The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বেড়াতে যাওয়ার সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমান ব্যস্ত জীবনে একটু অবসর পেলেই মানুষ পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যেতে পছন্দ করে। ভ্রমণ শুধু আনন্দই দেয় না, এটি মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়।

বেড়াতে যাওয়ার সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে 1

তবে আনন্দময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে থেকেই খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া অনেক সময় ভ্রমণ বিরক্তিকর কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই বেড়াতে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

প্রথমেই ভ্রমণের স্থান সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার। কোথায় যাচ্ছেন, সেখানে আবহাওয়া কেমন, যাতায়াত ব্যবস্থা কী, নিরাপত্তা পরিস্থিতি কেমন- এসব তথ্য আগে থেকে সংগ্রহ করলে অপ্রত্যাশিত সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়। বিশেষ করে পাহাড়, সমুদ্র বা দূরবর্তী এলাকায় গেলে স্থানীয় নিয়ম-কানুন সম্পর্কেও ধারণা রাখা উচিত।

ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস বহন না করে প্রয়োজনীয় পোশাক, ওষুধ, চার্জার, পরিচয়পত্র, টাকা এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী সঙ্গে রাখতে হবে। যদি দীর্ঘ ভ্রমণ হয়, তাহলে অতিরিক্ত কাপড় ও জরুরি ওষুধ রাখা ভালো। শিশু বা বয়স্ক কেউ সঙ্গে থাকলে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস আলাদাভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরিচিত জায়গায় বেশি রাত করে বাইরে না থাকা ভালো। মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখতে হবে এবং ব্যক্তিগত তথ্য অচেনা মানুষের কাছে শেয়ার করা উচিত নয়। অনেক সময় পর্যটন এলাকায় প্রতারণার ঘটনাও ঘটে, তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভ্রমণের সময় পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাও নিরাপদ।

খাবার ও স্বাস্থ্যের প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। বাইরে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, বিশেষ করে গরমের সময়। যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা আছে, তাদের নিয়মিত ওষুধ সঙ্গে রাখা উচিত।

ভ্রমণে পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট না করা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়। অনেক পর্যটন স্থান মানুষের অসচেতন আচরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।

ভ্রমণকে আনন্দদায়ক ও নিরাপদ করতে আগে থেকেই পরিকল্পনা ও সচেতনতা জরুরি। ছোট ছোট কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে যেকোনো ভ্রমণ হতে পারে স্মরণীয় ও স্বস্তিদায়ক। তাই বেড়াতে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে নিরাপদ ও সুন্দর ভ্রমণ উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali