দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমানে তরুণদের মধ্যে একা ভ্রমণের প্রবণতা বাড়ছে। অনেকেই নিজের মতো করে নতুন জায়গা ঘুরে দেখতে পছন্দ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একা ভ্রমণ শুধু বিনোদন নয়, এটি ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একাই নতুন জায়গায় গেলে মানুষকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়। কোথায় যাবেন, কীভাবে চলবেন কিংবা সমস্যার সমাধান করবেন- সবকিছু নিজেই সামলাতে হয়। এতে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, একা ভ্রমণ মানুষের ভয় ও সংকোচ কমাতে সাহায্য করে। নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলা, নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং অচেনা পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
অনেকেই দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে একা ভ্রমণকে বেছে নেন। প্রকৃতির কাছে কিছু সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে।
তবে একা ভ্রমণে কিছু সতর্কতাও প্রয়োজন। কোথায় যাচ্ছেন, কোথায় থাকবেন এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য পরিবারের কাছে জানিয়ে রাখা উচিত। নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রমণের সময় নতুন সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়। এতে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত হয়।
একা ভ্রমণ অনেক সময় মানুষকে নিজের সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। নিজের পছন্দ, সীমাবদ্ধতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অনেকেই ভ্রমণের ছবি ভাগ করে নেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ছবি তোলার জন্য নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ভ্রমণ করা উচিত।
জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে মাঝে মাঝে নিজের জন্য সময় বের করা প্রয়োজন। একা ভ্রমণ সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org