The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কীভাবে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনা ভাইরাস নিয়ে আমাদের জীবন বর্তমান সময়ে বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। দিনকে দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে করোনা। কীভাবে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস? এটি বাতাসে উড়ে কতোদূর যেতে পারে?

কীভাবে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস? 1

এমন প্রশ্নে চিকিৎকরাও সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। কারণ করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রে এমন এক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে যার কোনো নিয়ন্ত্রণ করা সত্যিই কঠিন। কারণ হলো কেও ঘরের মধ্যে মাসে পর মাস বসবাস করার পরও আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার দেখা যাচ্ছে কখনও কখনও করোনা রোগির সঙ্গে একই বাড়িতে বা একই ঘরে বসবাস করেও কেও কেও আক্রান্ত হচ্ছেন না। আসলে এটি বোঝা বেশ কঠিন ব্যাপার। কখন কার কিভাবে করোনা আক্রমণ করবে তা বলা মুশকিল। তাই সব সময় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলতে হবে।

আমরা জানি করোনা সংক্রমণ হয় মূলত নাক-মুখ কিংবা চোখের মাধ্যমে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকেদের তেমন বক্তব্যই দিয়ে থাকেন।

সংক্রমিত ব্যক্তির খুব কাছে এলে তার মুখ কিংবা নাক থেকে ছিটে আসা সামান্য কয়েকটা ফোঁটাও ছড়াতে পারে করোনা। যে কারণে অন্তত ২ মিটার বা ৬-৭ ফুট দূরে থাকতে হবে করোনা রোগীর কাছ থেকে। না হলে সংক্রমিতের শরীর হতে ভাইরাস ঢুকে পড়তে পারে অন্য একজনের শরীরে। তার শরীরেও দেখা দিতে পারে মাথা ব্যথা, জ্বর, কাশির মতো নানা রকম উপসর্গ। আবার উপসর্গ না থাকলেও সংক্রমিত হতে পারেন যে কেও। এই তথ্যগুলো দিয়েছে কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা।

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভাইরাসটি। সেই কারণেই একে অপরের সঙ্গে মিটার দুয়েক দূরত্ব রেখেই চলাফেরা করতে বলা হচ্ছে সব সময়। মাস্ক পরতে বলা হচ্ছে। যাতে কারও নি:শ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে ভাইরাস ছড়ালেও তা ঢুকতে না পারে অন্য এক জনের শরীরে।

এখানে একটি প্রশ্ন সব সময় থেকে যাচ্ছে আর তা হলো দু’মিটার দূরত্ব কেনো রাখতে বলা হচ্ছে? বিশেষ করে যখন অনেকেই বলছেন যে, করোনা ভাইরাস আসলে কী বায়ু বাহিত? বিজ্ঞানীদের মত হলো, হাওয়ায় উড়ে বেড়ালেও এই ভাইরাসটি খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। সংক্রমিত ব্যক্তির শরীর থেকে বেরিয়ে, তার দু’মিটারের মধ্যেই ঘোরাফেরা করে। তার মধ্যেই মধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে নীচে নেমে আসে এই ভাইরাসটি। তাই হাওয়ায় এটি ঘুরে বেড়াতে পারে না। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর দু’-তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে এই ভাইরাসটি। তারপর এটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। সে কারণেই কোথাও হাত দিলে বারবার সাবান ও পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড সময় ধরে হাত ধুয়ে নিয়ে বলা হচ্ছে। আবার স্যানিটাইজারও ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে।

সব কথার এক কথা হলো এই ভাইরাসটি কখন কার শরীরে কিভাবে প্রবেশ করবে তা বলা মুশকিল। আর সে কারণেই দেখা যাচ্ছে যে, অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ ঘর থেকে বের হন না। এমনটি কারও সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন না তারপরও তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার এমনও দেখা গেছে যে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই ঘরে বসবাস করেও আক্রান্ত হননি এমন ব্যক্তিও রয়েছে। তাই এটি কখন, কার, কিভাবে আক্রান্ত করবে তা বলা মুশকিল। তাই একমাত্র পথ হলো ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থাৎ মাস্ক ব্যবহার করা, ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং বাইরে না বের হওয়া। আবার জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলেও দুরত্ব বজায় রাখা।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...