The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বডি বিল্ডার থেকে নায়ক ওয়াসিম হয়ে উঠলেন যেভাবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নায়ক ওয়াসিম সব সময় অত্যন্ত সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। যে কারণে তিনি জনপ্রিয়তাও পান খুব অল্প সময়ে। কলেজে পড়ার সময়ই তিনি নাম করেছিলেন বডি বিল্ডার হিসেবে। এরপর কীভাবে তিনি হয়ে উঠলেন নায়ক ওয়াসিম?

বডি বিল্ডার থেকে নায়ক ওয়াসিম হয়ে উঠলেন যেভাবে 1

বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের নায়ক ছিলেন ওয়াসিম। আজ আজ আর নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন নায়ক ওয়াসিম। ১৯৪৭ সালের ২৩ মার্চ তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

সত্তর-আশির দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল ওয়াসিমের। তার আসল নাম মেজবাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি পড়াশোনা করেছেন ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে। স্কুলে তিনি তুখোড় খেলোয়াড়ও ছিলেন। তারপর আনন্দমোহন কলেজে পড়েন তিনি। কলেজে পড়া অবস্থায় নাম করেন বডি বিল্ডার হিসেবে। ১৯৬৪ সালে তিনি বডি বিল্ডিংয়ের জন্য ‘মিস্টার ইস্ট পাকিস্তান’ খেতাবও অর্জন করেন। চারদিকে তখন তার সুনামও ছড়িয়ে পড়ে।

তারপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। ওয়াসিম স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ছিলেন বেশ জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব।

ছাত্রজীবনে নিয়মিত হলিউডের ছবি দেখতেন মেজবাহ (ওয়াসিম)। তবে তিনি কখনও ভাবেননি অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার কথা। পেশা হিসেবে তিনি সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশ প্রশাসনকে বেছে নিতে চেয়েছিলেন।

এফডিসিতে একদিন ‘ওরা ১১ জন’ ছবির শুটিং দেখতে আসেন মেজবাহ। কারণ হলো নায়ক খসরু ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নায়ক সোহেল রানার সঙ্গেও আগে থেকেই পরিচয় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় হতে। সেদিনই অনেক পরিচালকের নজর কাড়েন সুদর্শন মেজবাহ। তবে তখনও তিনি অভিনয়ের কথা একবারও ভাবেননি।

১৯৭২ সালের কথা। ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’ সিনেমার শুটিং সেটে পারিবারিক বন্ধু প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এস এম শফী হঠাৎ করেই মেজবাহকে একটি ছোট দৃশ্যে অভিনয় করতে বলেন। নায়ক রাজ্জাককে ইংরেজিতে একটি সংলাপ বলতে হবে তাকে। সেই দৃশ্য এক কাটেই সেদিন করে ফেলেন মেজবাহ। এতে উপস্থিত সবাই প্রশংসাও করেছিলেন তার।

তারপর হতে প্রায়ই এফডিসিতে আসতেন তিনি। এস এম শফী কীভাবে ছবি নির্মাণ করেন তা স্বচোক্ষে দেখতে। এরপর নজরে পড়েন পরিচালক মহসিনের চোখে। ‘রাতের পর দিন’ ছবির নায়ক হওয়ার প্রস্তাব পেয়ে গেলেন মেজবাহ। তবে তার মনে সংশয় ছিল। কারণ সেই সময় সেনাবাহিনী থেকেও ডাক পড়েছিল তার। পরিবারকে না জানিয়ে হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন সিনেমায় অভিনয়ের। তারপর শুটিং শুরু হলো। পরিচালক মেজবাহর নাম পালটে তখন নাম রাখেন ওয়াসিম। সেই থেকে মেজবাহ হয়ে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের সুপার হিট এক নায়ক ওয়াসিম।

১৯৭৩ সালে মহা সমারোহে মুক্তি পেলো ‘রাতের পর দিন’। এরপর আর তাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ওয়াসিম অভিনীত এবং এস এম শফী পরিচালিত ‘দি রেইন’ পৃথিবীর ৪৬টি দেশে মুক্তি পায়। ছবিটি বাম্পার হিট হয়েছিলো।

১৯৭৩ সাল হতে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকার চলচ্চিত্রে ওয়াসিম ছিলেন শীর্ষ নায়কদের মধ্যে একজন। দেড় শতাধিক সুপার হিট ছবির নায়ক এই কিংবদন্তি অভিনেতা। হাতেগোনা অল্প কয়েকটি ছবি ছাড়া প্রতিটি ছবিই সুপারহিট হয়েছিল তার।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...