The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

তসলিমার বিস্ময় প্রকাশ: একা থেকেও করোনা আক্রান্ত হলাম!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশ হতে নির্বাসিত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন, তসলিমা নাসরিন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি একাকি ঘরের মধ্যে থেকেও শেষ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হলেন। এ জন্য তিনি নিজের ভাগ্যকেই দোষারোপ করেন।

তসলিমার বিস্ময় প্রকাশ: একা থেকেও করোনা আক্রান্ত হলাম! 1

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ব্যাপক সমালোচিত ভারতে বসবাসকারী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কোভিড পজিটিভ হয়ে বিস্মিত হয়েছেন লেখিকা। গতকাল রবিবার (৯ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেই বিষয়টি জানিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টটিতে তিনি লেখেন-

‘আমি চিরকালই বড় দুর্ভাগা। এই যে গত বছরের মার্চ মাস হতে একা আছি ঘরে, একখানা ইন্ডোর ক্যাট সঙ্গী, কোথাও এক পা বেরোলামও না, কাওকে ঘরে ঢুকতেও দিলাম না, রান্না-বান্না বাসন মাজা কাপড় কাচা ঝাড়ু- মোছা সব একা একাই করলাম, কী লাভ হলো? কিছুই না, ঠিকই কোভিড হলো।

গত এক বছরে শুধুমাত্র একবার এক ঘণ্টার জন্য বাইরে বেরিয়েছিলাম, তাও দু’মাস আগে, টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার জন্য। ওই ডোজটি কিছু অ্যান্টিবডি তৈরি করেছিল বলেই হয়তো এই যাত্রায় বেঁচে গেছি।

আমি চিরকাল বড়ই দুর্ভাগা। এক এক করে যদি লিখি কী কী ঘটেছে আমার জীবনে যা ঘটার কথা ছিল না, তাহলে তালিকা এতো দীর্ঘ হবে যে, তা পড়ে কেও কূল পাবে না। আপাতত কোভিড হওয়ার দুঃখটাই থাক।

আবার দুঃখ থাকাও হয়তো ঠিক নয়। কারণ ধীরে ধীরে আমি সুস্থ হয়েও উঠছি। তবে হাজারও মানুষ যারা সুস্থ হতে পারেনি! যারা শ্বাস নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে তবে পারেনি শ্বাস নিতে! দুঃখগুলো বরং তাদের জন্যই থাক। এখন এইটুকু অন্তত ভালো লাগছে যে, এটি আর স্টিগমা নয় আগের মতো। কারও কোভিড হলে সে লুকিয়ে রাখতো খবর, কারণ কোভিড হওয়াটা অনেকটা ছিল এইডস হওয়ার মতোই। সমাজ ব্রাত্য করে দিতো। এক বছরে এতো মানুষকে ধরেছে এই কোভিড, এতে ভালো যে, স্টিগমাটা গেছে। কেও আর বলতে দ্বিধা করে না যে, তার কোভিড হয়েছে।’

ঠিক এভাবেই তার বিস্ময় প্রকাশ করেন বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...