দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পারিবারিক জীবন মানুষকে মানসিক শান্তি, ভালোবাসা এবং নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু যখন পরিবারের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ দেখা দেয়, তখন সেই শান্ত পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়।

ছোটখাটো বিষয় নিয়েও অনেক সময় বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। তাই পারিবারিক শান্তি এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কিছু বিষয় মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমেই প্রয়োজন পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সহনশীলতা। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু মতভেদকে কখনও বিবাদে রূপ দেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি মানুষ ভিন্ন চিন্তাভাবনা ও অভ্যাসে বেড়ে ওঠে- তাই একে অপরের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। শ্রদ্ধা এবং সহমর্মিতা থাকলে ভুল বোঝাবুঝি সহজেই দূর করা যায়।
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা শেখা জরুরি। কোনো বিষয়ে মতানৈক্য হলে চিৎকার বা রাগের পরিবর্তে শান্তভাবে কথা বলা উচিত। সমস্যা এড়িয়ে না গিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলে সমাধান পাওয়া যায় এবং সম্পর্কের আস্থা অটুট থাকে। পরিবারের সবাইকে মতামত জানানোর সুযোগ দিতে হবে- বিশেষ করে নারী এবং শিশুদের।
পারিবারিক ঝগড়ার বড় একটি কারণ হলো অর্থনৈতিক টানাপোড়েন। তাই পরিবারের বাজেট পরিকল্পনা করে চলা দরকার। আয় অনুযায়ী খরচ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়িয়ে চললে অর্থ নিয়ে বিবাদ কমে যায়। পরিবারের সবাই মিলে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ে।
এ ছাড়াও, অহংকার এবং আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় নিজের মতকেই সঠিক মনে করে অন্যের ভুল ধরতে গিয়ে বিরোধ বাড়ে। বরং ক্ষমা করার মানসিকতা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, সম্পর্ক জেতার চেয়ে মানুষ জেতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সময় দেওয়া এবং যত্ন নেওয়া পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সদস্যদের সময় না দিলে দূরত্ব বাড়ে। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় একসঙ্গে বসে গল্প করা, খাওয়া বা হাঁটতে যাওয়া পারিবারিক সম্পর্ককে উষ্ণ রাখে।
রাগ নিয়ন্ত্রণ করাও খুব জরুরি। রাগের সময় বলা কথা বা করা কাজ অনেক সময় অপূরণীয় ক্ষতি করে। তাই রাগ হলে কিছুক্ষণ চুপ থাকা, গভীর শ্বাস নেওয়া বা স্থান পরিবর্তন করা উপকারী হতে পারে।
ধর্মীয় এবং নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী থাকা পরিবারের শান্তি বজায় রাখে। পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান, ক্ষমা এবং সহানুভূতির চর্চা করলে ঝগড়া-বিবাদ কখনও দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
পারিবারিক জীবনের সুখ নির্ভর করে সদস্যদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ভালোবাসার ওপর। সম্পর্কের ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি যদি ধৈর্য ও সহমর্মিতার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা যায়, তবে পরিবার হবে সত্যিকারের শান্তির আশ্রয়। তাই ঝগড়া নয়- ভালোবাসা, সম্মান এবং বোঝাপড়াই পারিবারিক সুখের মূল চাবিকাঠি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org