The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ফাঁস হলো সেই মাছ বিক্রেতা বিশ্বের প্রথম করোনা রোগীর তথ্য!

তার নাম উই গুইশিয়ান, তার বয়স ৫৭ বছর। উহানের হুনান মার্কেটে বাগদা চিংড়ি বিক্রি করতেন তিনি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস বিশ্বকে কিভাবে নাড়া দিয়েছে তা আমাদের সকলের জানা। এবার ফাঁস হলো সেই মাছ বিক্রেতা বিশ্বের প্রথম করোনা রোগীর তথ্য।

ফাঁস হলো সেই মাছ বিক্রেতা বিশ্বের প্রথম করোনা রোগীর তথ্য! 1

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর হতে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। এই ভাইরাসটি এখন গোটা বিশ্বের জন্য আতঙ্ক। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ, মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার জনের। তবে এই ভাইরাসটিতে বিশাল সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হলেও প্রথম কে এটিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তা জানতে গবেষকদের কৌতূহলের যেনো শেষ ছিল না। এটি জানানোর জন্য চীনকে বারবার বলা হলেও তা চীন জানায়নি। অবশেষে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম সেই ব্যক্তির তথ্য ফাঁস হলো!

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, চীনের উহান শহরেরই এক নারী সর্ব প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। তার নাম উই গুইশিয়ান, তার বয়স ৫৭ বছর। উহানের হুনান মার্কেটে বাগদা চিংড়ি বিক্রি করতেন তিনি। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া নথিতে বেরিয়ে এসেছে যে, বন্যপ্রাণী বিক্রির বাজারে তার দোকানও ছিলো।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী গত বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উহান হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে। তবে ততোদিনে হুনানের অনেকের শরীরেই তার মতোই লক্ষণ দেখা দেওয়া শুরু হয়। ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা ভেবে প্রথমে তিনি স্থানীয় ক্লিনিকে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তারপর আবারও চিংড়ি বিক্রি শুরু করেন। সে সময়েই তার মাধ্যমেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

চীনের একটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিককে ওই নারী বলেছেন, আমি কেনো যেনো ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম। যদিও আমি এর আগেও এরকম ক্লান্তি অনুভব করেছি। তিনি আরও জানান, প্রত্যেক শীতেই তিনি ফ্লুতে আক্রান্ত হন। সেই কারণে তিনি ভেবেছিলেন এটা সাধারণ ফ্লু হবে হয়তো। ৮ দিনের মাথায় অবশ্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির পর তার অবস্থা আরও খারাপের দিকেই যায়।

উই গুইশিয়ান বলেন, চিকিৎসকরা বুঝতেই পারছিলেন না, আমার সঙ্গে আসলে কী ঘটেছে। একপর্যায়ে আমাকে কিছু ইনজেকশন লিখে দিয়ে হাসপাতাল হতে রিলিজ দেওয়া হয়।

তারপর তিনি আবারও হাসপাতালে যান ও বাড়তি ইনজেকশন চান। তিনি দাবি করেন যে, তার শরীরে কোনো অ্যালার্জি ছিলো না। ডিসেম্বরের শেষের দিকে তাকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। ৩১ ডিসেম্বর যে ২৭ জনকে পরীক্ষা করে দেখা হয়, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন উই গুইশিয়ান। এছাড়াও যে ২৪ জনের হুনান মার্কেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল, তার মধ্যেও তিনি ছিলেন একজন। এভাবেই তাকে শনাক্ত করা হয় প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি হিসেবে।

Loading...