The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ভারতে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ উঠলো

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বেশিরভাগ দেশে মূল্যবান এই ধাতুটিকে এখন সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা সৃষ্টি হওয়ায় স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতের ইতিহাসে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উঠেছে গতকাল (বুধবার)। শুধু ভারতই নয় বাংলাদেশের স্বর্ণের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।

ভারতে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ উঠলো 1

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বেশিরভাগ দেশে মূল্যবান এই ধাতুটিকে এখন সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা সৃষ্টি হওয়ায় স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

গতকাল (বুধবার) দেশটির বাজারে প্রতি দশ গ্রাম স্বর্ণ এযাবতকালের সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৮৭১ রুপিতে বিক্রি হয়। এর মাধ্যমে ২০২০ সালে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের মূল্য ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলো। ২০১৯ সালেও ভারতে প্রায় ২৫ শতাংশ দাম বেড়েছিল। এতে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ক্রেতা দেশ ভারতে মূল্যবান এই ধাতুটির খুচরা বাজারে চাহিদা অর্থাৎ বিক্রি কমে গেছে।

স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতু পাইকারি আমদানির সঙ্গে যুক্ত মুম্বাইভিত্তিক এক ব্যাংক ডিলার বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন,‌ ‘এখন খুচরা বাজারে (স্বর্ণের) চাহিদা খুব সামান্য। এছাড়াও দাম কমে আসতে পারে এমন প্রত্যাশায় ক্রেতারা আপাতত স্বর্ণ ক্রয়ের বিষয়টি ভাবছেন না।’

বিক্রি কমে যাওয়ায় ভারতের ব্যবসায়ীরা বুধবার বিকেলে প্রতি আউন্স স্বর্ণে সর্বোচ্চ ২২ ডলার ছাড়ের ঘোষণাও দিয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ হতেই এই ছাড় চলছে। গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণে ১৮ ডলার পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়। স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের এই মূল্যের সঙ্গে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রয়কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশজুড়ে লকডাউনের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও গহনার দোকানগুলো বন্ধ থাকার কারণে ২০১৯ সালের তুলনায় চলতি বছর ভারতের স্বর্ণ আমদানির পরিমাণ ৯৯ শতাংশ কমে গেছে।

করোনার জেরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে শেয়ার, পণ্য লেনদেন, বিদেশী মুদ্রা এবং অশোধিত তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে; বাড়ছে অর্থনীতি নিয়েও নানা শঙ্কা। যে কারণে লগ্নির গন্তব্য হিসেবে মানুষ ঝুঁকছেন স্বর্ণের দিকেই। তাছাড়াও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও পড়েছে এতে। এছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে স্বর্ণের চাহিদা এখন শূন্যের কৌটায় এসে দাঁড়িয়েছে। এমন অবস্থায় আবার দাম বাড়ার কারণে ক্রেতাদের অনীহা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...