দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ তরুণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে শেষ হলো গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আয়োজিত কার্নিভাল ‘গ্লেনফেস্ট’।

ভবিষ্যতেও এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার বিকাশে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্যদিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। রাজধানীর সাতারকুলে অবস্থিত স্কুল ক্যাম্পাসে ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১০টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে গ্লেনফেস্ট। দিনটি ছিল চমৎকার এবং রোমাঞ্চকর সব কার্যক্রমে ভরপুর। অনবদ্য এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে শত শত শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম উপভোগও করেন। উপস্থিত সকলের জন্য এই আয়োজনটি ছিল স্মরণীয় একটি আয়োজন।

অংশগ্রহণকারীরা ফেরিস হুইল, জঙ্গল জাম্পার, বাস্কেটবল শুটার ও ডল ক্যাচারের মতো রাইডগুলো উপভোগ করেন। নাচ এবং গানের প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতোই। এছাড়াও, পুতুলনাচ (পাপেট শো), শাওন গানওয়ালার লাইভ পারফরম্যান্স, আর্কেড গেমস ও বিনোদনমূলক মাসকট নাচ দর্শকদের বিমোহিত করে রাখেন। উপচে পড়া ভিড় ছিল স্থানীয় চারু এবং কারুশিল্প (আর্ট ও ক্র্যাফট ), বই, কনফেকশনারি, জামাকাপড় এবং মজাদার খাবারের স্টলগুলোতে। সকলের উদযাপনে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করে এইসব স্টলগুলো। সমবয়সীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ও যোগাযোগ স্থাপন করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তরুণ শিক্ষার্থীরাও। বিভিন্ন প্রান্ত হতে আসা দর্শনার্থী এবং শিক্ষার্থীদের পদভারে মুখর হয়ে উঠে এই আয়োজন।
গ্লেনফেস্টের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ছিলো লংকাবাংলা ফাইন্যান্স। এছাড়াও, সিলভার স্পন্সর হিসেবে অবদান রাখে অপটিমাল টেকনোলোজি লিমিটেড, প্রগতি ইনস্যুরেন্স লিমিটেড, স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড এবং এয়ারকন।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org