The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

করোনা ভাইরাস: সেই নাঈম হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাচ্ছে

বনানীর সেই ঘটনার দিন ফায়ার সার্ভিস যখন আগুন নেভাতে মরিয়া, তখন ফায়ার সার্ভিসের একটি পাইপের ছিদ্র অংশ দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে রেখেছিলো একটি শিশু

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অনেকের মনে আছে রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা। তখন ফায়ার সার্ভিসের ফাটা পাইব ধরে রেখে আলোচনায় চলে আসে। সেই নাঈম এবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাচ্ছে।

করোনা ভাইরাস: সেই নাঈম হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাচ্ছে 1

বনানীর সেই ঘটনার দিন ফায়ার সার্ভিস যখন আগুন নেভাতে মরিয়া, তখন ফায়ার সার্ভিসের একটি পাইপের ছিদ্র অংশ দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে রেখেছিলো একটি শিশু। সেই শিশুর না নাঈম।

ছিদ্র পাইপ দিয়ে পানি যেনো বেরিয়ে না যায় সে জন্য তার ছোট দুই হাতে প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়েছিল সেদিন। এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতে সময় লাগেনি সেই সময়। দেশে আবাও করোনা ভাইরাসের মতো দুর্যোগ শুরু হয়েছে। এই অবস্থায়ও আবার আলোচনায় উঠে এসেছে নাঈম।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে, করোনায় ভাইরাস হতে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাতে সহযোগিতা করছে সেই নাঈম। দেবদুলাল মুন্না নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই তথ্য শেয়ারও করেছেন। তার সেই স্ট্যাটাসটি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘কড়াইল বস্তির নাঈমকে মনে আছে নিশ্চযই আপনাদের? সে ঘরে বসে নেই। সে এবারও দাঁড়িয়েছে মানুষের পাশে। সে এবার বৃত্তায়ন নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাচ্ছে। তার কথা, ‘দুরে দুরে থাইকা এক মানুষ আরেক মানুষরে কেমনে বাঁচাইবো’।

সে এতো কঠিন কঠিন শব্দ, হোম কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, সোশ্যাল ডিসটেন্স, ভাইরাস এসব বোঝেই না বলেই হয়তো এমন সরল প্রশ্ন জাগে তার মনে।

গতবছরের ২৮ মার্চ যখন বনানীর ২২ তলা ভবনে আগুন লেগেছিল, যখন আম-পাবলিক সমাবেশের মতো ভীড় করে আগুন নেভানোর কাজে পরোক্ষভাবে বাধা দিচ্ছিল, যখন অনেকে সেলফি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন ঠিক তখন এই ছেলেটি পানির পাইপ ফেটে গেলে অসহায়ের মতোন চেপে ধরে বসেছিল এবং চোখে ছিল কান্না।

এই সেই ছেলে যার নাম নাঈম, যে স্কুলেই পড়ে না, ভালো খাবারও খায় না, কোনো নীতিবাক্য শুনে বেড়ে উঠছে না এই শিশু, এই সেই ই আমাদের বাংলাদেশের প্রাণ বা আগামীর বাংলাদেশ বলে আত্মসন্তুষ্টিতে ভোগার কোনোই দরকার নেই। শুধু তার কাছ থেকে শিখে নিন, মানুষের পাশে কিভাবে দাঁড়াতে হয়, কেনোনা সে শুনে বড়ো হয়নি, ‘ওসব পাবলিক ফ্যাসাদে তুমি জড়াবে না, স্কুল শেষে বাসায় ফিরবে সোনা সেইফলি’ এসব কথা তাকে কখনও শুনতে হয়নি তাকে।

সে গতবার এক ইন্টারভিউতে বলেছিল, ‘আমি কিছুই হতি চাই না। মাইনষের কান্দন দেখলে আমারও কান্দন পায়।’ হয়তো তাই। তাইতো এতো ছোট্ট একটি শিশু মানুষের জন্য ছুটে সব খানে। মানুষের উপকারে আসতে চান। তার মতো হৃদয় তৈরি হোক এদেশের হাজার হাজার শিশুদের।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক উপরের নিয়মে ধুয়ে ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...