দৈনন্দিন জীবনের কিছু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সমূহ

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল থাকা প্রতিটি মানুষের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। যদি আপনি নিজে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে চলতে পারেন, তবে খুব সহজেই স্বচ্ছলতা অর্জন করতে পারবেন। অনেকে অবশ্য বছরের প্রথম দিনের জন্য অপেক্ষা করে, ভাবে প্রথম দিন থেকে পরিকল্পনা করে চলবো। তবে আশার কথা হচ্ছে, আপনি যখনই পরিকল্পনা করবেন সেটিই আপনার জন্য বছরের প্রথম দিন। তাই এখানে দৈনন্দিন জীবনে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল থাকার জন্য কিছু পরিকল্পনার ধারণা দেয়া হলো।


savings plan

সেই কাজটিই করুন যার জন্য আপনি মূল্যবান এবং উপার্জনের চেয়ে ব্যয় কমানঃ

এটা খুবই সহজ কাজ বলে মনে হয় কিন্তু বেশীরভাগ মানুষই এই প্রথম শর্তটি পালন করতে গিয়ে রীতিমত সংগ্রামে লিপ্ত হয়! আপনি নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন, বাজারে আপনার যোগ্যতার মূল্যায়ন কতখানি সেটা সম্পর্কে ধারণা করুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ খুঁজুন, উপার্জন করুন। ধীরে ধীরে আপনার যোগ্যতার উন্নতি করুন যাতে আরও বেশী অর্থের কাজ করতে পারেন। এবং সবসময়ই খরচের দিকে খেয়াল রাখবেন। আপনি কতো বেশী উপার্জন করছেন অথবা কত কম উপার্জন করছেন সেটি লক্ষ্যণীয় নয়, লক্ষ্যণীয় হচ্ছে এটাই যে আপনি কখনোই আপনার উপার্জন ক্ষমতার চেয়ে বেশী ব্যয় করবেন না। যদি সেদিকে লক্ষ্য না রাখেন তবে আপনাকে প্রায়ই অভাবে পড়তে হবে যা আপনার কাজের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে।

বাজেট পরিকল্পনায় অটুট থাকুনঃ

বাজেট নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে থাকেন, কিন্তু মনে রাখতে হবে বাজেট কথাটি শুধুই তিন অক্ষরের কোন শব্দ নয়। আপনি কীভাবে জানবেন আপনার অর্থ কোথায় খরচ হচ্ছে যদি আপনার কোনো বাজেটই না থাকে? আপনি কীভাবে আপনার খরচ কমানো এবং বাঁচানোর পরিকল্পনা করবেন যদি আপনি বাজেটই না করে থাকেন? আপনার অবশ্যই একটি বাজেট প্রয়োজন সেটা আপনি যতো কম কিংবা যতো বেশী উপার্জন করুন না কেনো!

ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভরতা কমানঃ

স্বচ্ছলতা অর্জনের পথে ক্রেডিট কার্ডের খরচ আপনার অন্যতম বাধা। এই ছোটো প্লাস্টিকটির ব্যবহার খুবই সোজা এবং আরও সোজা যে এটা থেকে আমরা সত্যিকারের অর্থই খরচ করছি এটা ভুলে যাওয়া। উচিত হবে ছোটোখাটো কিংবা মাঝারি কোনো জিনিস কিনতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর ভরসা না করে নগদ অর্থ খরচ করা, তাহলে আপনার কাছে কি পরিমাণ অর্থ আছে এবং আর কি পরিমাণ খরচ করতে পারবেন, সেটা সম্পর্কে একটা ধারণা থাকবে আপনার।

অবসর জীবনের পরিকল্পনা শুরু করে দিনঃ

আপনি যদি চাকুরীজীবি হন তাহলে এখন থেকেই অবসর জীবনে কীভাবে চলবেন সেটা ভেবে রাখা উচিত এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করে পরিকল্পনা করতে হবে। এটা আপনার জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্যই প্রয়োজন। কারণ আপনি কিংবা আমি কেউই ভবিষ্যতবক্তা নই, তাই আমাদের এখন থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরী। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছেন অবসরকালীন কোন পরিকল্পনা সেই প্রতিষ্ঠানের আছে কীনা সেটাও জানা প্রয়োজন।

সঞ্চয় পরিকল্পনা রাখুনঃ

আপনি এটি আগেই শুনেছেন, “নিজের জন্য ব্যয় করুন!” যখন আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সকল কিছু খরচ করে দেখলেন আরও কিছু অর্থ বাকী আছে, সেটি জমিয়ে রাখুন! কোনো ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুলে সেখানে প্রতি মাসেই কিছু না কিছু জমানোর অভ্যাস করুন, এটা আপনার বিপদে আপদে কাজে লাগবে। আর কে না জানে, ব্যাংকে অর্থ জমা করলে ব্যাংক আপনাকে ৫% থেকে ১০% লাভ দিবেই, সুতরাং কেনো আপনি সঞ্চয় পরিকল্পনা করবেন না!

বিনিয়োগ করুনঃ

যদি আপনি ইতোমধ্যেই অবসর জীবনের পরিকল্পনা নিয়ে থাকেন এবং কোনো ব্যাংকে সঞ্চয় চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে নির্দিষ্ট সময় পর আপনার সঞ্চিত অর্থ কোন স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করুন। তবে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই যাচাই বাছাই করবেন সেটা যেনো বিফলে না যায়, এক্ষেত্রে আপনাকে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে।

ইন্স্যুরেন্স পরিকল্পনা যাচাই করুনঃ

অনেকেই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলোর নানা অবহেলার কথা বলে থাকেন। তাই এক্ষেত্রেও আপনাকে সচেতন হতে হবে, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী যেনো আপনাকে খুব বেশী অর্থনৈতিক চাপে না ফেলে এ ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ করে আপনি যখন গাড়ি কিংবা বাড়ি কিংবা আপনার জীবনেরই ইন্স্যুরেন্স করবেন অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে আপনি পুরো সুবিধা পাচ্ছেন কীনা। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলোর লোভনীয় অফার দেখে নিজেকে সংযত রাখবেন, আপনি সর্বোচ্চ লাভবান হচ্ছেন কীনা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে তবেই ইন্স্যুরেন্স খুলবেন।

আপনার উত্তরাধিকার নির্বাচিত করুনঃ

বেশিরভাগ মানুষই এই কাজটি করেন অনেক দেরীতে, বিশেষ করে মৃত্যুর ঠিক পূর্ব মুহুর্তে তারা এ কাজটি করেন। অথচ কি হবে যদি আপনি আগেই কোনো দূর্ঘটনায় পড়ে যান? তখন আপনার উপর যারা নির্ভরশীল, বিশেষ করে আপনার পরিবার যে প্রতারিত হবে না এই নিশ্চয়তা আপনি দিতে পারবেন না। তাই সময় থাকতে আপনার কাছের মানুষটিকে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করে যান, এতে আপনার পরবর্তী প্রজন্ম আপনাকে মনে রাখবে!

সততা বজায় রাখুনঃ

যদি আপনি সততা বজায় না রাখেন, তাহলে হয়তো আমলাতান্ত্রিক ঝামেলায় পড়তে হতে পারে আপনাকে কিংবা আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে। কাজেই অর্থের ক্ষেত্রে সৎ পন্থা অবলম্বন করুন, নিয়মিত সরকারী ট্যাক্স দিন, সুখী জীবন উপভোগ করুন!

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...