The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চরমতম দুর্ভোগ ও শংকার ঈদযাত্রা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ঈদের বাড়ি যাওয়ার ভিড় যেনো কমছে না। স্রোতের মতো এগিয়ে যাচ্ছে মানুষের ঢল। শিমুলিয়া ও আরিচা অভিমুখী মানুষের ভীড় যেনো কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। কেনো চরমতম দুর্ভোগ ও শংকার মধ্যে এই ঈদযাত্রা?

চরমতম দুর্ভোগ ও শংকার ঈদযাত্রা 1

বাবা-মা ও নিকট আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির এই রেওয়াজ বহু বছরের পুরোনো। হাজার বছর ধরে বাঙালিরা এইভাবেই ঈদের সময় অনেক কষ্ট করে বাড়ি ফেরেন। তবে এবারের ঈদযাত্রা তাদের কাছে যেনো এক কঠিনতম ভ্রমণ হয়ে উঠেছে। করোনার কারণে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় এই দুর্ভোগ এক চরম আকার ধারণ করেছে। মানুষের ওই দুর্দশা দেখে যেনো থমকে যেতে হয়। যে কারণে বিজিবি দিয়েও ঠেকানো যায়নি এই জনস্রোত। কয়জনকে ঠেকাবেন বিজিবি সদস্যরা? হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষগুলোর দিকে যেনো তাকানো যাচ্ছে না। ক্লান্ত পরিশ্রান্ত অবস্থা দেখে যে কেও হার মানতে বাধ্য। কে বাধা দেবে ওদের? কখনও সম্ভব নয়। আর তাইতো শেষ পর্যন্ত সরকারও বাধ্য হয়ে আগের ঘোষিত দিনের বেলার বন্ধ করা ফেরি আবারও ছেড়ে দিয়েছে।

আসলে বাঙালিদের এই ঈদ শুধু কী ঈদ? এর সঙ্গে অনেক কিছুই জড়িত। হয়তো কোনো এক পরিবারের ছোট ভাই-বোন অপেক্ষায় থাকেন কখন তার ভাই ঢাকা থেকে ফিরবেন, তারজন্য ঈদের জামা নিয়ে আসবেন। কোনো এক বাবা-মা অপেক্ষায় আছেন কখন তার ছেলেটা ঢাকা থেকে আসবেন, ঈদের বাজার করবেন। কোনো স্ত্রী অপেক্ষায় আছেন কথন তার স্বামী ফিরবেন। আবার সন্তান অপেক্ষায় আছেন কখন তার বাবা ফিরবেন নতুন জামা নিয়ে। এমন আরও কতো রকম অনুভূতি রয়েছে এই ঈদযাত্রায়। আমরা জানি এই ঈদযাত্রায় করোনা পরিস্থিতি হয়তো আরও খারাপ হতে পারে, কিন্তু মানুষের অনুভূতি ও প্রয়োজনের কাছে সেই ভয় একেবারেই তুচ্ছ হয়ে গেছে। লাখ লাখ মানুষের সেই সব অনুভূতি ও প্রয়োজনের দিকে যদি সত্যিকার অর্থে তাকানো যায় তাহলে হয়তো দু’একটা বাদে সবারই জরুরি প্রয়োজনে এই যাত্রা হচ্ছে এমনটি পাওয়া যাবে।

তাহলে এই চরমতম দুর্ভোগ ও শংকা কেনো? এটি ঠিক ঈদের সময় ঈদযাত্রায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু এবারের ঈদযাত্রার দুর্ভোগ ছিলো সীমাহীন দুর্ভোগ। অতিরিক্ত টাকার বিষয়টি নাহয় বাদ দিলাম। কিন্তু যে দুর্ভোগে মানুষকে পড়তে হলো তার দায় কার? করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারি সিদ্ধান্ত ঠিক ছিলো। তবে যেহেতু সবকিছুই খোলা ছিলো তাই দূরপাল্লার বাসগুলো খুলে দিলেই হয়তো স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি আরও ভালো হতো। বাস স্ট্যান্ডগুলোতে সরকারি নজরদারি কড়াকড়ি করে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি নিশ্চিত করা যেতো। তাহলে হয়তো এতোটা দুর্ভোগ এবং শংকা আজ হতো না। তাছাড়া গাদাগাদি করে ফেরিতে ওঠায় করোনা ছড়ানোর আশংকাও আরও অনেক গুণ বেড়ে গেছে। যার জন্য হয়তো আমাদের মাশুল দিতে হতে পারে।

তাই কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে বহুবার ভেবে তবেই সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা উচিত। তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কারণ ছোট্ট একটি ভুল মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের জাতিকে বড় কোনো দুর্যোগ হতে রক্ষা করুন- আমিন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...