The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৭০ শতাংশ মানুষ মাস্ক পরলে প্রতিরোধ করা যাবে করোনা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা ভাইরাস। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ অনেক জায়গায় মহামারিটির তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের দেশে দ্বিতীয় ঢেউ বইছে।

৭০ শতাংশ মানুষ মাস্ক পরলে প্রতিরোধ করা যাবে করোনা 1

ইতিমধ্যেই টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। তবে টিকা ছাড়াও শুধু মাস্ক ব্যবহারে করোনাকে ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষ নিয়ম মেনে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করলে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। ফিজিকস অব ফ্লুইডস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে বিষয়টি উঠে আসে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া এক তথ্যে জানিয়েছে।

গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সঞ্জয় কুমার বলেছেন, ‘করোনা রুখতে সার্জিক্যাল মাস্ক হলো আদর্শ। এই মাস্ক ৭০ শতাংশ কার্যকর। তাই ৭০ শতাংশ মানুষ যদি বাইরে বের হয়েই যদি লাগাতার মাস্ক পরে থাকেন, তাহলেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সফল হওয়া যাবে।’

গবেষকদের ভাষ্য হলো, কোনও ব্যক্তি কথা বললে, গান গাইলে, হাঁচি দিলে বা কাশলে কিংবা শুধু নিশ্বাস নিলেও সূক্ষাতিসূক্ষ ড্রপলেট মুখ থেকে নির্গত হয়ে থাকে। যা বেশির ভাগ সময়ই চোখে দেখাই যায় না। এর মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই ড্রপলেট আটকাতেই সক্ষম এই সার্জিক্যাল মাস্ক।

৫ হতে ১০ মাইক্রোন ড্রপলেটকে বড় ও তার চেয়ে কম মাইক্রোনের ড্রপলেটকে ছোট হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে বিজ্ঞান বলছে যে, ছোট ড্রপলেটই আসলে বেশি ভয়ংকর। তাহলে কাপড়, সিল্ক বা এন নাইনটি ফাইভ মাস্ক পরলেও কি একইভাবে এই ড্রপলেট রোখা সম্ভব হবে?

গবেষকদের উত্তর হলো, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী হলো সার্জিক্যাল মাস্কই। স্বাস্থ্যকর্মী বা জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মতো যদি বেশ কয়েক ঘণ্টা টানা এই মাস্ক পরে থাকা যায়, তাহলে তার ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও হাইব্রিড পলিমার দিয়ে তৈরি মাস্কও বেশ কার্যকর বলে জানিয়েছে এই গবেষণা।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...