দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সঙ্গীর সঙ্গে কোনো কারণে মনোমালিন্য হলে রাগ, দুঃখ, অভিমান জমে মনে। তবে সেইসব মনোমালিন্য কাটিয়ে কীভাবে আবারও কাছাকাছি আসবেন?

প্রেম হোক কিংবা দাম্পত্য, সম্পর্কে মান-অভিমানই হোক, মানুষের মধ্যে মনা কষাকষি থাকেই। ভালোবাসেন মানেই যে মতের অমিল, মতানৈক্য থাকবে না, তা কিন্তু নয়। তবে ভুল বোঝাবুঝি বা অভিমান বেশিদিন জিইয়ে না রাখাই ভালো। তাতে লাভ বিশেষ কিছুই হয় না। উল্টো দূরত্ব আরও বাড়ে। তার চেয়ে বরং অভিমান মিটিয়ে নেওয়াই ভালো। সঙ্গীর সঙ্গে মনোমালিন্য হলে রাগ, দুঃখ, অভিমান জমে মনে- সেটিই স্বাভাবিক। তবে সেইসব কাটিয়ে কীভাবে আবারও কাছাকাছি আসবেন?
একজন নীরবতা ভাঙুন
সাধারণ ঝগড়া হলে কথাবলা বন্ধ হয়ে যায়। তবে বেশিদিন চুপ করে থাকার কোনও মানেই নেই। তাতে জটিলতা আরও বাড়ে। কেও একজন এগিয়ে এসে যদি নীরবতা ভাঙেন, তাহলে সঙ্গী কিছুতেই মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারবেন না সেটি বলা যায়।
দোষ থাকলে স্বীকার করুন
আপনার কোনও রকম কথায়, কাজে বা আচরণ নিয়ে সঙ্গীর খারাপ লাগলে নিজে গিয়ে সরি বলুন। অযথা ইগো দেখিয়ে জটিলতা জিইয়ে রাখার কোনও মানেই হয় না। যদি সত্যিই দোষ থেকেই, তাহলে তা অকপটে স্বীকার করে নিলে মনের ভারও কমে যাবে। দু’জনের সম্পর্কের অশান্তিও তখন মিটে যাবে।
খোলাখুলিভাবে কথা বলুন
দোষ যারই থাক না কেনো, কোনও বিষয় নিয়ে সমস্যা তৈরি হলে অতি নিজেদের মধ্যে খোলাখুলি কথা বলা জরুরি। তাতে অনেকটা সমস্যা কমে আসবে। মনের মধ্যে জমে থাকা নানা ধারণার অবসানও ঘটতে পারে। একসঙ্গে বসে কথা বললে যা যা জটিলতা ছিলো, সব ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে সেটি বলায় যায়। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org