The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ভ্রমণ: বেড়িয়ে আসুন বরিশালের বিবির পুকুর

বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এক ঐতিহ্যবাহী জলাশয়ের নাম হলো এই বিবির পুকুর

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শীতকাল মূলত বেড়ানোর শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময় দেশ-বিদেশে বেড়ানোর মজায় আলাদা। দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যেতে হলে যেতে পারেন বরিশালের বিবির পুকুরে।

ভ্রমণ: বেড়িয়ে আসুন বরিশালের বিবির পুকুর 1

বরিশাল একটি পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী জেলা। বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এক ঐতিহ্যবাহী জলাশয়ের নাম হলো এই বিবির পুকুর। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে জিন্নাত বিবি জনমানুষের পানির কষ্ট নিরসনের উদ্দেশ্যেই এই পুকুরটি খনন করেছিলেন। নগরীর সদর রোডের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিবির পুকুরের দৈর্ঘ্য হলো ১৮৫০ ফুট ও প্রস্থ হলো ৪০০ ফুট। পরবর্তীতে জিন্নাত বিবির নামানুসারে শতবর্ষী পুকুরটি বিবির পুকুর নামেই পরিচিতি পায়। তৎকালীন সময় কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে খালের মাধ্যমে বিবির পুকুরের দুইটি সংযোগস্থল ছিল। যে কারণে নদীর মতোই এই পুকুরে নিয়মিতভাবে জোয়ার ভাটাও দেখা যেতো!

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বরিশালে কিছু খ্রিস্টান মিশনারির আগমণ ঘটে ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৮০০ শতকে বাংলা মুদ্রণ সাহিত্যের জনক উইলিয়াম কেরি বরিশালে অবস্থান করেন। উইলিয়াম কেরি পর্তুগিজ দস্যুদের নিকট হতে জিন্নাত বিবিকে উদ্ধার করে নিজেই লালন পালনের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী হাশেম আলী খানের বাড়িটিই ছিলো জিন্নাত বিবির বাসভবন।

জানা যায় যে, বরিশাল পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময় বিবির পুকুরের সংস্কার ও পুনঃখননও করা হয়েছে। বর্তমানে পুকুরকে কেন্দ্র করে ঝুলন্ত পার্ক, বসার বেঞ্চ, ফোয়ারা ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে শোভাবর্ধন করা হয়। পাশাপাশি বিবির পুকুরের কাছে উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র ও পাবলিক স্কয়ার নির্মাণ করা হয়েছে, যার বর্তমান নাম হলো হিরণ স্কয়ার।

যাবেন কিভাবে

আপনি যদি সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে চান তাহলে প্রায় ৭/৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। রাজধানীর গাবতলি বাস টার্মিনাল হতে নিয়মিতভাবে প্রতিদিন ভোর ৬টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহণের বাস যাতায়াত করে থাকে। শাকুরা, ঈগল ও হানিফ পরিবহনের এসি/নন-এসি বাসের জনপ্রতি টিকেটের মূল্য ৫০০ হতে ৮০০ টাকা (পরিবর্তনশীল)। ঢাকা হতে বরিশালগামী বাসগুলো সাধারণত বরিশাল শহরের নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে থামবে।

বাসের থেকেও আরামদায়ক ভ্রমণ হলো লঞ্চ ভ্রমণ। ঢাকা-বরিশাল যাতায়াতের জন্য লঞ্চই হলো সবচেয়ে ভালো একটি মাধ্যম। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল হতে সন্ধ্যা হতে রাত ৮টা-৯টার মধ্যে বরিশালগামী লঞ্চগুলো ছেড়ে যায়। লঞ্চগুলো পরদিন ভোরে বরিশাল ঘাটে পৌঁছাবে। সুন্দরবন ৭ বা ৮, সুরভী ৮, পারাবত ১১, কীর্তনখোলা ১ বা ২ লঞ্চের জনপ্রতি ডেকের ভাড়া ১৫০ টাকা, ডাবল কেবিনের ভাড়া ১৬০০ টাকা ও ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৪৫০০ টাকার মতো।

বরিশালের লঞ্চ ঘাট কিংবা বাস স্ট্যান্ড পৌঁছে রিকশা নিয়ে আপনি নগরীর সদর রোডের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিবির পুকুর দেখতে যেতে পারবেন।

থাকবেন কোথায়

ভ্রমণের সময় থাকার বিষয়টিও আগে থেকেই জেনে রাখা দরকার। বরিশালে বেশ ভালোমানের বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল গ্র্যান্ড পার্ক (ফোন: 01777-735172), হোটেল এথেনা ইন্টারন্যাশনাল (ফোন: 01712-261633), হোটেল সেডোনা ও হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনাল উল্লেখযোগ্য আবাসিক হোটেল।

খাবেন কোথায়

বরিশালে অবস্থিত বিভিন্ন মানের খাবার হোটেল বা রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এইসব হোটেল বা রেস্টুরেন্ট হতে আপনার পছন্দমতো খাবার খুঁজে নিতে মোটেও আপনাকে বেগ পেতে হবে না।

তথ্যসূত্র: https://vromonguide.com

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...