২০২০ সালের আরেকটি নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার।

এমন পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রে ফেরার আশা আরও যেনো সংকুচিত হয়েছে। সু চির সরকারের আমলে দেশজুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও যেনো শোচনীয় হয়েছে। গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ক্রমেই খর্ব হচ্ছে। তাদের সশস্ত্র সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের জীবন ধ্বংস হচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদও লুট হয়ে যাচ্ছে। আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী সেনাবাহিনী রাজনীতি এবং অর্থনীতির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ যেনো আরও জোরদার করেছে। তবে সু চির সরকার এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পুরোপুরিভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সরকার এবং সেনাবাহিনীর এই কর্মকাণ্ড মিয়ানমারের মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রপন্থীদের ভীষণভাবে হতাশ করেছে।

লি আরও বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যায় সেনাবাহিনী প্রধান মিং অন হ্লাইংসহ সিনিয়র সেনা কর্মকর্তারা বর্তমানে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের মুখে। এদিকে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের অনুমোদনও দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে এসব ব্যবস্থা মোটেও যথেষ্ট নয়। দেশে ও বিদেশে বহু ব্যবসা রয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর। সেগুলো এখনও অব্যাহত রয়েছে। সরকারিভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, ব্যাংকিং কার্যক্রম, পর্যটন, পরিবহন, উৎপাদন এবং টেলিযোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। পারিবারিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বহু কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের। এসব কোম্পানি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...