The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

নখে যে দাগ দেখা দিলেই বুঝবেন শরীরে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি হচ্ছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো জানেনই না যে, নখের চেহারা দেখে শরীরের হাল জানা সম্ভব। শরীরের পুষ্টির ঘাটতি, সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী রোগ ইত্যাদি নানা অভ্যন্তরীণ অসুস্থতার লক্ষণও ফুটে ওঠে নখের মধ্যেই।

নখে যে দাগ দেখা দিলেই বুঝবেন শরীরে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি হচ্ছে 1

নখের রং, গঠন কিংবা আকৃতির পরিবর্তন লক্ষ্য করে শরীরের হালহকিকতের একটা ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। যেমন- ভিটামিন এ এবং বি-এর অভাবে নখের উপর আড়াআড়ি এবং লম্বালম্বি দাগ দেখা দেয়। ভিটামিন বি ১২-এর অভাবে নখ দুর্বল, কালো, এবড়ো-খেবড়ো ও কুঁকড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দেয়।

বিভিন্ন ধরনের মাল্টি ভিটামিন এবং বায়োটিন মজবুত নখ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। নখের গঠনে প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন না থাকলে, শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে অ্যানিমিয়াও দেখা দেয় ও নখের স্বাভাবিক গোলাপি ভাব কমে যায় এবং নখ পাতলা হয়ে যায়। ফ্যাটি অ্যাসিড (লিনোলেনিক অ্যাসিড) নখ ফেটে যাওয়াও প্রতিরোধ করে। আয়রণের ঘাটতি দেখা দিলে নখ পাতলা এবং ভঙ্গুর হয়, তখন নখ অসমান হয়ে যায়।

আপনার নিজের বা ঘনিষ্ঠ কারও নখে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

ভঙ্গুর নখ

নখ ফেটে যাওয়া কিংবা ভেঙে যাওয়ার অর্থ আয়রণের ঘাটতি। শরীরে পানি অভাব কিংবা থাইরয়েডের সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে। তবে সঠিক কী কারণে নখে এই লক্ষণগুলো হচ্ছে, সেজন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষা করানো জরুরি। বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ডিম, বাদাম, শাক ও পাতাযুক্ত সবজি ইত্যাদি এই সমস্যার সমাধানও করতে পারে।

হলুদ নখ

সাধারণত হলুদ নখ ছত্রাকের সংক্রমণ, ধূমপানজনিত অসুখ, ডায়াবেটিস বা ফুসফুসের রোগের মতো অভ্যন্তরীণ রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। সাধারণত সঠিক স্বাস্থ্যবিধি, অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা ও ভিটামিন-ই নখের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারেও সাহায্য করে।

সাদা দাগ

নখের মধ্যে অনেকের ছোট সাদা দাগও দেখা দেয়। কেও কেও এটিকে সৌভাগ্য ও শিল্পীসত্ত্বার প্রতীকও বলে থাকেন। তবে এই সবই হলো কুসংস্কার। নখে সাদা দাগের প্রকৃত কারণ হলো শরীরে জিঙ্ক কিংবা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হওয়া। এইক্ষেত্রে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য নখকে দৃঢ় করতে সাহায্য করে।

ফ্যাকাশে টাইবের নখ

অত্যন্ত ফ্যাকাশে কিংবা সাদা নখ রক্তাল্পতা, লিভারের রোগ কিংবা অপুষ্টির লক্ষণও হতে পারে। শাক, পাতাযুক্ত সবজি, ডাল ও চর্বিহীন মাংস খেলে শরীরে আয়রণের ঘাটতিও পূরণ।

নীল নখ

নখের নীল রঙের অর্থই হলো শরীরে অপর্যাপ্ত অক্সিজেন প্রবাহের ইঙ্গিত। এগুলো সম্ভবত ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগ বা রেনড’স রোগের লক্ষণও হতে পারে। এই লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।

কালো রেখা

নখের নীচে বাদামি কিংবা কালো রেখা হলো মেলানোমার লক্ষণ। একটি গুরুতর ত্বকের ক্যান্সারের ইঙ্গিতও হতে পারে। নখের যে কোনও অস্বাভাবিক রংই হলো অশুভ ইঙ্গিত। যে কারণে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। তথ্যসূত্র: এই সময়।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali