The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

অমিতাভ-অভিষেক কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হলেন?

আক্রান্ত হওয়ার পর নিজ নিজ টুইটার অ্যাকাউন্ট হতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলিউডের শাহেনশাহ খ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এবং ছেলে অভিনেতা অভিষেক বচ্চন। অমিতাভ-অভিষেক কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হলেন? সেই প্রশ্ন এখন সবার মনে।

অমিতাভ-অভিষেক কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হলেন? 1

আক্রান্ত হওয়ার পর নিজ নিজ টুইটার অ্যাকাউন্ট হতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারা। ভারতে করোনা ভাইরাসের লকডাউনের পর হতে নিজ বাড়িতেই ছিলেন অমিতাভ বচ্চন। তাহলে করোনা সংক্রমণ হলো কীভাবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে ভক্তদের মনে।

শনিবার রাতে তাঁকে মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যেও। তারপর নিজের অসুস্থতার কথা নিজেই জানিয়ে দেন বিগ বি।

ট্যুইট করে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি করোনায় আক্রান্ত। নমুনা পরীক্ষায় তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্টাফদেরও পরীক্ষা করা হয়। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই অমিতাভের বাংলোর বাইরে কনটেনমেন্ট জোনের নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে বৃহন্মুম্বই পৌরসভা।

বচ্চন পরিবারের পুরো কর্মচারীদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। রবিবার সকালেই প্রতীক্ষা, জলসা ও জন্নত – বচ্চন পরিবারের এই ৩টি বাংলোকেই জীবাণুমুক্ত করে বৃহন্মুম্বই পৌরসভা। পৌরসভার তরফ হতে বচ্চন পরিবারের সংস্পর্শে আসা ৩০ জনকে চিহ্নিত করা হয়। তবে এই খবর শনিবার রাতে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নড়েচড়ে বসে সবাই।

সকলের মনে একটাই প্রশ্ন, কীভাবে আক্রান্ত হলো গোটা বচ্চন পরিবার। কীভাবে পরিবারের একের পর এক সদস্যের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো এই প্রাণঘাতি এই সংক্রমণ? সেটাই এখন খুঁজে বের করাটা চ্যালেঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তাদের। কারণ হলো লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর হতেই নিজেকে ঘরবন্দি রেখেছেন অমিতাভ বচ্চন।

সম্প্রতি বাড়ির বাইরেও কখনও বের হননি। বরং বারবার করোনা নিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন। তবে কাজের সূত্রে বাইরে বের হন অভিষেক এবং বচ্চন পরিবারের অন্যান্য কর্মচারীরা। তাদের থেকেই হয়তো এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বচ্চন পরিবারের ঘনিষ্ঠ অনেকেই বলেছেন, ডাবিং স্টুডিও হতে অভিষেকের সংক্রমণ ঘটেছে। কারণ গত কয়েকদিন ধরে একটি সিনেমার কাজের সূত্রে প্রত্যেক দিনই ডাবিংয়ে গিয়েছেন জুনিয়ার বচ্চন। স্টুডিওতে গিয়ে ডাবিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই করোনার সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিষেকের থেকেই সংক্রমিত হয়েছেন অমিতাভ বচ্চন- এমন ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বচ্চন পরিবার থেকে সরাসরি এই বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি এ পর্যন্ত।

করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও তাঁর কন্যা আরাধ্যাও। শনিবার অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনের শরীরে পাওয়া যায় কোভিড-১৯ পজিটিভ। অবশ্য শনিবার যদিও প্রথমে জানা গিয়েছিল যে ঐশ্বরিয়ার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, রবিবার ঐশ্বরিয়া এবং আরাধ্যার রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে। আপাতত ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও তাঁর কন্যা আরাধ্যা তাঁরা দুজনেই হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। তবে আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তাদের চিকিৎসকরা।

এদিকে, করোনায় আক্রান্ত পুরো বচ্চন পরিবার। এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতজুড়ে প্রার্থনা শুরু হয়েছে। বচ্চন পরিবারের ভক্তরা প্রাণ খুলে প্রার্থনা করছেন যাতে তাঁদের কোনো ক্ষতি না হয়।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...