The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

করোনা ফ্রান্সে আবারও ভয়ানক হয়ে উঠছে

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের নিয়মিত পরিসংখ্যানে বলা হয়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনার দ্বিতীয় ধাপ পার করতে চলেছে ইউরোপ। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় পড়েছে ফ্রান্স। প্রাণহানি কম হলেও ক্রমেই আরও ভয়ানক হয়ে উঠছে করোনা পরিস্থিতি।

করোনা ফ্রান্সে আবারও ভয়ানক হয়ে উঠছে 1

দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিনই ১০ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। যার জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়াকেই মূলত দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের নিয়মিত পরিসংখ্যানে বলা হয় যে, গত একদিনে দেশটিতে ১৩ হাজার ৪৯৮ জন মানুষের শরীরে এই করোনা ভাইরাস চিহ্নিত হয়েছে।

এতে করে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ১৯৪ জনে। মৃত্যু ঘটেছে আরও ২৬ জনের। এই নিয়ে প্রাণহানি বেড়ে ৩১ হাজার ২৭৪ জনে ঠেকলো দেশটিতে।

সেই তুলনায় দেশটিতে সুস্থতার হার শীর্ষ আক্রান্ত দেশগুলোর তুলনায় বেশ কম। যেখানে এ পর্যন্ত মাত্র ৯১ হাজার ৫৭৪ জন রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।

দুদিন আগেও ইউরোপের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ভয়াবহ শঙ্কার কথা জানিয়েছিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও। সেখানকার চলমান পরিস্থিতিকে ‘খুবই বিপজ্জনক’ বলে সতর্ক করে সংস্থাটি।

এই ডব্লিউএইচও’র ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক ডা. হান্স ক্লুগে বলেছেন, ‘আমাদের সামনে খুবই বিপজ্জনক সময় আসছে। সাপ্তাহিক হিসাবের সব রেকর্ডই ভেঙে যাচ্ছে।’

‘গত সপ্তাহে ইউরোপে ৩ লাখের বেশি মানুষ পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। দুই সপ্তাহ ধরেই করোনা সংক্রমণের হার আবারও বাড়ছে।’

ইউরোপের মতো বিশ্বের অন্য অঞ্চলেও ক্রমেই বেড়েই চলেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৩ কোটি ৯ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, লকডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়ার সুবিধা নিয়ে ফ্রান্সের তরুণরা অবাধ সামাজিক চলাফেরা করায় প্যারিস, বোর্ডক্স এবং ভূ-মধ্যসাগরীয় উপকূলীয় মার্সেলের মতো বড় বড় শহরগুলোর হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফরাসি হাসপাতালগুলো বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এমনকি নতুন করে আইসিইউ সংকটাবস্থায় পড়তে চলেছে বলেও বলা হচ্ছে।

পুরো ফ্রান্সজুড়েই হাসপাতালের কর্মীরা বর্তমানে প্রথম ধাপের চেয়ে বেশি করোনা রোগীর মুখোমুখি হচ্ছেন। করোনা রোগীদের উপসর্গ কমিয়ে আনতে বোর্ডক্স ইউনিভার্সিটি হসপিটাল কর্তৃপক্ষ স্টেরয়েড ওষুধ মজুত এবং ভেন্টিলেটর সেবা উন্নত করছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...