আপিলের রায়: কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

kadar molla

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

এদিকে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গতকাল সন্ধ্যায় মিছিল করে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। গত ২৭ জুলাই রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শেষে কাদের মোল্লার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (কোর্ট অ্যাওয়েটিং ভারডিক্ট) সিএভি রেখেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। শুনানি শেষ হওয়ার এক মাস ২৪ দিন পর আজ রায় ঘোষণা হলো। এ ছাড়া জামায়াতের অপর দুই নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের শুনানি অপেক্ষায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধের মামলায় ২০১০ সালের ১৩ জুলাই গ্রেফতার হন কাদের মোল্লা। এরপর বিচারের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা-নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘মিরপুরের কসাই’ নামে পরিচিত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন সাজা দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে বলা হয়, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। একটি অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণের পর সর্বোচ্চ শাস্তি না দেওয়ায় সব শ্রেণী-পেশার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, সুশীল সমাজ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তি। রায়ে আরও অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষ, শহীদ পরিবার, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা ও মামলার বাদী। তারা বলেন, সরকার এতদিন বলেছিল, তারা যুদ্ধাপরাধের বিচার করে জাতিকে দায়মুক্ত করবে। কিন্তু কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন তাতে দায়মুক্তি হয়নি, বরং দায়যুক্ত হলো বলে মন্তব্য করা হয়।

আদালতে কঠোর নিরাপত্তা

জামায়াত নেতা কাদের মোলস্নার আপিলের রায় ঘোষণা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সর্বোচ্চ আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও তার আশপাশের এলাকায় অসংখ্য পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। যে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আদালত এলাকায় অবস্থান নেন বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রায়ের পরবর্তী পরিস্থিতি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...