The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কেনো সময়-সুযোগ বুঝে ভ্রমণ করবেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভ্রমণ মানুষের জীবনে আনন্দ, অভিজ্ঞতা এবং মানসিক প্রশান্তি নিয়ে আসে। তবে শুধু কোথায় যাবেন তা নয়, কখন যাবেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কেনো সময়-সুযোগ বুঝে ভ্রমণ করবেন 1

সময়-সুযোগ বুঝে ভ্রমণ করলে খরচ কমে, ভ্রমণ হয় আরামদায়ক ও অভিজ্ঞতাও হয় অনেক বেশি উপভোগ্য।

# সঠিক মৌসুম নির্বাচন করা জরুরি। কোনো পাহাড়ি এলাকায় বর্ষাকালে গেলে ভূমিধস কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার সমুদ্রসৈকতে ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুমে ভ্রমণ নিরাপদ নয়। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে পরিকল্পনা করা উচিত।

# পর্যটকদের ভিড়ের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। ছুটির মৌসুমে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। যে কারণে হোটেল ভাড়া, পরিবহন খরচ ও অন্যান্য ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। তুলনামূলক কম ভিড়ের সময় ভ্রমণ করলে একই জায়গা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে দেখা যায়।

# অর্থনৈতিক দিক থেকেও সময় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকে টিকিট এবং আবাসন বুকিং করলে অনেক সময় কম খরচে ভালো সেবা পাওয়া যায়। এতে বাজেটের মধ্যে ভ্রমণ সম্পন্ন করা সহজ হয়।

# স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তাও ভ্রমণের বড় বিবেচ্য বিষয়। দীর্ঘ যাত্রার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং গন্তব্যের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা রাখা উচিত। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভ্রমণবিমার বিষয়েও সচেতন থাকা ভালো।

# পারিবারিক কিংবা পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভ্রমণের সময় নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এমন সময় ভ্রমণে গেলে মানসিক চাপ কম থাকে এবং পুরো ভ্রমণটি উপভোগ করা যায়।

এ ছাড়াও স্থানীয় সংস্কৃতি, উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠান সম্পর্কে আগে থেকে জেনে গেলে ভ্রমণ আরও আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে বড় উৎসবের সময় অতিরিক্ত ভিড় ও ব্যয়ের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

পরিকল্পিত এবং সময়োপযোগী ভ্রমণ শুধু আনন্দই দেয় না, বরং নিরাপত্তা, অর্থ সাশ্রয় এবং মানসিক স্বস্তিও নিশ্চিত করে। তাই ভ্রমণের আগে কিছুটা সময় নিয়ে পরিকল্পনা করাই হতে পারে একটি স্মরণীয় ভ্রমণের প্রথম ধাপ।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali