The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

শ্রমিকদের ‘কষ্ট বুঝার জন্য’ ফুটপাতে রাহুল গান্ধী

ভারতের বিভিন্ন রাজ্য হতে অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে বিশেষ ট্রেন-বাসের ব্যবস্থা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে কর্মহীন হয়ে ঘরে ফিরতে থাকা শ্রমিকদের কষ্ট বুঝতে ফুটপাতে নেমে এলেন ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

শ্রমিকদের ‘কষ্ট বুঝার জন্য’ ফুটপাতে রাহুল গান্ধী 1

শনিবার দিল্লি হতে ট্রাকে চেপে ওইসব শ্রমিকরা নিজ রাজ্যে ফিরছিলেন। পথে সুখদেব বিহার ফ্লাইওভারে ট্রাক থামলে কয়েকজন বিশ্রাম নিতে ফুটপাতে বসেন। এই সময় তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফুটপাতেই বসে পড়েন রাহুল গান্ধী।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্য হতে অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে বিশেষ ট্রেন-বাসের ব্যবস্থা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরও দেখা যাচ্ছে যে, বহু মানুষ পায়ে হেঁটেই বাড়ির পথ রওনা হয়েছেন। কোথাও কোথাও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ঠেলাগাড়িতে চাপিয়ে, আবার কোথাও বৃদ্ধা মাকে কাঁধে নিয়ে, শিশু কোলে মাইলের পর মাইল হাঁটতে দেখা গেছে শ্রমিকদেরকে। অসুস্থ হয়েছেন অনেকেই, মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য মানুষের। বেশ কয়েকটি বড় দুর্ঘটনায় প্রাণও হারিয়েছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক।

শনিবার অভিবাসী শ্রমিকদের একটি দলের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী জানতে চান যে- ‘সমস্যা কোথায়? লকডাউনের মধ্যেই কেনো এতো কষ্ট করে বাড়ি ফিরতে চাইছেন তারা? সরকার বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করলেও এতো কষ্ট করে হেঁটে কেনো ফিরছেন?’

হরিয়ানা হতে ঝাঁসি ফিরছিলেন মনু নামে জনৈক শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধী আমাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। আমাদের সমস্যা বোঝার চেষ্টাও করেছেন।’

দেবেন্দ্র নামে অপর এক শ্রমিক বলেন, ‘তিনি আমাদের বাড়ি ফেরার গাড়ির বন্দোবস্তও করে দিয়েছেন। সবাইকে খাবার ও মাস্কও দিয়েছেন।’

মহেশ কুমার নামে জনৈক শ্রমিক জানান, তাদের দলটি ৪ দিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধী আমাদের কষ্ট্রের কথা জানতে চেয়েছেন। আমরা জানিয়েছি- এখানে আমরা ক্ষুধায় হযে মারা যাচ্ছি… কোনও কাজ নেই। প্রায় ৫০ দিন হয়ে গেছে এই অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। কাছে যে অর্থ ছিল তা খাবারের পেছনে খরচ হয়ে গেছে।’ এমন দুরবস্থায় পাশে দাঁড়ানোয় কংগ্রেস নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান এই শ্রমিক।

করোনা মহামারি মোকাবিলায় গত ২৪ মার্চ হঠাৎ করেই দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতে বিভিন্ন রাজ্যে আটকা পড়েন কোটি কোটি অভ্যন্তরীণ অভিবাসী শ্রমিক। কর্মহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি ঘরে ফিরতে না পেরে চরম বিপাকে পড়ে যান তারা। পরে অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে বিশেষ ট্রেন চালু করে ভারত সরকার। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তার সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় অনেকেই শত শত মাইল হেঁটেই বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...