The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ: ড. খলিলুর রহমান কী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ: ড. খলিলুর রহমান কী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? 1

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর আবারও একজন বাংলাদেশি এই দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পেলেন।

তবে তার নির্বাচনের পর একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে- বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. খলিলুর রহমান কী জাতিসংঘের এই পদে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমেই ইউএনজিএ সভাপতির ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন না; বরং তিনি ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একটি আন্তর্জাতিক ফোরামের পরিচালনাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কাজ হলো অধিবেশন পরিচালনা করা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা সৃষ্টি করা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।

ড. খলিলুর রহমানের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের অন্যতম বড় যুক্তি হলো তার দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা। তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশ পররাষ্ট্রসেবায় কাজ করার পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের নিউইয়র্ক এবং জেনেভা কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম, বিভিন্ন দেশের স্বার্থ ও বহুপাক্ষিক আলোচনার জটিলতা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা যথেষ্ট সমৃদ্ধ বলে বিবেচিত হয়।

এ ছাড়াও নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজেকে “সেতুবন্ধনকারী” হিসেবে তুলে ধরেছেন ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন, ঐকমত্য সৃষ্টি এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, সভাপতির দায়িত্বে থেকে তিনি সকল সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবেন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা অনুসরণ করবেন।

তবে সমালোচকদের উদ্বেগও একেবারে অমূলক নয়। কারণ তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের একজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা তার জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক সংঘাত, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন বা ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তার অবস্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিভিন্ন দেশ তার সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যের মধ্যে পক্ষপাতিত্বের কোনো ইঙ্গিত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখবে।

তবে ইতিহাস বলছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অনেক সভাপতি নিজ নিজ দেশের সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও পরে আন্তর্জাতিক দায়িত্বে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। কারণ এই পদের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশেই সভাপতির নিরপেক্ষতার ওপর নির্ভর করে। যদি কোনো সভাপতি প্রকাশ্যে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেন, তাহলে তার নেতৃত্বের কার্যকারিতা দ্রুত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

সবকিছু বিবেচনায় বলা যায়, ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা, জাতিসংঘে কাজ করার অতীত রেকর্ড এবং তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি তাকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তার কার্যক্রমের মাধ্যমে। তিনি কতটা সফলভাবে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আস্থা গড়ে তুলতে পারেন এবং কতটা ভারসাম্যপূর্ণভাবে বৈশ্বিক ইস্যুগুলো পরিচালনা করতে পারেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে তিনি কতটা নিরপেক্ষ সভাপতি হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali