দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গাজায় শীত আসার পূর্বেই মানবিক বিপর্যয় আরও যেনো ঘনিয়ে আসছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে যে, ইসরায়েলের বাধার কারণে আশ্রয় এবং ত্রাণসামগ্রী এখন জর্ডান ও মিসরের গুদামে আটকে রয়েছে, এগুলো গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না।

২৫ অক্টোবর এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, শীত ঘনিয়ে আসায় গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় এবং উষ্ণতার তীব্র প্রয়োজন। তবে শরণার্থীদের জন্য পাঠানো সামগ্রী ‘জর্ডান এবং মিসরের ইউএনআরডব্লিউএ গুদামে আটকে রয়েছে, ইসরায়েল এইসব ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে’।
বিবৃতিতে ইউএনআরডব্লিউএ দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানায়।
ইতিপূর্বে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ‘কান’ এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতিও দিতে চায় না।
গত বুধবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) বলেছিল যে, গাজার ফিলিস্তিনিরা পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পাচ্ছে না। তাই ইসরায়েলকে অবিলম্বে সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে ও খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধও করতে হবে।
এই রায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের অনুরোধের ভিত্তিতে আদালতের দেওয়া একটি আইনি পরামর্শমূলক মতামত, যা মূলত বাধ্যতামূলক নয়। এতে গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দায়িত্ব এবং বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করা হয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে হামাসের সঙ্গে করা নতুন যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় পণ্য প্রবেশে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ। এর প্রথম ধাপে ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনাটি গাজা পুনর্গঠন এবং হামাসবিহীন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের দিকেই বেশি জোর দেয়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org